ঢাকা (সকাল ১০:০৯) বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম
Meghna News ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়ি বাঁধগুলো এখনো সংস্কার হয়নি, দুর্ভোগে উপকূলবাসী Meghna News কোটা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত আবু সাঈদ চিরনিদ্রায় শায়িত Meghna News চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাহাঙ্গীর সেতু বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ Meghna News গৌরীপুর পৌরসভায় নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের মত-বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Meghna News ধর্মপাশা উপজেলা প্রবাসী কল্যাণ সমিতি বিশ্বব্যাপী’র নবগঠিত কমিটির মিটিং অনলাইনে সম্পন্ন Meghna News সাঘাটায় বন‍্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে গো- খাদ্য বিতরণ Meghna News তোমাদের থেকেই একদিন আগামীর প্রধানমন্ত্রী হবে : শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এমপি সবুর Meghna News গোলাপগঞ্জ হেমিগঞ্জ দেওয়ান সড়কের বেহাল দশা, দেখার কেউ নেই!! Meghna News সিলেটে চতুর্থ দফায় বন্যার আশষ্কা!! ১২ ঘন্টায় ৭১.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত Meghna News দাউদকান্দিতে মিনি বার ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন সাহাপারা একাদশ

ড্রেনেজ সংস্কারের নামে সিসিকের প্রায় ১১শ কোটি টাকা জলে!

ড্রেনেজ সংস্কারের নামে সিসিকের প্রায় ১১শ কোটি টাকা জলে!



প্রতি বছর সিলেট সিসিকের ড্রেনেজ সংস্কারের নামে অলি গলিতে খোঁড়াখুঁড়ি। প্রতিদিন নগর উন্নয়নের নামে জানজট লেগেই থাকে। সিলেট সিটি করর্পোরেশন আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মেয়র নির্বাচত হওয়ার পর নানা পরিকল্পনাই থেকে যায় কাগজে কলমে। আর খোঁড়াখুঁড়িতে বছর চলে যায়। সিলেটে সিটির নির্বাচিত প্রত্যেক মেয়র বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন জলাবদ্ধতার।

কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যয় করছেন শত-শত কোটি টাকা, এতে দুর্ভোগ দূর না হয়ে, বেড়েছে আরও কয়েকগুণ ভূগান্তী। বিপুল ভোটে বিজয়ী আওয়ামীলীগ মনোনীত বর্তমান মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সিলেট সিটিকে স্মার্ট নগরী হিসেবে ঘোষণা দিলে জলাবদ্ধতা নিরসনে সিলেট সিসিকের মেয়র ব্যর্থ হিসেবে মনে করছেন নগরীর জনসাধারণ।

গত ১৪ বছরে সিলেট শহরে বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারের নামে প্রায় ১১শ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু সিলেটবাসী গত কয়েক বছরের মতো কখনও পাহাড়ি ঢল, কখনও ভারী বৃষ্টিতেই ডুবে যাচ্ছে। এ বছরও ডুবেছে। এতে ক্ষুব্ধ নগরবাসী।

আর তাদের ক্ষোভের কারণ, সিলেট শহরজুড়ে গত ১৪ বছর ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারের কাজ চলছে। বিপুল অর্থব্যয়ের পরও সেই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কাজে লাগছে না। ভারী বৃষ্টি হলেই ডুবে যাচ্ছে এ সিলেট নগরী।

সিলেটে ২০২৪ এ বছরের জলাবদ্ধতার চিত্র হচ্ছে, আগের সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় রেমাল আঘাত হানার পর এটি স্থল নিম্নচাপ হয়ে সিলেট এলাকার ওপর দিয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করে ভারতের আসাম চলে যায়, তখন পুরো সিলেট অঞ্চল ও আসামজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়। আসাম থেকে অপেক্ষাকৃত নিচু সিলেট ও আশপাশের জেলাগুলোতে সেই ঢলের পানি নেমে আসে। ফলে সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জের হাওর ও অন্য নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে যায়। সেই পানি পড়ে সরে আসে আরও উজানে সিলেট নগরীতে। প্লাবিত হয় সিলেট নগরী। তবে এই জলাবদ্ধতা কাটার আগেই ১৬ জুন রোববার থেকে ১৪৭ জুন সোমবার পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে পুরোপুরি ডুবে যায় সিলেট নগরী। বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় নগরীর শতাধিক এলাকা। পানি ঢুকে পড়ে বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে। এমনকি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়ও পানি ঢুকে পড়ে। বাসা বাড়িতে মানুষের মাঝে ঈদ আনন্দ ব্যস্ত যায়।

সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, জলাবদ্ধতা নিরসনে গত ১৪ বছরে ১ হাজার ৭৮ কোটি টাকার কাজ করেছে সিটি করর্পোরেশন। এর বাইরে ২০২৪র্ই চলতি বছর তিনটি ড্রেন নির্মাণে খরচ হয় সাড়ে ৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি আরও ৫৫ কোটি টাকার কাজ চলছে। সম্প্রতি ৩০০ কোটি টাকার আরও কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদন হয়। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সুরমা নদীর নগরীর অংশ খননে গত দেড় বছরে খরচ করছে ৫৫ কোটি টাকা।

এত টাকা ব্যয় করার পরও কেন ভারী বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যাচ্ছে সিলেট নগরী- এমন প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্প গুলোর স্বচ্ছতা আর পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন ভূমিসন্তান বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক আশরাফুল কবির এ জন্য দায়ী করছেন অপরিকল্পিত উন্নয়নকে। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যাপক কাজ করা হয়েছে। বছরের পর বছর নগরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে। কিন্তু এসব হয়েছে অপরিকল্পিত ভাবে। নগরের ছড়া খাল ও দিঘি ভরাট করে ফেলা হয়েছে। বড় বড় ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির পানি সড়ক থেকে ড্রেনে নামার মতো যথেষ্ট জায়গা নেই। পানি নামার জন্য ড্রেনে কিছু গর্ত রাখা হলেও তা ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। এ কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না।

সিলেট সিটি করর্পোরেশন বলছে, সুরমা নদী পানিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় নগরের বৃষ্টির পানি নামতে পারেনি। এ কারণে জলমগ্ন হয়ে পড়ে নগরী। তবে তা মানতে নারাজ নগরীর বাসিন্দারা। নগরীর শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ১৬ জুন রোববার ও ১৭ জুন সোমবার সিলেটে যে পানি হয়েছে এটা বন্যা নয়, এটা জলাবদ্ধতা।

সিলেট (সিসিক) সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরীর ছোট-বড় মিলিয়ে ১১টি ছড়া প্রবাহমান। এসব ছড়ার ১৬টি শাখা ছড়াও আছে। এসব ছড়া-খাল সুরমা নদীতে গিয়ে মিশেছে। ছড়া-খাল গুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ১১০ কিলোমিটার। এর বাইরে নালা-নর্দমা আছে ৯৭০ কিলোমিটার। নালা-নর্দমায় প্রায় সাড়ে ৬শ কিলোমিটার পাকা ড্রেন আছে।

সিটি করর্পোরেশনের প্রকৌশল শাখা জানিয়েছে, ২০০৯ সালের পর থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ছড়া খনন, ছড়ার পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রিটেনিং ওয়াল নির্মাণ, ইউটাইপ ড্রেন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ, নালা-নর্দমা প্রশস্তকরণসহ জলাবদ্ধতা নিরসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পে ১ হাজার ৭৮ কোটি টাকা ব্যয় করেছে সিটি করর্পোরেশন। চলতি বছর একই খাতে সাড়ে ৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডে আরও প্রায় ৫৫ কোটি টাকার কাজ চলছে।

এর বাইরে নগরীর নতুন ভাবে অন্তর্ভুক্ত ১৫টি ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৩০০ কোটি টাকার কয়েকটি প্রকল্প সম্প্রতি অনুমোদন হয়। টাকা বরাদ্দ পেলেই এ কাজ দ্রুততার সঙ্গে শুরু হবে।

এসব প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহুমদ চৌধুরী বলেন, সঠিক ভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নগরবাসীকে এই দুর্ভোগ পোহাতে হতো। সরকার বরাদ্দ দিলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন যথাযথ ভাবে হয়নি। এসব টাকায় কী কী কাজ হয়েছে তা নগরবাসীর কাছে প্রকাশ করা দরকার।

তবে বাস্তবায়িত প্রকল্পের অনেক সুফল মিলছে দাবি করে সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, এখন আর আগের মতো জলাবদ্ধতা হয় না। তাছাড়া পানি জমলেও বৃষ্টি থামলে তা দ্রত নেমে যায়।

১৬ জুন রোববার ও ১৭ জুন সোমবার এর জলাবদ্ধতাকে ব্যতিক্রম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি হয়েছে বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে। বন্যায় সবগুলো ড্রেন ও ছড়া আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। নদীও পানিতে টুইটুম্বুর। তাই বৃষ্টির পানি জমে গেছে। আমরা ড্রেন ও ছড়া পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেছি। এক্ষেত্রে নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। ময়লা-আবর্জনা যেখানে- সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে, ড্রেনে কিছুতেই ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পেতে সুরমা নদী খনন ও শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি। এ নিয়ে সিটি করর্পোরেশন কাজ করছে।

শেয়ার করুন

GloboTroop Icon
পাঠকের মতামত

Meghna Roktoseba




এক ক্লিকে জেনে নিন বিভাগীয় খবর




© মেঘনা নিউজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by ShafTech-IT