পুলিশের লাথিতে আসামির বাবার মৃত্যুর অভিযোগ
আরিফুল ইসলাম
বৃহস্পতিবার দুপুর ০২:৩৫, ৫ মার্চ, ২০২৬
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় পুলিশের লাথিতে আব্দুল হামিদ ধলা (৬৬) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪ মার্চ) রাতে উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাদেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আছির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে আব্দুল হামিদের ছেলে এমরান হোসেনকে গ্রেফতার করতে রাতে ওই গ্রামে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এমরান হোসেন পালিয়ে যান। পরে তাকে না পেয়ে পুলিশ তার বাবা আব্দুল হামিদকে জোরপূর্বক ধরে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় আব্দুল হামিদের মা হালিমা বেওয়া (৮৫) ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের পা ধরলে পুলিশ তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আব্দুল হামিদের নাতি রিপন (১২) জানায়, রাতে কয়েকজন পুলিশ এসে তার দাদাকে জোর করে ধরে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় এক পুলিশ সদস্য তাকে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে উঠতে গিয়ে আবার পড়ে যান এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আব্দুল হামিদের নামে কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই। ছেলে এমরানকে পালাতে সাহায্য করার অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি খারাপ দেখে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলেও তারা দাবি করেন।
এদিকে একই গ্রামের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এসলাম জানান, রাত একটার দিকে পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে চাইলে আইডি কার্ডের সঙ্গে নামের বানান না মেলায় তাকে আদালত থেকে জামিন নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, পুলিশ আসামি ধরতে গিয়েছিল। এমরানকে না পেয়ে তার বাবা আব্দুল হামিদকে এসলামের বাড়ি দেখানোর জন্য ডাকা হয়েছিল। এ সময় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পুলিশ তাকে কোনো আঘাত করেনি।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে আব্দুল হামিদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


