ঢাকা () ,
শুভেচ্ছা বার্তা :
মেঘনা নিউজ-এর এক যুগে পদার্পণ উপলক্ষ্যে সকল পাঠক-দর্শক, প্রতিনিধি, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহযোগী, কলাকৌশলীসহ দেশ ও প্রবাসের সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
শিরোনাম

জাতীয় নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মূল্যায়ন কোথায় এবং একটি বিশ্লেষণ

রাজনীতি ২২ বার পঠিত

হোসাইন মোহাম্মদ দিদার, নিজস্ব সংবাদদাতা (দাউদকান্দি, কুমিল্লা) হোসাইন মোহাম্মদ দিদার, নিজস্ব সংবাদদাতা (দাউদকান্দি, কুমিল্লা) Clock বৃহস্পতিবার সকাল ০৮:০৭, ৩০ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু নেতা থাকেন, যাঁদের মূল্যায়ন কেবল একটি মন্ত্রণালয়, একটি সাংগঠনিক পদ কিংবা একটি সরকারি দায়িত্ব দিয়ে করা যায় না। তাঁদের রাজনৈতিক জীবন হয়ে ওঠে একটি দলের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাঁরা শুধু রাজনীতি করেন না বরং দলের সংকটে আশ্রয় দেন, দুঃসময়ে সাহস জোগান এবং নেতৃত্বের কঠিন সময়ে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেন। বিএনপির রাজনীতিতে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন তেমনই একজন বর্ষীয়ান নেতা।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই জ্যেষ্ঠ নেতার সাথে রাজনীতি করা বি. চৌধুরী, এম সাইফুর রহমান, মুস্তাফিজুর রহমান, ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম, কে এম ওবায়দুর রহমান, আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, ড. আর এ গণি ইন্তেকাল করেছেন। এর বাহিরেও রাজনৈতিক জুনিয়র ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকার, তরিকুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, আসম হান্নান শাহ ইন্তেকাল করেছেন। ধ্যান জ্ঞানহীন হয়ে অসুস্থ আছেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। দলের সর্বোচ্চ সিনিয়র নেতা একমাত্র ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বেঁচে আছেন।

 

বর্তমান স্থায়ী কমিটির সর্বজ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। পরবর্তী ক্রমান্বয়ে আছেন মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অনেকে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ যোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও অবদানে দলের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাঁদের রাজনৈতিক অবদানকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। বরং তাঁদের প্রত্যেককে তাঁদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার যথাযথ মর্যাদা দেওয়া একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলেরই বৈশিষ্ট্য।

 

কিন্তু একই সঙ্গে এটিও সত্য যে, সব নেতার রাজনৈতিক অবস্থান, জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের পরিধি এক নয়। তাই মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও স্বাভাবিকভাবেই ভিন্নতা থাকবে। আর সেই ভিন্নতার জায়গা থেকেই আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে তা হলো- বিএনপির সবচেয়ে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন কোন পদে সম্ভব?

 

মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খানকে পূর্ণমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যদিও মির্জা আব্বাস পূর্বে মন্ত্রী ছিলেন এবং নজরুল ইসলাম খান পূর্বে কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির ২০০১ সালের সরকারে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা এবং তিনি পূর্বে টেকনোক্রেট কোটায় প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তাঁরও মন্ত্রিত্ব বা সমমর্যাদার কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পাওয়ার দাবি রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট যৌক্তিক। অন্যদিকে ড. মঈন খানের মতো উচ্চশিক্ষিত, অভিজ্ঞ নেতাকে মন্ত্রী কিংবা সমমর্যাদার কোনো গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় দায়িত্বে বিবেচনা করার বিষয়টিও আলোচনার দাবি রাখে। তাকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় জাতীয় সংসদের উপনেতা করা যেতে পারে। অর্থাৎ দলের বর্তমান জ্যেষ্ঠ অনেক নেতাদের মূল্যায়ন হয়েছে এবং কেউ কেউ মূল্যায়িত হবেন এমন একটি কাঠামো ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। এখন প্রশ্নটি আরও গভীর যে, যাঁদের বিভিন্নভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে সবার জ্যেষ্ঠ, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং বহুবার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের জন্য সর্বোচ্চ সম্মানটি কোথায়?

