ঢাকা (দুপুর ২:২৩) মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শুভেচ্ছা বার্তা :
মেঘনা নিউজ-এর এক যুগে পদার্পণ উপলক্ষ্যে সকল পাঠক-দর্শক, প্রতিনিধি, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহযোগী, কলাকৌশলীসহ দেশ ও প্রবাসের সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
শিরোনাম

দেশীয় কোম্পানির ট্যাংকার ভরা তেল, তবু পাম্পে সংকট : বিপিসির সিদ্ধান্তে প্রশ্ন

জাতীয় ২২৮ বার পঠিত

আরিফুল ইসলাম আরিফুল ইসলাম Clock রবিবার দুপুর ০২:৩৩, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিতরণে অদ্ভুত এক সংকট তৈরি হয়েছে। একদিকে দেশীয় কোম্পানির ট্যাংকারে পেট্রোল ও অকটেন উপচে পড়ছে, অন্যদিকে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তা গ্রহণ না করায় পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি বাড়ছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশ পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ করে স্থানীয় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান—যার মধ্যে চারটি বেসরকারি ও একটি সরকারি। প্রতি মাসে দেশে প্রায় ৭৫ হাজার টন পেট্রোল ও অকটেনের প্রয়োজন হয়। এর বড় একটি অংশ, প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ, সরবরাহ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি।

 

তবে অভিযোগ রয়েছে, বিপিসি গত ৮ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটিকে চিঠি দিয়ে তাদের কাছ থেকে তেল গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। এতে করে প্রতিষ্ঠানটির ট্যাংকারগুলো এখন উপচে পড়ার মতো অবস্থায় রয়েছে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

 

এদিকে, দেশের বিভিন্ন পাম্পে ১ থেকে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত লাইন তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিক বৈঠক করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি জ্বালানি খাতে কোনো অব্যবস্থাপনা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

 

তথ্য অনুযায়ী, দেশে অকটেন মজুতের সক্ষমতা ৫৩ হাজার টন হলেও বর্তমানে মজুত রয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার টন। এর মধ্যেই ১০ এপ্রিল ৩৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

 

সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণব কুমার সাহা ১৬ এপ্রিল বিপিসির চেয়ারম্যানকে পাঠানো এক চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ৫ এপ্রিলের বৈঠকে এপ্রিলে ৩৭ হাজার টন পেট্রোল-অকটেন এবং ৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ৮ এপ্রিল থেকে বিতরণ কোম্পানিগুলো তেল গ্রহণ বন্ধ করে দেয়।

 

তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারিতে একটি জাহাজ আসার পরও বিপিসি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তেল নেয়নি, ফলে মার্চে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। ২০ এপ্রিল নতুন কাঁচামাল নিয়ে আরেকটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে, কিন্তু ট্যাংক খালি না হলে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।

 

অন্যদিকে, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহীরুল হাসান জানিয়েছেন, অকটেন সংরক্ষণের আর জায়গা নেই। এ কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সীমিত পরিমাণে তেল নেওয়া হচ্ছে।

 

বর্তমানে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা—এই তিন বিতরণ কোম্পানি প্রতিদিন গড়ে ১২ হাজার ৭৭৭ টন ডিজেল, ১ হাজার ৪৯৬ টন পেট্রোল এবং ১ হাজার ১৯৩ টন অকটেন সরবরাহ করছে। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর ৮ মার্চ থেকে সরকার তেল সরবরাহে রেশনিং চালু করে। ঈদের আগে তা তুলে নেওয়া হলেও সরবরাহ সীমিত রাখার নীতিই বহাল রয়েছে।

 

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, সীমিত সরবরাহের কারণে বাজারে আতঙ্ক ও মজুতদারির প্রবণতা বেড়েছে, যার ফলেই পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। তবে দেশীয় উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও তা গ্রহণ না করার কারণে বিপিসির ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।




শেয়ার করুন


পাঠকের মতামত

মেঘনা নিউজ-এ যোগ দিন

Meghna Roktoseba




এক ক্লিকে জেনে নিন বিভাগীয় খবর



© মেঘনা নিউজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by ShasTech-IT