দাউদকান্দি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় কাউন্সিলর সালাউদ্দিন সরকার
স্টাফ রিপোর্টার
সোমবার সকাল ০৮:৪৬, ৬ জুলাই, ২০২৬
ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক সক্রিয়তায় নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক দাউদকান্দি পৌর বিএনপির আসন্ন কাউন্সিলকে ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কারা নেতৃত্বে আসবেন, তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
এরই মধ্যে সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে দাউদকান্দি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের (দোনারচর-সবজিকান্দি) দুইবারের সাবেক কাউন্সিলর, বিএনপির দুঃসময়ের নেতা ও পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন সরকারের নাম।
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত সালাউদ্দিন সরকার দলীয় দুঃসময়ে মাঠে সক্রিয় থাকার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত মুখ। রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, নেতাকর্মীদের পাশে থাকা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিমত।
বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সম্মুখসারিতে থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তার সাংগঠনিক সক্ষমতা ও সাহসিকতা নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই সময় নানা ঝুঁকি উপেক্ষা করে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করায় দলের অনেক নেতাকর্মী তাকে “দুঃসময়ের পরীক্ষিত নেতা” হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় সালাউদ্দিন সরকার কখনো সুবিধাবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাস করেননি। ক্ষমতার বাইরে থাকা সময়েও তিনি দল ছেড়ে যাননি কিংবা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েননি। বরং প্রতিকূল পরিবেশেও দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া এবং সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখতে নিরলস কাজ করে গেছেন।
পৌর বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সাধারণ সম্পাদক এমন একজন হওয়া প্রয়োজন, যিনি মাঠের রাজনীতি বোঝেন, কর্মীদের মূল্যায়ন করেন এবং সংকটের সময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারেন। সালাউদ্দিন সরকার সেই গুণাবলি ধারণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন।”
আরেকজন প্রবীণ নেতা বলেন, “দলের দুঃসময়ে যাদের পাওয়া গেছে, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তাদেরই মূল্যায়ন হওয়া উচিত। সালাউদ্দিন সরকার সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা পৌর বিএনপিকে আরও গতিশীল করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
তরুণ নেতাকর্মীদেরও অনেকে মনে করেন, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে ত্যাগ, গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, সালাউদ্দিন সরকার প্রবীণ ও তরুণ উভয় প্রজন্মের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমানভাবে কাজ করতে পারেন, যা তাকে সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য শক্তিশালী দাবিদারে পরিণত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দাউদকান্দি পৌর বিএনপির আসন্ন কাউন্সিল হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতৃত্বই ভবিষ্যতের সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং স্থানীয় রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফলে সাধারণ সম্পাদক পদে এমন একজন নেতাকে বেছে নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন অনেকে, যিনি সাংগঠনিকভাবে দক্ষ, পরীক্ষিত এবং কর্মীবান্ধব।
যদিও সাধারণ সম্পাদক পদে আরও কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে, তবে তৃণমূল পর্যায়ে সালাউদ্দিন সরকারকে ঘিরে আলোচনা ও সমর্থনের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় তার কর্মীসমর্থকরা ও নেতাকর্মীরা।
এদিকে সালাউদ্দিন সরকারের ঘনিষ্ঠরা জানান, তিনি ব্যক্তি নয়, দলকে শক্তিশালী করাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। কাউন্সিলে নেতাকর্মীরা দায়িত্ব দিলে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করতে কাজ করবেন বলেও তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
এখন দাউদকান্দি পৌর বিএনপির কাউন্সিলর ও ডেলিগেটরা শেষ পর্যন্ত কাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বেছে নেন, সেটিই দেখার অপেক্ষা।