 

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের দিকে ফিরে তাকাতে হবে। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কেবল বিএনপির একজন প্রবীণ নেতা নন। তিনি দলটির ইতিহাস ও বিকাশের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত একজন জাতীয় রাজনীতিক। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে দলের রাজনীতিতে তাঁর সম্পৃক্ততা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং তিনবারের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাও তাঁর রয়েছে। ২০১৪ সালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ থাকলে এবং ফ্যাসিস্ট আমলের সকল নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করে আসন না নিলে তিনি হতেন ৮ বারের এমপি। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় শুধু নির্বাচনী সাফল্য বা মন্ত্রিত্ব নয়। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দলের কঠিন সময়ে তাঁর স্থিরতা, প্রজ্ঞা এবং অভিভাবকসুলভ ভূমিকা।

 

রাজনীতিতে ক্ষমতা আসে, ক্ষমতা চলে যায়। মন্ত্রিত্ব আসে, মন্ত্রিত্ব শেষ হয়। সংসদীয় আসনও একসময় অন্য কারও দখলে যায়। কিন্তু একজন নেতার রাজনৈতিক মূল্যায়ন শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হয় তিনি তাঁর দল ও দেশের জন্য কতটা দিয়েছেন এবং সংকটের সময়ে কতটা দায়িত্ব পালন করেছেন তার ভিত্তিতে। এই মানদণ্ডে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের রাজনৈতিক জীবন নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী।

 

দলের সুসময় যেমন দেখেছেন, তেমনি দেখেছেন দুঃসময়ও। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, সাংগঠনিক সংকট এবং নেতৃত্বের কঠিন পরীক্ষার সময়েও তিনি দলের ঐক্য ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। একজন প্রবীণ নেতা হিসেবে বহুবার তাঁকে দলের অভিভাবকসুলভ ভূমিকায় দেখা গেছে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বিএনপির জন্য শুধু অতীতের সম্পদ নয়, এটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পুঁজি। এখানেই রাষ্ট্রপতি পদটির প্রসঙ্গ সামনে আসে।

 

রাষ্ট্রপতি পদ কোনো সাধারণ রাজনৈতিক পদ নয়। এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। একজন রাষ্ট্রপতির কাছে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র, সংবিধান ও জনগণের স্বার্থকে ধারণ করার প্রত্যাশা থাকে। তাই এই পদে এমন একজন ব্যক্তির প্রয়োজন, যাঁর রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, রাষ্ট্র পরিচালনার জ্ঞান, সাংবিধানিক বিষয়ে ধারণা, জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা।

 

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন বিবেচনায় নিলে এই প্রশ্নটি স্বাভাবিকভাবেই উঠতে পারে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তাঁকে বিবেচনা করা কি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদানের একটি যথার্থ স্বীকৃতি হতে পারে না?

 

আমার দৃষ্টিতে এটি শুধু একজন নেতাকে পদ দেওয়ার প্রশ্ন নয়। এটি একটি রাজনৈতিক দলের প্রবীণ নেতৃত্বকে কীভাবে সম্মান করা হয়, তারও একটি পরীক্ষা। দলের একজন নেতার রাজনীতির বয়স ৬৩ বছর, এরমধ্যে ছাত্র আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধে অবদান, ৪৮ বছর যাবত দলের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন; যদি তিনি একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য হন; যদি তিনি তিনবার পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন; যদি তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা নেতৃত্বের সময় থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন; যদি তিনি দুঃসময়ে দলের ঐক্য রক্ষায় ভূমিকা রাখেন তাহলে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন কী হওয়া উচিত, সেটি নিয়ে আলোচনা হওয়াই স্বাভাবিক।

 

