হজ নিবন্ধনের শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে, হাতে আর ৫ দিন – কত টাকা লাগছে!
আরিফুল ইসলাম
রবিবার সকাল ১০:০১, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
২০২৭ সালের হজের নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হতে আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হবে। এরপর আর সময় বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই হজে যেতে ইচ্ছুকদের নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি, হজ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো যাচ্ছে যে, গত ২৭ জুলাই থেকে হজ নিবন্ধন শুরু হয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর এ কার্যক্রম শেষ হবে। নির্ধারিত সময়ের পর আর নিবন্ধনের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ নেই।
এবার সৌদি আরব বাংলাদেশের হজ কোটা প্রায় ৫০ হাজার কমিয়ে ৭৮ হাজার ৫০০ জন নির্ধারণ করেছে। তবে কমে যাওয়া এই কোটাও পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৩১১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৩ হাজার ৯৮৩ জন হজযাত্রী চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। অর্থাৎ নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটার তুলনায় এখনো নিবন্ধনের সংখ্যা অনেক কম।
প্রাক-নিবন্ধন করা হজযাত্রীদের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্যাকেজের সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। তা না হলে তাদের হজে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির স্বত্বাধিকারীরা বলছেন, হজযাত্রীরা অনেক আগে হজের টাকা জমা দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এ কারণে চূড়ান্ত নিবন্ধনের গতি বাড়ছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে শেষ পাঁচ দিনে বিপুলসংখ্যক হজযাত্রীর নিবন্ধন সম্পন্ন করা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হজসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এবারও যদি ৭৮ হাজার ৫০০ জনের নির্ধারিত কোটা পূরণ না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য হজ কোটা আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে কমে যাওয়া বর্তমান কোটাটিও পূরণ করা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
হজে যেতে কত টাকা লাগছে
নিবন্ধনে ধীরগতির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে হজের ব্যয়কে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২৭ সালের সরকারি ব্যবস্থাপনায় সাশ্রয়ী প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। অন্য প্যাকেজটির মূল্য ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সাশ্রয়ী প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা। সাধারণ প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮০ টাকা এবং বিশেষ প্যাকেজের মূল্য ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা।
২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য ছিল ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৩৭ টাকা। তবে ওই প্যাকেজে খাবারের খরচ অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এবার খাবারের জন্য ৩৯ হাজার ৫০৮ টাকা যুক্ত হয়েছে।
এ ছাড়া মিনা ও আরাফাতে সৌদি সরকারের সর্বনিম্ন ডি ক্যাটাগরি প্রত্যাহারের কারণে ৭০০ রিয়াল এবং বিনিময় হারজনিত ব্যয়ও যুক্ত হয়েছে।
ফলে বিমান ভাড়া প্রায় ২৫ হাজার টাকা কমলেও সার্বিক হজ ব্যয় কমেনি। বরং সর্বনিম্ন সরকারি প্যাকেজের ঘোষিত মূল্য গত বছরের তুলনায় ৩৮ হাজার ৫১১ টাকা বেড়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার প্যাকেজগুলোর খরচও গত বছরের তুলনায় বেড়েছে।
সব মিলিয়ে, ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাক-নিবন্ধিত হজযাত্রীদের প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগে নিবন্ধনের গতি কতটা বাড়ে, এখন সেটিই সংশ্লিষ্টদের মূল নজর।



