ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় নতুন তথ্য দিলেন সাবেক ডিজিএফআই প্রধান
আরিফুল ইসলাম
বুধবার বিকেল ০৪:৫২, ১ এপ্রিল, ২০২৬
বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি জানিয়েছেন, টিপাইমুখ বাঁধ এবং ভারত-বাংলাদেশের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির বিরোধিতা করে আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়ায় ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি দাবি করেন, তৎকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় পুরো ঘটনাটি পরিচালিত হয় এবং এতে র্যাব সদস্যরা অংশ নেয়। ঘটনার আগে ও পরে সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িচালকসহ নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী। সে সময় শেখ মামুন খালেদ ডিজিএফআই প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।
বর্তমানে তিনি একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে রিমান্ডে রয়েছেন এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অতীতের বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয় নিয়েও তথ্য দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
প্রথমদিকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও পরবর্তীতে তিনি স্বীকার করেন, গুমের ঘটনায় ডিজিএফআইয়ের দুজন মেজর প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিলেন এবং আরও কয়েকজন কর্মকর্তা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, তৎকালীন ডিজিএফআই প্রধানের নির্দেশনায়ই পুরো অভিযান পরিচালিত হয় এবং এতে ডিজিএফআই ও র্যাবের একটি বিশেষ দল অংশ নেয়।
এছাড়া, খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাসা থেকে উচ্ছেদসহ আরও কিছু সংবেদনশীল বিষয়েও তিনি তদন্তকারীদের কাছে তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রথম দফায় ৫ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে আরও ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে, এক-এগারো সরকারের সময়কার বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগে ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. আফজাল নাছেরকেও গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাকেও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেফতার সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।


