স্বাধীনতা দিবসে প্যারেড গ্রাউন্ডে গর্বের আবহ — ১৮ বছর পর বর্ণিল কুচকাওয়াজ
আরিফুল ইসলাম
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ০৬:৪৪, ২৬ মার্চ, ২০২৬
রাজধানীর আকাশজুড়ে দেশপ্রেমের রঙ, মাটিতে শৃঙ্খলার ছন্দ—মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ। দীর্ঘ ১৮ বছর পর ফিরে আসা এই আয়োজন যেন নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল জাতির গৌরবময় ইতিহাস ও সামরিক সক্ষমতার দৃঢ়তা।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলিটারি পুলিশের সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রায় প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্যারেড গ্রাউন্ডে তখন উৎসবমুখর পরিবেশ—উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক এবং অসংখ্য দর্শক। জাতীয় সংগীতের সুরে মুখরিত হয় পুরো এলাকা, এরপর সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে প্রদান করা হয় গার্ড অব অনার।
খোলা জিপে চড়ে প্যারেড পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রপতি, সঙ্গে ছিলেন প্যারেড অধিনায়ক মেজর জেনারেল এসএম আসাদুল হক। পরিদর্শন শেষে অভিবাদন মঞ্চে ফিরে তিনি কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন—যা ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণীয় মুহূর্ত।

সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে কুচকাওয়াজে ফুটে ওঠে শৃঙ্খলা, প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্বের নিখুঁত প্রদর্শনী। আকাশে ফ্লাই পাস্ট যোগ করে বাড়তি মাত্রা—যেখানে যুদ্ধবিমানগুলো আকাশ চিরে উড়ে যায় দেশের পতাকার রঙে।
২০০৮ সালের পর এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসে পূর্ণাঙ্গ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হলো। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ আয়োজন বন্ধ ছিল। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে আবারও ফিরে এলো এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন—আরও বড় পরিসরে, আরও বেশি আড়ম্বরে।
রমজানের শুরু থেকেই চলছিল প্রস্তুতি, আর চূড়ান্ত মহড়ার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় নিখুঁত পরিবেশনা। সবচেয়ে বড় কথা, অনুষ্ঠানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকায় সাধারণ মানুষও সরাসরি এই গর্বের মুহূর্তের অংশ হতে পেরেছেন।
সব মিলিয়ে, এবারের কুচকাওয়াজ শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি ছিল স্বাধীনতার চেতনা, সামরিক সক্ষমতা এবং জাতীয় ঐক্যের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।


