ঢাকা () ,
শুভেচ্ছা বার্তা :
মেঘনা নিউজ-এর এক যুগে পদার্পণ উপলক্ষ্যে সকল পাঠক-দর্শক, প্রতিনিধি, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহযোগী, কলাকৌশলীসহ দেশ ও প্রবাসের সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
শিরোনাম

কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, ৭০ বারের বেশি আফটারশক; নিহত বেড়ে ২৫৪

কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, ৭০ বারের বেশি আফটারশক; নিহত বেড়ে ২৫৪
কলম্বিয়া

আরিফুল ইসলাম আরিফুল ইসলাম Clock বুধবার সকাল ১১:৩৮, ১২ আগস্ট, ২০২৬

পশ্চিম কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধসে পড়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরই মধ্যে ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে ৭০ বারের বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নতুন করে কম্পন ও প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার এক দিন পরও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। একই সঙ্গে মরদেহ উদ্ধারের কাজও চলছে।

সরকারি হিসাবে, ভূমিকম্পে দেশজুড়ে অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশির ভাগই পেরেইরা ও ক্যালি শহরের বাসিন্দা।

ক্যালি শহরের ২২ বছর বয়সী সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী লুইস সায়েঞ্জ ভূমিকম্পের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছিল এই কম্পন যেন আর থামবেই না।’

সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে (জিএমটি ১২:৩৪) ভূমিকম্পটি আঘাত হানার সময় সায়েঞ্জ বাড়িতে বসে সকালের কফি পান করছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আতঙ্কিত পোষা বিড়ালটি বিছানার নিচে লুকিয়ে পড়ে। এরপর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় আশ্রয় নেন।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয় (ওচা) জানিয়েছে, ভূমিকম্পে প্রায় ৫ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে, যার অধিকাংশই আবাসিক স্থাপনা।

স্থানীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, কলম্বিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর ক্যালিতে অন্তত ৯৫ জন নিহত হয়েছেন। শহরটিতে ৪৫টি স্থাপনা পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে।

ক্যালির দক্ষিণাঞ্চলে ধসে পড়া সাততলা আবাসিক ভবন ভ্যানেসার সামনে উদ্ধারকাজ প্রত্যক্ষ করছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মারিয়া ইসাবেল কুম্বাল। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই ভাবিনি যে আমার শহরকে এমন অবস্থায় দেখতে হবে।’

ধসে পড়া ওই ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আনুমানিক ২০ জন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের জীবিত উদ্ধারের আশায় উদ্ধারকারীরা হাতুড়ি, বেলচা ও ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে কংক্রিটের পুরু স্তর সরিয়ে যাচ্ছেন।

উদ্ধারকাজে স্থানীয় শত শত স্বেচ্ছাসেবীও অংশ নিয়েছেন। তারা মানবশৃঙ্খল তৈরি করে ধ্বংসস্তূপের ওপর থেকে বালতিতে করে রাবিশ সরিয়ে ডাম্প ট্রাকে তুলে দিচ্ছেন।

মাঝেমধ্যে উদ্ধারকারীদের কাউকে মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে সবাইকে নীরব থাকার সংকেত দিতে দেখা যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কারও সাড়া পাওয়া যায় কি না, তা শোনার জন্য তখন পুরো এলাকা নিস্তব্ধ হয়ে যায়।




শেয়ার করুন


মেঘনা নিউজ-এ যোগ দিন

Meghna Roktoseba

Emergency Relief Fund - As-Sunnah Foundation




এক ক্লিকে জেনে নিন বিভাগীয় খবর



© মেঘনা নিউজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by ShasTech-IT