এক ফোনেই বদলে গেল সমীকরণ: নেতানিয়াহুর কলেই ভেঙে গেল শান্তি আলোচনা?
আরিফুল ইসলাম
সোমবার দুপুর ০১:৩০, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
ইসলামাবাদে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার মোড় ঘুরে যায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি ফোনকলের পর—এমন অভিযোগ তুলেছে তেহরান। ইরানের দাবি, ওই ফোনই আলোচনার গতি পরিবর্তন করে দেয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘বৈঠকের মাঝে নেতানিয়াহুর ভ্যান্সকে করা ফোন মার্কিন-ইরান আলোচনার মনোযোগ সরিয়ে ইসরাইলের স্বার্থের দিকে নিয়ে গেছে। যুদ্ধে যা পারেনি, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে সেটা পেতে চেয়েছে।’
তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, শুরুতে মার্কিন প্রতিনিধি দল আলোচনায় ইতিবাচক থাকলেও ফোনকলের পর তাদের অবস্থান বদলে যায়।
আরাগচি আরও বলেন, ইরান সদিচ্ছা নিয়েই পাকিস্তানে আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বিদায়ের আগে দেওয়া সংবাদ সম্মেলনকে তিনি ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান ‘জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রস্তুত।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো নেতানিয়াহুর ওই ফোনকলের বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।
তেহরান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মতে, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ছিল কঠোর এবং ইরানের জন্য অগ্রহণযোগ্য। শুধু হরমুজ প্রণালিতে মুক্ত নৌচলাচল নয়, বরং ইরানের পুরো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ এবং বিদ্যমান মজুদ হস্তান্তরের দাবিও জানানো হয়। ভ্যান্স এসব শর্তকে ‘চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাব’ হিসেবে উপস্থাপন করলে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ইরান।
আলোচনা ভেঙে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। যুদ্ধবিরতির আগে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারের ওপরে থাকলেও তা নেমে এসেছিল ৯৫ ডলারে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সমঝোতা না হলে তেলের দাম আবারও তিন অঙ্কে পৌঁছাতে পারে।


