ঢাকা (সন্ধ্যা ৭:১১) শনিবার, ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শুভেচ্ছা বার্তা :
মেঘনা নিউজ-এর এক যুগে পদার্পণ উপলক্ষ্যে সকল পাঠক-দর্শক, প্রতিনিধি, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহযোগী, কলাকৌশলীসহ দেশ ও প্রবাসের সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
শিরোনাম

বাংলাদেশের জনগণ এবার পঁচা রাজনীতিকে লালকার্ড দেখাবে : ডা. শফিকুর রহমান

লোকমান হেকিম (দাউদকান্দি) কুমিল্লা লোকমান হেকিম (দাউদকান্দি) কুমিল্লা Clock শনিবার বিকেল ০৪:৫৭, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬

বাংলাদেশে পঁচা রাজনীতির বন্দোবস্ত আর চলতে দিব না। ঔ পঁচা রাজনীতিকে লালকার্ড দেখাতে হবে।

 

বৈষম্যমুক্ত, শান্তির বাংলাদেশ গড়তে চাই, সমগ্র বাংলাদেশ ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে। আধিপত্যবাদবিরোধী, চাঁদাবাজবিরোধী, আমরা জমিদারি মানি না, এদেশের সবায় সমান অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই।বিগত দিনে সংবিধানের দোহাই দিয়ে ১৮ কোটি মানুষের ওপর ঝুলুম করা হয়েছে। আগের সিন্ডিকেটশন ও চাঁদাবাজি এখনো আছে। অনেক চুরি, করেছো,অনেক লুট করেছো। লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার করে বেগমপাড়া বাড়ি করেছো। এসব আর হতে দিব না।

 

 

শনিবার(৩১ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টায় উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিশ্বরোডের মডেল মসজিদ কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠ প্রাঙ্গণে ১১ দলীয় জোটের আয়োজিত কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহলুলের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

 

তিনি আরও বলেন,দুর্নীতিবাজবিরোধী মামলাবাজবিরোধী একটি সমাজ বিনির্মাণের জন্য জনগণ আজ একাট্টা হয়েছে। সারাদেশে গণজোয়ার শুরু হওয়ায় অনেকে দিশেহারা। এখন তারা মায়ের গায়ে হাত দেয়, বেইজ্জত করে। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি- আমাদের জীবনের চাইতে আমাদের মায়েদের ইজ্জতের মর্যাদা অনেক বেশি। মায়েদের গায়ে হাত দেবেন- আমরা গালে হাত দিয়ে বসে থাকব না।

 

 

আমীরে জামায়াত বলেন, এ দেশ মুসলমান, হিন্দু-বৈদ্ধ, খ্রিস্টান সকলের। আমরা মিলেমিশে ফুলের বাগানের মতো দেশটাকে গড়বো। সকল ধর্মের মানুষ তার প্রাপ্য অধিকার পাবে, এজন্য তার লড়াই করার দরকার হবে না। কারণ সমাজে আমরা সুবিচার কায়েম করব। যোগ্যতা অনুযায়ী সবাই দেশ গড়ার কাছে অংশগ্রহণ করবে না। দেশ ও সরকার দেখবে না তিনি কোনো ধর্মের বা গোত্রের। দেখবে তিনি যোগ্য ও দেশপ্রেমিক কিনা।

 

অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজের কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গালভরা গণতন্ত্রের বুলি আওড়াবেন, আবার ফ্যাসিবাদী কায়দার আচরণ করবেন। এই দুইটা একসাথে যায় না, এটি গণতন্ত্র নয়। অন্যের কথা শুনতে হবে, যেমন নিজের কথা বলার অধিকার আছে।

 

জনতার উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা কি চান বাংলাদেশে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসুক? ৫ আগষ্ট পটপরিবর্তনের পর যারা জুলাই মানে না, যারা সংস্কার মানে না, যারা চরিত্র পাল্টায়নি- তাদের দিয়ে কি নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।

 

তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নতুন বাংলাদেশ পাওয়ার জন্য ১৮ কোটি মানুষ মুখিয়ে আছে। যারা জাতির সাথে এখনো ফ্যাসিবাদের আচরণ করে চলছে, তাদের দিয়ে কি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়া যাবে? যাবে না, বলেন তিনি। আমীরে জামায়াত বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে ফ্যসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস যাদের আছে তাদের বেছে নিতে হবে। এ সাহস জামায়াতে ইসলামীর আছে।

