রবিবার , ৯ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :
মেঘনা নিউজ-এর সকল পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহযোগী, প্রতিনিধি, কলাকৌশলীসহ সবাইকে জানাই পবিত্র ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক
শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গলে পারিবারিক কলহের জেরধরে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা বদলগাছীতে নওগাঁ ব্লাড সার্কেলের ফ্রী ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন আদমদীঘিতে সিহাব হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার চ্যানেল এস এর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি মাজহারুল ইসলামের ইন্তেকাল চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌণে ৮ লক্ষ টাকার ইয়াবা জব্দ, গ্রেফতার ২ কুড়িগ্রাম পুলিশের মনিটরিং সেলের সফলতা : জোড়া খুনের আসামী ঢাকায় গ্রেফতার সড়ক দূর্ঘটনায় আহত পত্রিকা বিক্রেতা রাজীবকে নাজিম উদ্দিন আলমের পক্ষে অনুদান প্রদান ধর্মপাশার আ.লীগ নেতা বদর উদ্দিন আর নেই বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের শুভ জন্মদিনে ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন সিরাজগঞ্জে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী পালিত
মোট আক্রান্ত

১,৯৯,৩৫৭

সুস্থ

১,০৮,৭২৫

মৃত্যু

২,৫৪৭

ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর

বান্দরবানে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে আদিবাসীদের মাচাং ঘর




সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ, বান্দরবান প্রতিনিধিঃ বান্দরবান পার্বত্য জেলায় বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায় যেন নানাভাবেই শিল্পী। তারা যেমন নিজেদের পোশাক নিজেরাই তৈরি করেন, চাষাবাদেরও রয়েছে তাদের ভিন্ন পদ্ধতি। বসবাসের জন্য তারা ব্যবহার করেন পাহাড়ের ঢালুতে ভিন্ন কায়দায় বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি মাচাং ঘর। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান সদর উপজেলা, রুমা, থানছি, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রোয়াংছড়িসহ সাতটি উপজেলায় আদিবাসীদের অনেক পরিবারই তাদের বসবাসের জন্য মাচাং ঘর তৈরি করেন। বিশেষ করে দূর্গম এলাকায় জুম চাষাবাদ এবং বসবাসের জন্য মাচাং ঘরগুলো তৈরি হয়। সাধারণত বাঁশ, ছন দিয়ে নিপুণভাবে তৈরি হয় এসব মাচাং ঘর। তবে ঘরের বেশির ভাগ অংশেই বাঁশের ব্যবহার হয়ে থাকে। ছনের মাচাংগুলো দেখতে যেমন চৌকস, তেমনি প্রাকৃতিক শীতাতপ হওয়ার কারণে এই মাচাং ঘরে বসতে ও ঘুমাতে খুবই আরামদায়ক। তবে জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং পাহাড় থেকে বাঁশ ও ছন হারিয়ে যাওয়ার ফলে বর্তমানে বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানে বাঁশের, ছনের তৈরি মাচাং ঘরের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। জুম পাহাড়ের শীর্ষে কিংবা ছোট বাগান বাড়িতে একসময় জমির মালিকরা মাচাং ঘর তৈরি করে সেখানে তাদের সময় ব্যয় করতেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে চাহিদার মতো বাঁশ, গাছ ও ছন না পাওয়ায় এখন পার্বত্য জেলাগুলোতে মাচাং ঘর হারিয়ে যাওয়ার পথে। বান্দরবানের পরিবেশ বাদীরা জানান- পার্বত্য এলাকায় এক সময় মাচাং ঘরের যথেষ্ঠ কদর ছিল। যে কোনো পাহাড়ি বাগানে একটি মাচাং ঘর দেখতে পেতাম, কিন্তু বর্তমানে কিছু অসাধু বনখেকোদের কারণে পাহাড়ে এখন আর আগের মত ছন, বাঁশ, গাছ পাওয়া যায় না। কারণ বনখেকোরা বড় বড় গাছ কাটার কারণে পরিবেশ একদিকে দূষিত হচ্ছে অপরদিকে প্রয়োজনমতো ছন, বাঁশ ও গাছ না পাওয়ার কারণে পাহাড়ের ঐতিহ্য মাচাং ঘর তৈরিতে অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। তিনি আরো বলেন, ঐতিহ্যবাহী মাচাং ঘরকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি-বেসরকারিভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি জানান, পার্বত্য জেলায় বসবাসরত পাহাড়িরা পাহাড় কাটায় অভ্যস্ত ছিল না। পাহাড় কাটা রোধ করতেই তারা মাচাং ঘর বেঁধে থাকেন। পাহাড়ের মাটি সাধারণত ঢালু থাকে। মাচাং ঘর না বাঁধলে পাহাড়ি ঢালু মাটি সমতল করতে পাহাড় কাটতে হতো। মূলত এ কারণেই পাহাড়িরা মাচাংঘরে জীবন ধারণ করে থাকেন। আর এ থেকেই পাহাড়ি সমাজে এটি একটি সংস্কৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

