তারেক রহমানের প্রতি আমার কিছু কথা : হোসাইন মোহাম্মদ দিদার
মেঘনা নিউজ ডেস্ক
সোমবার বিকেল ০৫:৫১, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে আসার আবেদন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলাম আমিও। তিনি আসলেন, প্রতীক্ষার অবসান হলেো।
যেদিন ২৫ ডিসেম্বর তিনি বসুন্ধরার তিন শ’ ফুটে এক ম্যারাথন বক্তব্য রাখলেন। আমি পুরো বক্তব্য শুনে অবাক হয়েছি যেমন, তেমনি হতাশ হয়েছিলাম।
তার বক্তব্যে বিনয় ছিলো, ছিলো দেশপ্রেম। কিন্তু কোথাও একটা বড় ঘাটতি ছিলো। তিনি তার বক্তব্যে তার আপনজন হারানো, তার দীর্ঘ নির্যাতন, তার ভাই হারানো, তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো নির্যাতন করার পরেও দীর্ঘ ১৭ বছরের যন্ত্রণা তিনি ভুলে গেলেন তার জন্মদেশে পা রেখে। মনে হলো তিনি স্বর্গ ছুঁয়েছেন; স্বর্গে গেলে নাকি মানুষ সব আপনপরের কথা ভুলে যাবে। যাহোক তিনি তার বক্তব্যে বললেননি ভারতীয় আধিপাত্যবাদবিরোধী কথা, বলেননি শহীদ আবু সাঈদের কথা। বলেননি তার ওপর ও তার পরিবারের ওপর জুলুমের কথাও।
শহীদ আবু সাঈদের কথা হয়তো তিনি এতোটা দীর্ঘ এয়ার জার্নির কারণে ভুলে যেতে পারেন ভাবছি। তিনি আসলেন এক মাস হতে চলছে, হয়তো তিনি অনুভব করেননি রংপুর আবু সাঈদের সমাধিতে যাওয়ার কথা। তিনি জানেন, সেদিন আবু সাঈদ বুক চিতিয়ে না দিলে এই দেশে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হতো না। ৫ আগষ্ট সৃষ্টি হতো না। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হতো না। আর শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা না গেলে তিনিও এই দেশে কস্মিনকালে আসতে পারতেন না।
তবুও তিনি পতিত সরকারের বিষয়ে তেমন কোনো শব্দ উচ্চারণ করেননি। তা না করার কারণ হিসেবে ভাবছি তিনি হয়তো আফ্রিকান কিংবদন্তী নোবেল জয়ী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার জীবনী পড়েছেন তাই হয়তো সকলকে সকল অপরাধময় অতীত তিনি ক্ষমার চোখে দেখেছেন।
ভাবছি, এটা তার খুব ভালো গুণ। কারণ তিনি মানবতাবাদী একটি দেশে ১৭ বছর থেকেছেন। এমন বিদেশবিভুঁইয়ে থাকলে মানুষের ভিতরগত পরিবর্তন আসাটা স্বাভাবিক।
২২ জানুয়ারি সিলেটের আলীয়া মাদ্রসা মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম নির্বাচনি প্রচারণার বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের দীর্ঘ দিনের চড়াইউতরাই রাজনৈতিক সহপাঠী জামায়েত ইসলামীকে নিয়ে কৌশলে বিষোদ্গার বক্তব্য দিয়েছেন তা তিনি কতটুকু যথার্থ বলেছেন তা ঐ সময়ের টিভি চ্যানেলগুলোর লাইভ প্রচারের সময় নেটিজনদের মন্তব্য থেকে বুঝা গেল তা তিনি কতটা যৌক্তিক বলেছেন।
তিনি কী ‘জেন-জি’ দের পালস পিটিশন বুঝতে সক্ষম হয়েছন? তিনি কী সাধারণ ভোটারদের পালস বুঝতে সক্ষম হয়েছেন? মোটেও হননি। তিনি তার দলীয় উচ্চ ফোরামের কতিপয় নেতাদের পালস বুঝে, তিনি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী অথবা বামদের পালস বুঝেছেন হয়তো। তা না হলে তারা কেনো তার দলের দীর্ঘ দিনের দোসরদের বিরুদ্ধে বিষোদগার বক্তব্যে এত খুশী হবে?
এই নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে এই কথাগুলো তিনি সরাসরি না বলে তার সফরসঙ্গী কিংবা অন্যান্য বক্তাদের দিয়ে হিট করাতে পারতেন। আমার মতে তার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গীদের বিষোদগার তার মুখে বেমানান।
যদি মানানসই হতো তাহলে কেনো তারা এই মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ক্ষমতা গেলেন? কিংবা কেনো তাদের নিয়ে ক্ষমতায় আসীন হলেন? লালসবুজের পতাকাবাহী গাড়ি সেই তথাকথিত যুদ্ধাপরাধীরা পতপত করে উড়ালেন? এতে কী উভয়েই সম-অপরাধী নয়?
তাই তো কিংবদন্তি শিল্পী জহির আহমেদ লিখেছেন” ভালোবাসা হয় যদি অপরাধ/তবে দুজনেই সম-অপরাধী/ কাঁদবে তুমিও যদি আমি কাঁদি।”
শেষ কথা, এইসব বক্তব্য দিয়ে তিনি হয়তো ক্ষমতায় আসতে পারেন। তবে কিংবদন্তি বা অবিসংবাদিত শাসক হতে পারবেন না।
লিখেছেনঃ হোসাইন মোহাম্মদ দিদার,
কবি ও সাংবাদিক।


