হাওর-জলাভূমি রক্ষায় নতুন আইন: সংসদে পাস ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬’
আরিফুল ইসলাম
মঙ্গলবার দুপুর ০২:৩০, ৭ এপ্রিল, ২০২৬
দেশের হাওর ও জলাভূমি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬’। এই আইনে বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জেল-জরিমানার কঠোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বিলটি উত্থাপন করেন। পরে স্পিকার বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে অনুমোদন পায়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে মন্ত্রী জানান, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর ও জলাভূমি এলাকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আওতায় অবকাঠামো উন্নয়ন, সেচব্যবস্থা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন এবং কৃষি সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৭ সালে ‘হাওর উন্নয়ন বোর্ড’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অঞ্চলের উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে ২০১৬ সালে গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদফতর গঠন করা হয়। তবুও অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, নদীপথে প্রতিবন্ধকতা, বিষ ও কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং পর্যটনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর আইনি কাঠামোর অভাব ছিল।
মন্ত্রী আরও জানান, সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া ২০২০ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) দায়ের করা একটি রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট দ্রুত জলাভূমি সংরক্ষণ আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে, যা হাওর ও জলাভূমির পরিবেশ, প্রতিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। তবে এর বাইরে অতিরিক্ত শাস্তির বিধান রাখা হয়নি।


