ট্রাম্পের হুমকিতে উত্তপ্ত তেহরান, রাস্তায় অস্ত্র প্রশিক্ষণ ও টিভিতে যুদ্ধের প্রস্তুতি
আরিফুল ইসলাম
সোমবার রাত ০৮:০৫, ১৮ মে, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নতুন যুদ্ধ হুমকির পর ইরানজুড়ে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। রাজধানী তেহরান-এর রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পর্যন্ত—সবখানেই এখন অস্ত্রের উপস্থিতি এবং যুদ্ধ প্রস্তুতির দৃশ্য চোখে পড়ছে।
তেহরানের আলবোর্জ পর্বতমালা এলাকায় সন্ধ্যা নামার পর প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। শহরের অভিজাত এলাকা তাজরিষ স্কয়ারে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগান।
সেখানে অংশ নেওয়া তিয়ানা নামের এক তরুণী ট্রাম্পের হুমকিকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, দেশের জন্য এবং মানুষের জন্য তারা জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত।
সম্প্রতি ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ইরানকে সতর্ক করে লেখেন, ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে তাদের অস্তিত্বই বিপন্ন হতে পারে। চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর তার এই বার্তা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
তবে এমন হুমকির মধ্যেও ইরানের সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ দেশটির পরমাণু কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এক বৃদ্ধ সমাবেশকারী বলেন, তাদের কাছে পরমাণু প্রযুক্তি সীমান্তের মতোই গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা এটি বোমা তৈরির জন্য নয়, বরং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চান।
এদিকে সম্ভাব্য মার্কিন বা ইসরাইলি হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে যুদ্ধের মানসিক প্রস্তুতিও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন স্থানে ‘অস্ত্র প্রশিক্ষণ বুথ’ স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষকে অস্ত্র চালানোর প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ভেনাক স্কয়ার-এর একটি বুথে নারীদের একে-৪৭ রাইফেল সংযোজন ও বিচ্ছিন্ন করার প্রশিক্ষণ নিতে দেখা গেছে। এমনকি শিশুদেরও খালাসনিকভ রাইফেল হাতে অনুশীলন করতে দেখা যাচ্ছে।
এই যুদ্ধ প্রস্তুতির বার্তা এখন ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও ছড়িয়ে পড়েছে। ওফোগ চ্যানেল-এর উপস্থাপক হোসেন হোসেইনি লাইভ অনুষ্ঠানে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর স্টুডিওতে বন্দুক তাক করে গুলি ছোড়েন। একইভাবে চ্যানেল-থ্রি-এর উপস্থাপিকা মবিনা নাসিরিও লাইভ অনুষ্ঠানে অস্ত্র হাতে দর্শকদের জানান, সাধারণ মানুষের মতো তিনিও অস্ত্র চালানো শিখছেন।
তবে যুদ্ধের এই আবহের মধ্যেও শান্তির পক্ষে কণ্ঠ রয়েছে ইরানে। তাজরিষ স্কয়ারের পাশের একটি পার্কে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা মানুষেরা যুদ্ধ নয়, শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। এক বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তারা এমন একটি দেশে শান্তিতে বসবাস করতে চান, যেখানে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকবে।


