কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে জুলাই আন্দোলনের কর্মী নিহত, উত্তেজনা
আরিফুল ইসলাম
বুধবার বেলা ১২:২৫, ২৫ মার্চ, ২০২৬
কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক খোরশেদ আলম (তরুণ) নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন ঝাউবাগানের ভেতরে কবিতা চত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত খোরশেদ কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুলুলঘোনা এলাকার বাসিন্দা এবং শাহ আলমের ছেলে। তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যদিও তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদ ছিল না।
পুলিশ জানায়, হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় খোরশেদকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ঘটনার পর তারিন নামে এক তরুণীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনার সময় খোরশেদের সঙ্গে ছিলেন এবং তিনিও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, রাতে কবিতা চত্বরে অবস্থানকালে দুই যুবক খোরশেদের ওপর হামলা চালায়। তারা প্রথমে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র দিতে বলে। একপর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। তার পেট, পা-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী তারিন জানান, হঠাৎ দুই যুবক এসে খোরশেদকে ঘিরে ধরে এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলা চালায়।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই শহরে বিক্ষোভে নামেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। রাত সোয়া ১টার দিকে তারা মিছিল করে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন এবং পরে পুরোনো শহীদ মিনার এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, খোরশেদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং শহরে কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেড়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা যথেষ্ট নয়। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


