দাউদকান্দিতে প্রবাসীর জায়গা দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর কাজ বন্ধ
স্টাফ রিপোর্টার
সোমবার সকাল ০৮:৪৪, ৬ জুলাই, ২০২৬
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের নন্দনপুর গ্রামে ইতালি প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলমের চলাচলের রাস্তা দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের পর বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশের পর পুলিশ গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা হাছিনা আক্তার তার স্বামী ইতালি প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে কুদ্দুছ মিয়া, তার ছেলে মোক্তার, ইকবাল, মামুনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, কুমিল্লার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আদালতের আদেশ অমান্য করে কোনো পক্ষ শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য দাউদকান্দি মডেল থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার সকালে দাউদকান্দি মডেল থানার এএসআই সেলিম আহমেদ ঘটনাস্থলে গিয়ে চলমান নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।
শনিবার বিকেলে সরেজমিনে নন্দনপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কুদ্দুছ মিয়ার বাড়ির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে এবং আদালতের স্থগিতাদেশ কার্যকর রয়েছে।
প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী হাছিনা আক্তার অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে রয়েছেন। এতে তাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
ইতালি প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবার চালাচ্ছি। দেশে থাকা আমার সম্পত্তি ও চলাচলের রাস্তা দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আমাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাই, আদালতের আদেশ কার্যকর রেখে আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রদান করা হোক।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোক্তার হোসেন বলেন, “আমরা আমাদের নিজস্ব সম্পত্তির মধ্যেই বাড়ি নির্মাণ করছি। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।”
এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার এএসআই সেলিম আহমেদ বলেন, “বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে আদালতের আদেশ সম্পর্কে অবহিত করি এবং বিরোধপূর্ণ স্থানে চলমান নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিই। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে সেখানে স্থিতাবস্থা বজায় রয়েছে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


