মঙ্গলবার , ১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং
শিরোনাম :
কুড়িগ্রামে মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম’র দ্বি-বার্ষিক কমিটি গঠন আসিফ হত্যার বিচারের দাবীতে উলিপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল ফুলবাড়ীতে দর্জি বিজ্ঞান ও বুটিক্স প্রশিক্ষণের উদ্বোধন রাণীনগরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎযাপিত নওগাঁয় টেন্ডারের আগেই হাসপাতালের মালামাল বিক্রির অভিযোগ, জনতার হাতে আটক গাইবান্ধায় স্কুলছাত্রী অপহরণের ১সপ্তাহ পর উদ্ধার, আটক ১ মৌলভীবাজারে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসি বাংলাদেশির মৃত্যু শিবচর উপজেলায় পালিত হলো আওয়ামী যুবলীগের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পাহাড়ে সংঘাত বন্ধের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছে ইউপিডিএফ
পুলিশ-ছাত্রলীগের হামলায় উত্তাল ঢাবি

পুলিশ-ছাত্রলীগের হামলায় উত্তাল ঢাবি

পুলিশ-ছাত্রলীগের হামলায় উত্তাল ঢাবি

পুলিশ-ছাত্রলীগের হামলায় উত্তাল ঢাবিকোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের যৌথ হামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় হামলায় সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের মধ্যে পুলিশ পাঁচজন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানোর পর এই সব ঘটনা ঘটে। এখনো পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা ধরেননি।

পুলিশের বিশেষ শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আন্দোলনকারীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে রাস্তা বন্ধ করে রেখেছিল। এতে জনগণের ক্ষতি হচ্ছিল। পরে তাদের তুলে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের অন্য একটি সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের ওপর প্রায় ৩০ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, পুলিশের হামলায় তাদের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে পুলিশ ১০ জনের মতো শিক্ষার্থীকে আটক করে।
এ সময় শাহবাগের দিক থেকে পুলিশের হামলার মধ্যে বিপরীত দিক থেকে (টিএসসি) আন্দোলনকারীদের ওপর তাণ্ডব চালায় ছাত্রলীগ। ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ভাসমান দোকান-পাটগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের ধাওয়ার মধ্যে পড়েন বহু পথচারী। এ সময় চলমান গাড়িগুলোতে আটকেপড়া যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই দিশেহারা হয়ে দৌঁড়াদৌঁড়ি করতে গিয়ে আহত হয়েছেন।
এই ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা স্লোগানে স্লোগানে বলতে থাকে- ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না,’ ‘পুলিশ তুমি যতই মারো, মাইনে তোমার বাড়বে না’, ‘বাড়ছে মিছিল, বাড়ছে ভিড়, উঁচিয়ে লাঠি পারবে না,’ ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় কোটা বৈষম্যের ঠাঁই নাই।’
আন্দোলনের সমন্বয়কারী হাসান আল মামুন বলেন, ‘এই পর্যন্ত ১৫০ জন আন্দোলনকারী ছাত্র রাবার বুলেট আর টিয়ারশেলের আঘাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
হাসান আল মামুন বলেন, ‘এক ছাত্রের চোখ নষ্ট হয়ে গেছে বোধ হয়। এটা অন্যায়। এভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নির্যাতন চালানো কখনোই কাম্য নয়।’
মামুন আরো বলেন, ‘আগামীকাল সকাল থেকেই আমরা সবাই মিলে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে দেব। আমাদেরকে আশ্বস্ত না করা পর্যন্ত আমরা আর ঘরে ফিরব না। এভাবেই চলতে থাকবে। দেখি কখন তারা আমাদের দাবি মেনে নেয়।’
সরেজমিনে জানা যায়, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হয়। পরে আন্দোলনকারীরা দুপুর আড়াইটায় ঢাবি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি ঢাবির রাজু ভাস্কর্য, নীলক্ষেত, কাঁটাবন হয়ে শাহবাগ মোড়ে আসে। এ সময় আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনের ফলে এ রাস্তা ও তার আশপাশের রাস্তাগুলোতে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সন্ধ্যা পর্যন্ত এ অবস্থায় থাকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাসের একাধিক শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় ছেড়ে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের রাস্তা, গণগ্রন্থাগারের সামনেসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় এবং পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছিল।
কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন চলে আসছে। ওই আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১৪ মার্চ ৫ দফা দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দিতে সচিবালয় অভিমুখে যেতে চাইলে পুলিশি ধরপাকড় ও আটকের শিকার হয় তিন আন্দোলনকারী। এরপর আরো বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে রাস্তায় নামে আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবি হলো- সরকারি নিয়োগে কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগপরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করা।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




এক ক্লিকে জেনে নিন বিভাগীয় খবর

©মেঘনা নিউজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by Ateam IT Solution