মিরপুর হত্যা মামলা — সাবেক ডিজিএফআই প্রধান মামুন খালেদ ৫ দিনের রিমান্ডে
আরিফুল ইসলাম
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ০৬:৩৬, ২৬ মার্চ, ২০২৬
রাজধানীর আলোচিত এক হত্যা মামলায় নতুন মোড়—সাবেক গোয়েন্দা প্রধান এখন তদন্তের কেন্দ্রে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিদ্দিক আজাদের আদালতে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। আদালতকক্ষের পরিবেশ ছিল টানটান—রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের তর্ক-বিতর্কে উঠে আসে মামলার নানা দিক।
তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান পাখি রিমান্ড বাতিলের দাবি জানান। শুনানি শেষে বিচারক উভয়পক্ষের বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে, বুধবার গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে শেখ মামুন খালেদকে গ্রেফতার করা হয়। এই গ্রেফতার ঘটনাটিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।
মামলার তথ্যে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ৫০০ থেকে ৭০০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি বিভিন্ন দিক থেকে গুলি ছোড়ে। এতে দেলোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হন।
প্রথমে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়, পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর ২১ জুলাই সকালে তার মৃত্যু হয়।
এই রিমান্ড আদেশের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্তে নতুন গতি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন নজর তদন্তকারীদের ওপর—এই আলোচিত ঘটনায় আর কী কী তথ্য সামনে আসে, সেটিই দেখার বিষয়।


