সোমবার , ৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম :
মোট আক্রান্ত

২০,০৬,৬৪৬

সুস্থ

১৯,৪৫,৮২৯

মৃত্যু

২৯,৩০০

৪ আগস্ট, ২০২২ | ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর

আমের কেজি ৩ টাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জে;যাচ্ছে রাজধানী ঢাকায়

<script>” title=”<script>


<script>

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে গ্রীষ্ম মৌসুমের সুমিষ্ট ও লোভনীয় ফল ঢলের রাজা আম। জেলার সদর, শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলার ওপর দিয়ে গত সোমবার (১৬ মে) মধ্যরাতে বয়ে যাওয়া ঝড়বৃষ্টিতে ঝড়ে পড়া আম এই দামে বিক্রি হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এই চিত্র। গ্রাম থেকে স্বল্প মূল্যে বিক্রি হওয়া আমগুলো কিনে বস্তা ভর্তি করে আড়তে নেয়ার পর পাঠানো হচ্ছে রাজধানী ঢাকায়।

ঝড়ে পড়া আমগুলোর সিংহভাগই অপরিপক্ক। ছোট ও মাঝারি সাইজের এসব অপরিপক্ক আম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ২০০ টাকা মণ দরে। গ্রামের নারী-পুরুষ ও কিশোর-কিশোরীর ঝড়ে কুড়ানো এসব আম পাইকারী ব্যবসায়ীরা কিনে আড়তে নিয়ে যান। পরে আড়ত থেকে কিনে ট্রাক যোগে এসব আম যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

সদর উপজেলার মহিপুর বাজার, শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি, নাচোল উপজেলার মল্লিকপুর, গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের মকরমপুর ব্রিজ, কাঞ্চনতলা, বোয়ালিয়া বাজার, ঘাটনগর ও মিনিবাজার মোড়ে গ্রাম থেকে কিনে জড়ো করা হয় আম। এরপর বস্তায় ভর্তি করে রাতে ট্রাকযোগে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে।

আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা জানান, গত সোমবার মধ্য রাতে ব্যাপক কালবৈশাখী ঝড়বৃষ্টি হয়। এ সময় গাছ থেকে ব্যাপক অপরিপক্ক আম ঝরে পড়ে। এসব আম গ্রামের মানুষজন বাগান থেকে কুড়িয়ে ৩ থেকে ৫ টাকা দরে বিক্রি করে। আমের জাত ভেদে একেক রকম দামে বিক্রি হয়েছে এসব আম। ফসলী আম ৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও অন্যান্য গুটি জাতের আম বিক্রি হয় ৩ টাকা কেজি দরে।

নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামের আমচাষী আল আমিন বলেন, প্রায় ৭ বিঘা জমিতে মাঝারি সাইজের ৫৭টি আম গাছ রয়েছে। এসব গাছে আশ্বিনা, ফজলী, ক্ষিরসাপাত ও লক্ষণভোগ জাতের আম ছিলো। হঠাৎ সোমবার রাতে বৃষ্টির সাথে ব্যাপক ঝড় হয়। এতে অনেক আম পড়ে নষ্ট হয়। এসব আম গ্রামের অনেকেই কুড়িয়ে ৩ থেকে ৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছে।

সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুর গ্রামের সাইদুল ইসলাম জানান, রাতের ঝড়ে চার বস্তা আম কুড়িয়েছিলাম। তিন টাকা কেজি করে এসব আম বিক্রি করেছি। বাড়িতে কিছু ফজলী আম রেখে সবগুলো বিক্রি করেছি। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬শত টাকার আম বিক্রি করেছি।

গোমস্তাপুর উপজেলার বেলাল বাজার এলাকার জুলকার বলেন, রাতের ঝড়ে ১০ মণ আম কুড়িয়েছিলাম। তবে আম কিনে নেয়ার মানুষ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরে জানতে পারলাম পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসেছে আম কিনবে বলে। তাই তাদের কাছে ৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে দিলাম। তারা আমের মৌসুমে প্রত্যেক ঝড়ের পর আম কিনে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে পাইকারী ব্যবসায়ী তহরুল ইসলাম জানান, ঝড়ে পড়া আম তেমন কোন কাজে লাগে না। তাছাড়া এখনকার আমগুলো পরিপক্ব নয়। তাই আচার করে অনেকেই। তবে অনেক বেশি আম হওয়ার কারনে বাধ্য হয়েই বিক্রি করতে হয়। আমরাও কম দামে এসব আম পাই-। পরে এগুলো ট্রাকে করে রাজধানী ঢাকায় পাঠিয়ে দিই। ঢাকায় এসব আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মঙ্গলবার ২ ট্রাক আম কিনেছি।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ও রাতে দুটি ট্রাক আম ভর্তি করে ঢাকায় রওনা দিয়েছে। এখানে ১১০ থেকে ২০০ টাকা মন দরে কিনলেও ঢাকায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মন দরে বিক্রি হবে। তবে আমের জাত হিসেবে দাম ভিন্ন আছে যেমন আশ্বিনা, লক্ষণভোগ ও গুটি জাতের আম ৩ থেকে ৪ টাকা আর ফজলি আম ৫ টাকা কেজি দরে ক্রয় করেছি।

আরেক পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুল মাজেদ বলেন, ঝড়ে পড়া আme দাগ পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। তাই বেশিরভাগ সময় আম পরিপক্ব থাকলেও তা স্থানীয় জুস ফ্যাক্টরিতে চলে যায়। তবে এখন যেহেতু আমগুলো অপরিপক্ক হয়ে আছে তাই জুসের পাল্প করা যাবে না। আর তাই কম দামে কিনে ট্রাকে করে ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছি। সেখানে অনেকেই এই আমের আচার ও রান্না করে খাওয়ার কাজে কিনে নেয়।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, সোমবার রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। তবে গোমস্তাপুরে এই ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি। ঝড়ে আম ও লিচুর অনেক ক্ষতি হয়েছে। অনেক অপরিপক্ক আম গাছ থেকে ঝড়ে পড়েছে। এসব আম তেমন কোন কাজে না আসায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষাবাদ হয়েছে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ লক্ষ গাছ। চলতি মৌসুমে কৃষি বিভাগ জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার মেট্রিক টন। গত বছর জেলায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আড়াই লক্ষ মেট্রিক টন এবং তার আগের বছর ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে ২ লক্ষ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়েছিল।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

GloboTroop Icon
পাঠকের মতামত

ই-মেইলে সর্বশেষ সংবাদ

বিনামূল্যে সর্বশেষ সংবাদ সরাসরি আপনার ই-মেইলে পেতে আজই সাবস্ক্রাইব করুন!

তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক।
আমাদের গোপনীয়তার নীতি




এক ক্লিকে জেনে নিন বিভাগীয় খবর




করোনা তথ্য
দেশে আক্রান্ত
২০,০৬,৬৪৬
৪ আগস্ট, ২০২২
করোনা তথ্য
দেশে সুস্থ
১৯,৪৫,৮২৯
আগস্ট ৪, ২০২২
করোনা তথ্য
দেশে মৃত্যু
২৯,৩০০
আগস্ট ৪, ২০২২
করোনা তথ্য
বিশ্বে মৃত্যু
৬৪,২৮,৪৪৪
আগস্ট ৪, ২০২২
করোনা তথ্য
বিশ্বে আক্রান্ত
৫৮,৫৬,২৫,৭২৯
আগস্ট ৪, ২০২২
©মেঘনা নিউজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত