ঢাকা () ,
শুভেচ্ছা বার্তা :
মেঘনা নিউজ-এর এক যুগে পদার্পণ উপলক্ষ্যে সকল পাঠক-দর্শক, প্রতিনিধি, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহযোগী, কলাকৌশলীসহ দেশ ও প্রবাসের সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
শিরোনাম

মেঘনার সাবেক ইউএনও সামছুল হকের বিরুদ্ধে দুদকে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ এনে তদন্তের আবেদন

স্টাফ রিপোর্টার স্টাফ রিপোর্টার Clock মঙ্গলবার সকাল ০৮:৫১, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শামছুল হকের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা, সরকারি খাসজমি ও জলাশয় দখল, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি অর্থে বেসরকারি প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধানের আবেদন করা হয়েছে।

দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া লিখিত আবেদনে মেঘনা উপজেলার লুটেরচর ইউনিয়নের সোনারচর মৌজায় ‘শ্যামলিমা সমবায় সমিতি’ নামে গড়ে ওঠা বৃহৎ প্রকল্পটির জমি ও সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য, জমির মালিকদের অভিযোগ এবং প্রকল্প এলাকায় দৃশ্যমান স্থাপনা ও অবকাঠামোর ভিত্তিতে প্রকল্পটির জমি ও সম্পদের পরিমাণ এবং এসব সম্পদ অর্জনের বৈধ উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় শত বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা প্রকল্পটির বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক এক হাজার কোটি টাকা হতে পারে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পটির চেয়ারম্যান হিসেবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার নাম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মেঘনার সাবেক ইউএনও মোহাম্মদ শামছুল হকের নাম স্থানীয়ভাবে বলা হচ্ছে। তবে এসব তথ্যের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রকৃত ভূমিকা নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, মোহাম্মদ শামছুল হক ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে লুটেরচর এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে জমি ক্রয়, দখল কিংবা দখলের চেষ্টা করেছেন বলে একাধিক ভূমিমালকের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি খাসজমি, নদী ও জলাশয় ভরাট এবং সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।

আবেদনে লুটেরচর ইউনিয়নের মিজানুর রহমানের প্রায় সাড়ে ২০ শতক জমি দখলের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, তার স্বত্ব-মালিকানাধীন জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপন ও চাষাবাদ শুরু করার পর কয়েক দফায় সাইনবোর্ড ও সীমানার খুঁটি ফেলে দেওয়া হয় এবং চারাগাছ কেটে ফেলা হয়।

এ ছাড়া নজুর মাস্টারের ছেলে কামাল হাউদের প্রায় ৩২ শতক, বাদশা মিয়ার ছেলে আহাম্মদ মিয়ার প্রায় ৮ শতক, খালেক মিয়ার ছেলে আলী হোসেনসহ আরও কয়েকজনের মোট প্রায় ১১৪ শতক জমি যার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি টাকা জোরপূর্বক দখলের অভিযোগের কথাও আবেদনে বলা হয়েছে। এসব জমির প্রকৃত মালিকানা, রেকর্ড, দলিল, নামজারি, দখল ও হস্তান্তরের ইতিহাস যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

‘শ্যামলিমা’ প্রকল্পের জমির মধ্যে সরকারি খাসজমি, নদী বা জলাশয় রয়েছে কি না এবং নদী বা জলাশয় ভরাট করে প্রকল্পের জমি বাড়ানো হয়েছে কি না—তা ভূমি রেকর্ড, খতিয়ান, মৌজা ম্যাপ, স্যাটেলাইট চিত্র ও সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের অনুরোধ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রকল্প এলাকায় প্রশস্ত সড়ক, গাইডওয়াল, ফলদ গাছসহ বিভিন্ন অবকাঠামো রয়েছে। এসব অবকাঠামোর বেশিরভাগ অংশ সরকারি অর্থে নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানা যায় , তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সাবমার্সিবল টিউবওয়েল স্থাপনের কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ, প্রকল্প অনুমোদন, দরপত্র, কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার ও অর্থ ছাড়ের নথি যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়াও সাবেক ইউএনও মোহাম্মদ শামছুল হকের বিরুদ্ধে বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের অভিযোগও আনা হয়েছে। আবেদনে ঢাকার শান্তিনগরে শত কোটি টাকা মূল্যের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে সম্পদ ও বিপুল পরিমাণ জমি থাকার অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তার আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক হিসাব, জমির দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য যাচাইয়ের অনুরোধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রকল্পের আওতাধীন কয়েকটি জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলার নথি সংগ্রহ করে প্রকল্পের জমি ক্রয়, অধিগ্রহণ, দখল ও হস্তান্তরের ধারাবাহিকতা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

আবেদনকারী বলেছেন, উত্থাপিত অভিযোগগুলো স্থানীয় অভিযোগ ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না গিয়ে দুদকের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।

আবেদনে ‘শ্যামলিমা সমবায় সমিতি’র প্রকৃত মালিকানা, জমির পরিমাণ ও সম্পদ অর্জনের উৎস অনুসন্ধান, সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের অভিযোগ যাচাই, সরকারি অর্থে প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণের সত্যতা পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জ্ঞাত আয় ও সম্পদের সঙ্গে অর্জিত সম্পদের সামঞ্জস্য যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

 

দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগগুলোর সত্যতা বা অসত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন অভিযোগকারী।




শেয়ার করুন


মেঘনা নিউজ-এ যোগ দিন

Meghna Roktoseba

Emergency Relief Fund - As-Sunnah Foundation




এক ক্লিকে জেনে নিন বিভাগীয় খবর



© মেঘনা নিউজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by ShasTech-IT