শান্তি আলোচনায় উত্তেজনার বিস্ফোরণ: আরাগচি-উইটকফের মধ্যে হাতাহাতির উপক্রম
আরিফুল ইসলাম
সোমবার বেলা ১২:৩৬, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত বহুল আলোচিত শান্তি আলোচনা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেছে। ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে, আর এর মাঝেই চরম উত্তেজনা ও বাগবিতণ্ডার ঘটনা সামনে এসেছে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনার শুরুটা ছিল বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ। ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মধ্যে করমর্দনের মাধ্যমে বৈঠক শুরু হয়। চা-নাস্তার আয়োজনও ছিল।
তবে অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির আলোচনা তীব্র বাগবিতণ্ডায় রূপ নেয়, যা পরে চিৎকার-চেঁচামেচিতে গড়ায়।
তুর্কি সাংবাদিক সেতিনের সেতিন দাবি করেছেন, আরাগচি ও উইটকফের মধ্যে উত্তেজনা এতটাই চরমে পৌঁছেছিল যে, প্রায় হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। তিনি লিখেছেন, ‘হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে মারাত্মক মতবিরোধের কারণে এই উত্তেজনা হয়েছে। ইরানকে কখনো হুমকি দিও না।’
দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা না হওয়ায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ইসলামাবাদ ত্যাগ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি।’ পাশাপাশি ইরানের ওপর দায় চাপিয়ে বলেন, তেহরান মার্কিন শর্ত মেনে নিতে রাজি হয়নি এবং পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির ‘দৃঢ় প্রতিশ্রুতি’ও পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ইরানি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতবিরোধ থেকেই গেছে—হরমুজ প্রণালি খোলা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের ভবিষ্যৎ এবং প্রায় ২৭০ কোটি ডলারের জমাট সম্পদ মুক্ত করার প্রশ্নে। যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত প্রণালি খুলে দেওয়ার চাপ দিলেও ইরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, বৃহত্তর চুক্তি ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত আসবে না।


