ক্রিকেটের পাশাপাশি রাজনীতিতেও ফিরতে চান সাকিব, লক্ষ্য আওয়ামী লীগেই থাকা
আরিফুল ইসলাম
সোমবার দুপুর ০২:৫৪, ৬ এপ্রিল, ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য ছিলেন সাকিব আল হাসান। বর্তমানে দলটির কার্যক্রম স্থগিত থাকায় তিনি সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় নন। তবে দলীয় কার্যক্রম আবার শুরু হলে রাজনীতিতে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এক জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, ‘যেহেতু এখন দলের কার্যক্রম নেই, তাই ক্রিকেট চালিয়ে যাচ্ছি। দলীয় কার্যক্রম শুরু হলে রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতি জীবনব্যাপী করা যায়, সময় অনেক আছে। কিন্তু ক্রিকেটের সময় সীমিত। তাই আগে ক্রিকেটের দিকে মনোযোগ দিতে চাই। রাজনীতির মাধ্যমে মানুষকে সাহায্য করতে পারলে ভালো লাগে, সেই আশাই এখনো আছে।’
গত দুই বছরে দেশে ফিরতে না পারার কারণে নিজের দেশের প্রতি গভীর টান অনুভব করছেন বলেও জানান তিনি। সাকিব বলেন, ‘যে কেউ নিজের দেশে যেতে না পারলে দেশকে মিস করবে। আমিও তাই, দেশকে খুব মিস করি। আশা করি শিগগিরই ফিরতে পারব, তখন অবশ্যই আনন্দ হবে।’
দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় আশাবাদী। আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্রুত সবকিছু সমাধান করতে পারলে সময় লাগবে না। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে দ্রুত সবকিছু ঠিক হয়ে যায় এবং দেশে ফিরতে পারি।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে সাকিব বলেন, ‘বিশ্বকাপ না খেলাটা অবশ্যই হতাশাজনক। ওই সময় সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আসলে তার উপর তো বিসিবি কথা বলতে পারে না। এটা সম্ভব ছিলো না। তৎকালীন সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের কারণেই আসলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যার দায় ওই সময়ের সরকারের ওপরেই বর্তায়। কারণ তাদের সিদ্ধান্তের কারণেই বিশ্বকাপ খেলাটা হয় নাই।’
মাঠের ক্রিকেট আর কতদিন চালিয়ে যাবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘খেলার প্রতি আমার আগ্রহ এখনো আগের মতোই অটুট আছে, তাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যেদিন দেখব আর আগ্রহ নেই, সেদিন নিজ থেকেই সরে দাঁড়াব।’
উল্লেখ্য, চব্বিশের জুলাইয়ে অভ্যুত্থানের সময় রাজপথে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির মধ্যেও সাকিবের নীরবতা অনেক সাধারণ মানুষ ও ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়। অভ্যুত্থানের পরও কিছু মহল থেকে তার দেশে ফেরার বিষয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।


