সংকটে উৎপাদন বন্ধ হলো চট্টগ্রামে ডিএপি সার কারখানার
আরিফুল ইসলাম
রবিবার দুপুর ০২:২৪, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙাদিয়া এলাকায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কারখানার মজুত অ্যামোনিয়া শেষ হয়ে গেলে সার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
কারখানা সূত্র জানিয়েছে, ডিএপি কারখানাটি পার্শ্ববর্তী দুটি সার কারখানা— চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে উৎপাদন চালিয়ে থাকে। তবে গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে সিইউএফএল ও কাফকোতে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলস্বরূপ, ডিএপি কারখানায় অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। এরপর আগের মজুত অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে প্রায় দেড় মাস উৎপাদন চালু রাখা হয়, কিন্তু শনিবার সেই মজুতও শেষ হয়ে গেলে উৎপাদন বন্ধ করতে হয়।
ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রিত একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। এই কারখানাটি দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৬ সালে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। এখানে দুটি উৎপাদন ইউনিট— ডিএপি-১ ও ডিএপি-২— রয়েছে, প্রতিটি ইউনিটে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন করার সক্ষমতা রয়েছে।
ডিএপি কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাঈনুল হক জানান, “গত ৪ মার্চ থেকে আমরা অ্যামোনিয়া পাচ্ছি না। এরপরও আগের মজুত দিয়ে উৎপাদন চালিয়ে আসছিলাম। মজুত শেষ হওয়ায় আপাতত উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “যখনই অ্যামোনিয়া সরবরাহ পাওয়া যাবে, তখনই পুনরায় উৎপাদন শুরু করা হবে।”


