ডিপ স্টেট নিয়ে রহস্য: কাদের ইঙ্গিত করলেন আসিফ মাহমুদ
আরিফুল ইসলাম
শনিবার দুপুর ০১:০০, ২৮ মার্চ, ২০২৬
রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। ‘ডিপ স্টেট’ নিয়ে তার সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে এখন প্রশ্নের পর প্রশ্ন—কারা এই অদৃশ্য শক্তি, আর কী চেয়েছিল তারা?
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা দাবি করেছেন, তাদের দায়িত্ব পালনকালে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী—যাদের তিনি ‘ডিপ স্টেট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন—সরকারকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সেই গোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট পরিচয় প্রকাশ করতে তিনি অনাগ্রহী। তার ভাষায়, এই ‘ডিপ স্টেট’-এ দেশি-বিদেশি একাধিক পক্ষ জড়িত ছিল।
বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আসিফ মাহমুদ জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম কয়েক মাসেই বিভিন্ন আলোচনার মাধ্যমে এই প্রস্তাব আসে। শর্ত ছিল—কিছু নির্দিষ্ট স্বার্থ রক্ষা করতে হবে, আর বিনিময়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার পথ সহজ করে দেওয়া হবে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, একটি সুপরিকল্পিত কৌশলও উপস্থাপন করা হয়েছিল। যেমন—বিরোধী দল বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো দীর্ঘায়িত করে তাদের নির্বাচনের বাইরে রাখা। এমনকি তারেক রহমান-এর মতো নেতাদের ক্ষেত্রেও একই কৌশল প্রয়োগের কথা বলা হয়েছিল, যাতে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন।
তবে এসব প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার। আসিফ মাহমুদ জোর দিয়ে বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা। সেই কারণেই তারা ক্ষমতায় দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা প্রত্যাখ্যান করে এবং শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজনের পথ সুগম করে।
যদিও ‘ডিপ স্টেট’ কারা—সে প্রশ্ন এখনও অনুত্তরিত। এই বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নাম প্রকাশ করেননি তিনি বা সরকারের অন্য কোনো সাবেক উপদেষ্টা। ফলে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘ডিপ স্টেট’ বলতে সাধারণত এমন এক প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে বোঝানো হয়, যারা আনুষ্ঠানিক ক্ষমতার বাইরে থেকেও রাষ্ট্রের নীতি ও সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে সক্ষম।


