ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মধ্যরাতের আগেই বরিশাল উপকূল অতিক্রম করতে পারে, বিদ্যুৎ-ইন্টারনেট বন্ধ
নিজস্ব প্রতিনিধি
সোমবার রাত ০৮:৪৯, ২৪ অক্টোবর, ২০২২
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবিলায় বরিশালসহ দক্ষিণ উপকূলের সর্বত্র ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন আজ সোমবার বিকেলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করেছে। দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির স্বেচ্ছাসেবকেরা সংকেত প্রচার এবং চর ও দূরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজনকে সরিয়ে আনার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। এরই মধ্যে বেশ কিছু এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হয়েছে।
সকাল থেকে টানা মাঝারি বর্ষণে বিভাগের অনেক জেলা ও উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বরিশালেও সকাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ফোন, ইন্টারনেট যোগাযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে জরুরি রোগীদের অস্ত্রোপচার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের সভাপতিত্বে বিকেলে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জানানো হয়, বরিশাল জেলায় ৫৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেখানে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী (শুকনা খাবার, সুপেয় পানি), মোমবাতি, ওষুধপত্রের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন-সরঞ্জামাদিসহ প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার সব স্থানে মাইকিং ও আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
বিভাগের অন্য পাঁচ জেলাতেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে এবং সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বেলা তিনটায় বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. আমিন উল আহসানের সভাপতিত্বে প্রস্তুতি সভায় বিভাগের জেলা প্রশাসকেরা অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন। সভায় ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি এবং উদ্ধার তৎপরতায় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেন বিভাগীয় কমিশনার। একই সঙ্গে তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
এদিকে বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলা সদরে সকাল থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এই দুই জেলার অনেক উপজেলায় বিদ্যুৎ নেই গতকাল রোববার রাত থেকে। ফলে এসব এলাকার ফোন, ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালগুলোয় জরুরি রোগীদের অস্ত্রোপচার ব্যাহত হচ্ছে। আজ দুপুরে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানসুরা বেগম নামের এক জরুরি প্রসূতি রোগীকে টর্চলাইট জ্বেলে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে চিকিৎসকদের। হাসপাতালের গাইনিবিশেষজ্ঞ জাকিয়া সুলতানা, তানিয়া আফরোজ, ফেরদৌসী আক্তার, অবেদনবিদ হাবিবুর রহমান ও ইন্টার্ন চিকিৎসক আল ইমরান ওই প্রসূতির অস্ত্রোপচার করেন।
ওই প্রসূতির পর্যবেক্ষণে থাকা হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক মেহেদী হাসান বলেন, ‘ওই প্রসূতির অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল ছিল। দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে তাঁর নিজের ও সদ্যোজাত শিশু—দুজনের জীবনই বিপন্ন হতে পারত। এ জন্য আমরা দ্রুত দুই ব্যাগ রক্ত জোগাড় করে তাঁকে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিই। বিদ্যুৎ না থাকায় টর্চলাইট জ্বেলে এ অস্ত্রোপচার করা হয়।’
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, সিত্রাং বড় আকারের ঘূর্ণিঝড়। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব অনেক বেশি হতে পারে। এ জন্য তারা তিনটি কারণের কথা বলছে। কারণ তিনটি হলো ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ, অমাবস্যা তিথি ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্য। তবে আগাম বৃষ্টির কারণে এর শক্তি অনেকটা ক্ষয় হতে পারে। এতে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় সম্ভাব্য বড় তাণ্ডবের শক্তি হারাতে পারে।
বরিশাল আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ঝড়টি উপকূলের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। প্রবল বর্ষণের কারণে এটা স্থলভাগ অতিক্রমের সময় কেন্দ্রের বাতাসের গতি কিছু হলেও কমে যাবে। তবে ঝড়টি মধ্যরাতের আগেই বরিশাল উপকূলের স্থলভাগ অতিক্রম করতে পারে।


