হরমুজ নিয়ে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজার, জ্বালানি তেলের দামে বড় উল্লম্ফন
আরিফুল ইসলাম
বুধবার সকাল ১১:৩১, ১২ আগস্ট, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজে হামলার ঘটনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর আলোচনা সফল হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। একদিনেই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
অক্টোবরে সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ৮৯ দশমিক ৬১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এই দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।
সিডনিভিত্তিক অস্ট্রেলীয় প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটেরার বলেন, বাজার এখনো চুক্তির সম্ভাবনা পুরোপুরি ছেড়ে দেয়নি। তবে আলোচনার বিষয়ে মানুষের আস্থা যে কমে যাচ্ছে, সেটি স্পষ্ট।
ওয়াটেরার আরও বলেন, দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি ছাড়াই আলোচনা যত দীর্ঘ হবে এবং দাবিগুলো যত জটিল আকার নেবে, দ্রুত কার্যকর কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে সংশয়ও তত বাড়বে। মাসের শুরুতে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে সতর্ক ও ঝুঁকি-নির্ভর অবস্থানে চলে যাচ্ছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। জলপথটি আবার চালুর বিষয়ে মিশ্র বার্তা আসায় গত এক সপ্তাহ ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
মঙ্গলবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কাতার যত দ্রুত সম্ভব গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুলে দেওয়ার প্রত্যাশা করছে।
তবে তেহরানের অবস্থান ভিন্ন। ইরান জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে তাদের চলমান আলোচনাকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয় থেকে আলাদা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং অবরোধ প্রত্যাহারের মতো নির্দিষ্ট কিছু শর্তে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ থাকবে।
এর মধ্যে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ওয়াশিংটনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। যদিও যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় বর্তমানে এই জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় নেই বললেই চলে।