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মতো একজন প্রবীণ নেতাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনা করা হলে সেটি কেবল ব্যক্তিগত সম্মান হবে না, এটি বিএনপির রাজনৈতিক পরিপক্বতারও বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। কারণ একটি দলের শক্তি শুধু তার তরুণ নেতৃত্বে নয়; তার প্রবীণ নেতৃত্বকে কতটা মর্যাদা দেওয়া হয়, তার মধ্যেও দলের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় নিহিত থাকে। যে দল তার প্রবীণ ও পরীক্ষিত নেতাদের সম্মান করতে জানে, সেই দল তার রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে সম্মান করতে জানে। আর যে দল তার রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে সম্মান করে, সেই দলই ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

 

আজ বিএনপির সামনে একটি বড় সুযোগ রয়েছে যে, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার। সেখানে প্রবীণ নেতৃত্বের মর্যাদা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদগুলোতেও যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও জাতীয় গ্রহণযোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি। এই বিবেচনায় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় আসা কোনো আবেগনির্ভর বিষয় নয় বরং এটি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্রীয় অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় পর্যায়ের ভূমিকার আলোকে একটি যৌক্তিক রাজনৈতিক আলোচনা। তাঁকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনা করা হলে বিএনপির জন্য আরও একটি ইতিবাচক বার্তা যাবে যে, দলটি তার প্রবীণ নেতাদের অবদানকে ভুলে যায়নি। বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও অবদানকে যথাযথ সম্মান দিতে জানে।

 

একজন নেতা যখন জীবনের সোনালি সময় রাজনীতির পেছনে ব্যয় করেন, তখন তাঁর প্রাপ্য শুধু একটি পদ নয়, প্রাপ্য সম্মান। আর সেই সম্মান যদি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে গিয়ে পৌঁছায়, তবে তা ব্যক্তির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকেও সমৃদ্ধ করে।

 

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের রাজনৈতিক জীবনের দিকে তাকালে তাই একটি প্রশ্ন অনিবার্যভাবেই সামনে আসে, তাঁকে মূল্যায়নের জন্য আর কতটা বড় পদ প্রয়োজন? মন্ত্রী একাধিকবার হয়েছেন। সংসদ সদস্যও হয়েছেন বহুবার। দলের বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছেন। দলীয় সংকটে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন। বয়স, অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক জ্যেষ্ঠতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা এসব মিলিয়ে তিনি এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছেন, যেখানে তাঁকে মূল্যায়নের প্রশ্নটি আর কেবল দলীয় পদ বা মন্ত্রিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। সেখানেই রাষ্ট্রপতি পদটি একটি স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ সম্ভাবনা হিসেবে সামনে আসে। অবশ্যই রাষ্ট্রপতি কে হবেন এটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর নির্ভরশীল একটি সিদ্ধান্ত। কিন্তু যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও জাতীয় গ্রহণযোগ্যতার বিচারে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনা করার দাবি যে রাজনৈতিকভাবে আলোচনার যোগ্য, তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। কারণ কিছু মানুষকে পদ দেওয়া হয়, আর কিছু মানুষ পদকে মর্যাদা দেন। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সেই শ্রেণির রাজনীতিক যাঁদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন একটি পদকে বড় করে তুলতে পারে।

 

তাই প্রশ্নটি এখন শুধু ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে কী পদ দেওয়া হবে? প্রশ্নটি হওয়া উচিত ছয় দশকের বেশি সময় ধরে দেশ, জাতি ও দলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা একজন বর্ষীয়ান জাতীয় নেতার প্রাপ্য সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানটি কী?

 

সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে রাষ্ট্রপতি পদটির নাম সামনে আসা খুবই স্বাভাবিক। আর যদি একদিন সত্যিই তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত করা হয়, তবে সেটি শুধু ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ব্যক্তিগত সম্মান হবে না এটি হবে দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার প্রতি রাষ্ট্রের সম্মান। একই সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও প্রবীণ নেতৃত্বের প্রতিও একটি ঐতিহাসিক স্বীকৃতি।

 

লেখকঃ 

মো. হাবিবুর রহমান 

আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক




শেয়ার করুন


মেঘনা নিউজ-এ যোগ দিন

Meghna Roktoseba

Emergency Relief Fund - As-Sunnah Foundation




এক ক্লিকে জেনে নিন বিভাগীয় খবর



© মেঘনা নিউজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by ShasTech-IT