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দফায় দফায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মিথ্যা অভিযোগে সাজানো সাক্ষী পাতানো আদালত দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। জামায়াত কারো কাছে মাথানত করেনি। কারো দয়া ও অনুকম্পা কামনা করেনি। হাজার নেতাকর্মীকে হারিয়েও মাথানত করেনি। চোখ রাঙানিকে পরোয়া করেনি। দেশ ছেড়েও পালায়নি। ছিলাম, আলহামদুলিল্লাহ আছি, ইনশাআল্লাহ থাকবো।

 

অন্য রাজনৈতিক নেতাদের দেশের প্রতি আস্থা সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্য নেতারা হাঁচি কাশি হলেও চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান, দেশের প্রতি তাদের আস্থা নেই। অথচ তারাই একসময় এ দেশ শাসন করেছেন। সেই জায়গাটা গড়েনটি কেন- প্রশ্ন রাখেন আমীরে জামায়াত। হাঁচি কাশির জন্য বিদেশে যেতে হয় কেন, কেন এ দেশের ওপর আস্থা নেই তাদের। কারণ, এ দেশটি তাদের টাকা বানানোর মেশিন- অভিযোগ করেন ডা. শফিকুর রহমান।

 

অসৎ নেতাদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জনগণের টাকা হাতিয়ে নেবেন, লুণ্ঠন করবেন, ব্যাংক ডাকাতি, শেয়ারবাজার লুণ্ঠন করবেন তার পর সমস্ত টাকা বিদেশে পাচার করে দেবেন। নিজের ছেলে মেয়েদের বিদেশে লেখাপড়া করাবেন। দেশের ছেলে মেয়েদের অবজ্ঞা করে নিজের সন্তানদের বিদেশি ছেলে-মেয়েদের সাথে বিয়ে দেয়ার সমালোচনাও করেন তিনি ।

 

তিনি বলেন, মায়েরা খোলাখুলি বলে তারা অনিরাপদ বাংলাদেশ দেখতে চান না, তারা একটি নিরাপত্তার বাংলাদেশ চায়। আমরা বিশ্বাস করি দাঁড়িপাল্লা ও তার সঙ্গীরাই নিরাপত্তা দিতে পারবে। নিজেদের নিরাপত্তার জন্য মায়েরা ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যকে বেছে নেয়ার জন্য তাদের (বিরোধীদের) কলিজায় আগুন ধরে গেছে।

 

 

 

তিনি বলেন, এদেশকে এখনো সভ্য বলা যাবে না। যে দেশে মাঠে, ঘাটে, পথে-প্রান্তরে সর্বত্র চাঁদাবাজি হয় সেদেশ কখনো সভ্য দেশ হতে পারে না। চাঁদাবাজদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের খাদ্যের অভাব হলে আমাদের খাদ্য ভাগাভাগি করে খাবো। চাঁদাবাজি ছেড়ে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

যুবকদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুবকদের বেকারভাতা দিয়ে অসম্মান করতে চাই না। যুবকরা বেকারভাতার জন্য লড়াই করেনি। তারা লড়াই করেছে মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাওয়ার জন্য। যুবকদের হাতকে দেশ গড়ার কারিগর বানানো হবে, বলেন তিনি।

 

 

তিনি আরও বলেন, গর্ভবতী মা, শিশু পাঁচ বছর পর্যন্ত বিনামূলে চিকিৎসা সেবা পাবেন। সচ্ছল কোনো পরিবার না নিতে চাইলে তাদের ধন্যবাদ দেবো। অবসরগ্রহণকারী জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার দায়িত্ব দেশ ও রাষ্ট্র নেবে, ইনশাআল্লাহ। তবে এ ক্ষেত্রে যারা সচ্ছল তারা না নিলে অভিনন্দন পাবেন। যাদের প্রয়োজন তাদের পাওনা নিশ্চিত করা হবে।

 

বক্তব্য শেষে কুমিল্লা-১ আসনে ১১ দলীয় প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহালুলের হাতে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপালা তুলে দেন। এসময় জনতা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আমীরে জামায়াতের সাথে স্লোগান দেন।

 

 

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী কুমিল্লা উত্তর জেলা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেন সঞ্চালনায়

কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা)আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহলুলের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, কুমিল্লা উত্তর জেলা আমির অধ্যাপক আ. মতিন,বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ প্রমুখ।




শেয়ার করুন


পাঠকের মতামত

মেঘনা নিউজ-এ যোগ দিন

Meghna Roktoseba




এক ক্লিকে জেনে নিন বিভাগীয় খবর



© মেঘনা নিউজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by ShasTech-IT