বৃহস্পতিবার , ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম :
প্রতিবন্ধী মারিয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন এএসপি জুয়েল রানা প্রধানমন্ত্রীর নামে পরিক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে “সিলেট শিশু পার্ক” ঠাকুরগাঁও অনলাইন প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময়      মাদারীপুরে খেয়া মাঝিকে মারধর করা ভিডিও ভাইরাল;মামলা আমলে নেয়নি পুলিশ আমাদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নওগাঁয় জামিন পেলেন বিএনপি নেতারা দাউদকান্দি ২০ শয্যা হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন উপজেলা চেয়ারম্যান;এসি দিলেন তিন ব্যবসায়ী সাঘাটায় দূর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত গৌরীপুরে দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার গৌরীপুরে কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ

গোমস্তাপুরে আশ্রয়ন প্রকল্পের বাড়ি নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত




জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ও জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিটি গৃহহীন মানুষকে ঘর তৈরি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের প্রথম ধাপের ৯৫টি বাড়ি গৃহহীন ও ভূমিহীনদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের ৫ শতটি বাড়ির মধ্যে ১৭০টি বাড়ির দলিল উপকারভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হলেও বাকি ১৩০টি ও তৃতীয় পর্যায়ের ২ শতটি বাড়ি নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। তবে বাড়িগুলো নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে মর্মে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের আশ্রয়ন প্রকল্পের তৈরি হওয়া বাড়িগুলোর নির্মান কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পরিলক্ষিত হয়েছে। দেখা গেছে বাড়িগুলোর দেয়াল, ঘরের সিঁড়ি ও বারান্দা ফেটে গেছে। এমনকি টিন দিয়ে বৃষ্টির পানি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। তাছাড়া বাড়িগুলোতে খাবার পানির ব্যবস্থা, রাস্তার ব্যবস্থা, বিদ্যুতের সংযোগ ইত্যাদি না থাকায় প্রচুর সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া নিচু জায়গায় ঘর নির্মাণ, টিনের চাল তৈরী করার ক্ষেত্রে নাট-বল্টু না দেয়া এ ধরনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে কাঁঠাল দোষীমানি গ্রামের উপকারভোগী কুড়ান জানান, গত ছয় মাস হয়ে গেল আমাদের প্রথম পর্যায়ের বাড়ি পাওয়া। কিন্তু বাড়ি পেয়ে বসবাস করতে গিয়ে দেখলাম বাড়ির দেয়াল ফেটে গেছে। বাড়ির সামনে পানি জমে থাকছে। চলাচলের তেমন কোন রাস্তার ব্যবস্থা নেই। টিন ফুটো হয়ে পানি ঘরের ভেতরে ঢুকছে। এতে আমরা যারা ঘরে বাস করছি তারা ঠিকমতো ঘুমাতে পারছিনা। আর যেটুকু আসবাবপত্র আছে তাও পানি পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ঘরের ভেতরে একটি দরজা কম দিয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দেয়া উপহারের বাড়ি পেয়ে আমরা খুশি হয়েছিলাম ঠিকই। কিন্তু এখন আতঙ্কে আছি কখন যে মাথার ওপর ভেঙে পড়ে এ ভয়ে।

উপকারভোগী আর একজন একই উপজেলার চৌডালা ইউনিয়নের বেলাল বাজারের আয়েশা বেগম। তিনি জানান, শেখের বেটি হামাদেরকে বিনামূল্যে বাড়ি দিয়েছে বলে হামরা অনেক খুশি হয়েছি। কিন্তু হামরা খুব কষ্টে আছি। কারণ রাস্তা না থাকলে বাড়িতে ঢুকইবো কুন্ঠে দিয়ে। কাদামাটিতে হাঁটায় দায়।

উপজেলার আলিনগর ইউনিয়নের আমিরুল ইসলাম জানান, তিনি ভাগলপুর প্রকল্পে বিলের মধ্যে বাড়ি পেয়েছেন। কিন্তু সেখানে নেই কোন রাস্তা ঘাট ও পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা। যার ফলে একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের হাটু ডুবে যায়। আমার একটি ভ্যান ছিল সেটাই আমার রুজি রোজগারের একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ রাস্তার কোন ব্যবস্থা না হওয়ায় আমি ভ্যান বিক্রি করে এখন বেকার বসে আছি। সংসার নিয়ে কঠিন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছি।

এ বিষয়ে পার্বতীপুর ইউনিয়নের ধরমপুর প্রকল্পের উপকারভোগী গণেশ বলেন, আমরা শেখ হাসিনার দেয়া বাড়ি পেয়েছি ঠিকই। কিন্তু বাড়িগুলোর নির্মাণ কাজ মোটেই ভালোভাবে করা হয়নি। ঘরের দেয়ালগুলোতে হাত দিলে সিমেন্ট খসে খসে পড়ে যাচ্ছে। বারান্দার পিলার ঝুঁকছে। মনে হচ্ছে সাভারের রানা প্লাজার মতো ঘরটা কখন না পড়ে যায়। টিনের চাল দিয়ে ঘরের ভিতরে পানি পড়ছে। ঘরে ওঠার সিঁড়ি ফেটে গেছে। অল্প পানি হলে ঘরের বারান্দা পর্যন্ত পানি উঠে যায়। অনেক কষ্টে আমরা দিনযাপন করছি। বাড়িগুলো নিচু জমিতে তৈরি করার কারণেই এমন হয়েছে মনে হয়। আর বাড়ি পাওয়া দীর্ঘ ছয় মাসের অধিক হয়ে গেলেও প্রশাসনকে বলার পরেও এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো  ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কেউই।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, বাড়ী নিয়ে যে সমস্ত অভিযোগ কিংবা সমস্যা শোনা যাচ্ছে তা সমাধানের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে। যেমন- নির্মান কাজের ত্রুটি নিয়ে নির্মাণ শ্রমিক, বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়ে নেসকো ও পল্লী বিদ্যুৎ,পানি সমস্যা নিয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং রাস্তাঘাটের সমস্যা নিয়ে এলজিইডি ও কাবিখা প্রকল্পের মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধান করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, গোমস্তাপুর উপজেলায় আশ্রয়ন প্রকল্পের বাড়ি নির্মাণে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই। তবে হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২ আগষ্ট রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. হুমায়ূন কবির আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর বাড়ি পরিদর্শণে এসে নির্মান কাজে ব্যাপক ত্রুটি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানকে তিরস্কার করেন। তিনি দ্রুত বাড়ী নির্মাণের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য ব্যবস্থা নিতে কড়া নির্দেশ প্রদান করেন।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত




ই-মেইলে সর্বশেষ সংবাদ

বিনামূল্যে সর্বশেষ সংবাদ সরাসরি আপনার ই-মেইলে পেতে আজই সাবস্ক্রাইব করুন!

তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক।
আমাদের গোপনীয়তার নীতি




এক ক্লিকে জেনে নিন বিভাগীয় খবর




করোনা তথ্য
দেশে আক্রান্ত
১৫,৪৭,১৭৬
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
করোনা তথ্য
দেশে সুস্থ
১৫,০৬,১৩৬
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১
করোনা তথ্য
দেশে মৃত্যু
২৭,৩১৩
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১
করোনা তথ্য
বিশ্বে মৃত্যু
৪৭,২৪,৭৫৬
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১
করোনা তথ্য
বিশ্বে আক্রান্ত
২৩,০৪,১৩,৬০৮
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১
©মেঘনা নিউজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত