ঢাকা (বিকাল ৫:১৯) মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শুভেচ্ছা বার্তা :
মেঘনা নিউজ-এর এক যুগে পদার্পণ উপলক্ষ্যে সকল পাঠক-দর্শক, প্রতিনিধি, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহযোগী, কলাকৌশলীসহ দেশ ও প্রবাসের সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
শিরোনাম

মরে যাচ্ছে তালতলীর খালগুলো: ৭১ জলপথ হারিয়ে কৃষকের দীর্ঘশ্বাস

ছবি: সংগৃহীত

আরিফুল ইসলাম আরিফুল ইসলাম Clock মঙ্গলবার দুপুর ০২:২৯, ৭ এপ্রিল, ২০২৬

বরগুনার তালতলী উপজেলার কৃষি নির্ভর জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ৭১টি প্রবাহিত খাল আজ অস্তিত্ব সংকটে। দখল, দূষণ এবং পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় একদিকে শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিচ্ছে তীব্র সেচ সংকট, অন্যদিকে বর্ষায় সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা—ফলে অনাবাদি হয়ে পড়ছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। তবে এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

 

জানা যায়, পায়রা নদী, অন্ধারমানিক নদী এবং বঙ্গোপসাগরের স্রোতধারায় গড়ে ওঠা শতাধিক শাখা খাল একসময় ছিল এলাকার কৃষির প্রাণ। শীত মৌসুমে এসব খালে সংরক্ষিত হতো মিঠা পানি, আর বর্ষায় পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করত এগুলোই।

 

কিন্তু কৃষকদের অভিযোগ, গত দুই দশকে অন্তত ৭১টি খাল দখল হয়ে গেছে। কোথাও প্রভাবশালীরা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, আবার কোথাও পলি জমে খাল ভরাট হয়ে তৈরি হয়েছে সমতল ভূমি। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে বোরো ও রবি শস্য চাষ ব্যাহত হচ্ছে। একইসঙ্গে বর্ষায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা, যা কৃষকদের জন্য ডেকে আনছে আর্থিক ক্ষতি।

 

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কণ্ঠে ফুটে উঠেছে হতাশা ও ক্ষোভ। কৃষক মহারাজ মিয়া, হাসান মল্লিক ও ইসমাইল মৃধা বলেন, আগে শীতকালে এই খালগুলো দিয়াই আমরা বোরো ধান আর তরমুজ চাষ করতাম। এহন খাল আছে নামে, কামে নাই। চারদিকে শুধু মাটি আর সবুজ ঘাস। পানি না থাকায় বিঘার পর বিঘা জমি অনাবাদি পইড়া থাকে। অন্যদিকে, বর্ষাকালে একটু বৃষ্টি হইলেই তলাইয়া যায় সব। খালের মুখ দখল কইরা পাকা ঘর তুলছে প্রভাবশালীরা, পানি নামার কোনো পথ নাই। আমাগো ঘাম ঝরানো ফসল পানির তলে পইচা যায়। সরকারের কাছে আকুল আবেদন—এই খালগুলো যেন দ্রুত পুনঃখননের ব্যবস্থা করেন।

 

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত খালগুলো পুনঃখনন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হোক, যাতে কৃষি উৎপাদন আবার সচল হয়।

 

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, খননযোগ্য খালের তালিকা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই দখলমুক্ত করে পুনঃখননের মাধ্যমে খালগুলোকে সচল করা হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এতে কৃষকদের মুখে আবার হাসি ফিরবে।




শেয়ার করুন


পাঠকের মতামত

মেঘনা নিউজ-এ যোগ দিন

Meghna Roktoseba




এক ক্লিকে জেনে নিন বিভাগীয় খবর



© মেঘনা নিউজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by ShasTech-IT