বান্দরবানের বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ও কবি আমিনুর রহমান প্রামানিক বলেন, “আদিকাল থেকে পার্বত্য এলাকায় বসবাস করা সম্প্রদায় মাচাং ঘরে বসবাস করে আসছে, তারা ঘর তৈরির কথা ভাবলেই মাচাং ঘরের কথা বলতো এবং বন জঙ্গল থেকে ভালো মানের বাঁশ ও ছন নিয়ে মাচাং ঘর তৈরি করতো কিন্তু এখন মাচাং ঘর হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের কাছ থেকে।” তিনি জানান, কালক্রমে পার্বত্য জেলায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বন-জঙ্গল উজাড় হয়ে পড়েছে। তাই এখন বন্যপশু বা হিংস্র প্রজাতির জীব-জন্তুও বিরল হয়ে পড়ছে। ফলে সেই হিংস্র পশুর আক্রমণের আশংকাও আর নেই। পাশাপাশি আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন প্রায়ই ঘরে দরজা ব্যবহার চলছে। কেবল গ্রামাঞ্চলে সংস্কৃতিগত কারণে অথবা বিশেষ বাস্তবতায় এখনও ব্যবহার রয়েছে এ ঐতিহ্যবাহী মাচাংঘরের। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির সাংস্কৃতিক ইনিস্টিটিউটের কনভেনিং কমিটির সদস্য সিং ইয়ং বলেন, “এক সময় মাচাং ঘর পাহাড়ের জন্য জনপ্রিয় হলে ও দিন দিন এই ঘর হারিয়ে যাচ্ছে। এখন জনসাধারণ ইট সিমেন্টের দালান তৈরি করতে ব্যস্ত। মূলত বনে বাঁশ,গাছ আর ছন নেই, তাই সাধারণ মানুষ মাচাং ঘর তৈরি করতে পারছে না আর আমরা হারিয়ে ফেলছি মাচাং ঘর।”

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত

Ad_970x120




ইমেইলে সর্বশেষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আজই গ্রাহক হোন!

তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক।




এক ক্লিকে জেনে নিন বিভাগীয় খবর




করোনা তথ্য
দেশে আক্রান্ত
১,৯৯,৩৫৭
Developed By Ariful
করোনা তথ্য
দেশে সুস্থ
১,০৮,৭২৫
Developed By Ariful
করোনা তথ্য
দেশে মৃত্যু
২,৫৪৭
Developed By Ariful
করোনা তথ্য
বিশ্বে মৃত্যু
৫,৯৩,০৭২
Developed By Ariful
করোনা তথ্য
বিশ্বে আক্রান্ত
১,৩৯,২১,৬৯৯
Developed By Ariful
©মেঘনা নিউজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত