৬ বছর আগে অপহৃত ছাত্রদল নেতা সাইফুলের সন্ধান চাইলেন ড. মারুফ
হোসাইন মোহাম্মদ দিদার, নিজস্ব সংবাদদাতা (দাউদকান্দি, কুমিল্লা)
বৃহস্পতিবার রাত ১০:৫৯, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড.খন্দকার মারুফ হোসেন ফ্যাসিস্ট আ’লীগের বিগত দিনের ফ্যসিবাদ চরিত্রের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, ‘গুম, খুন, অপহরণ, আয়নাঘর, জেল-জুলুম,মিথ্যা মামলা ও জনদূর্ভোগ সৃষ্টি’ হচ্ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের অতীত ঐতিহ্য। তাদের কাছে আইনের শাসন, জনজীবনে স্বাচ্ছন্দ্য এবং জানমালের নিরাপত্তা আশা করা তুচ্ছ,গুরুত্বহীন। দেশের মানুষ শান্তি ও নিরাপদে থাকুক,ফ্যাসিস্ট আ’লীগ কখনই তা চায় না। জনগণকে দুর্ভোগে ফেলে তারা আনন্দ উপভোগ করে। এটা হলো আওয়ামী লীগের চরিত্র।
তিনি বৃহস্পতিবার (২৪সেপ্টেম্বর) দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাস ষ্টেশনে ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলামের ৬ষ্ঠ গুম দিবসে ‘তার সন্ধান ও গুমে জড়িতদের গ্রেফতার’ দাবিতে এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এইসব কথা বলেন।
গুমের শিকার সাইফুলের পারিবার এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল হাশেম। উপস্থিত ছিলেন,জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মো.লিয়াকত আলী, মানবাধিকার কর্মী মো.মঞ্জুর হোসেন ঈসা,
দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপি নেতা এম.এ লতিফ ভূইয়া, ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, আলহাজ্ব জসিমউদ্দিন আহমেদ, এনামুল হক সফর তালুকদার, গুম সাইফুলের বড় ভাই মো.জহিরুল ইসলাম, ভিপি শাহাবুদ্দিন ভুইয়া,আরিফ মাহামুদ, মো.সালাউদ্দিন ভুইয়া,শরীফ চৌধুরী, রোমান খন্দকার, আসিফ কবির,আবদুল বাসেদ ও লিমন খন্দকার প্রমুখ।
ড.খন্দকার মারুফ হোসেন প্রধান অতিথির বক্তব্যে গুমের শিকার সাইফুল ইসলামের দ্রুত সন্ধান এবং জড়িতদের গ্রেফতারের জন্যে সরকারের কাছে দাবি করেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার সর্বদাই ভিন্নমত ও আদর্শের নেতাকর্মী, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মতামতের গুরুত্ব দেন। বিগত ১৬ বছর বিএনপি, ভিন্নমত ও আদর্শের মানুষেরাই ছিলো ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের প্রধান টার্গেট। তারাই গুম, খুন, অপহরণ, আয়না ঘর,জেল জুলুম ও দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। ছাত্র দল নেতা সাইফুল ইসলামও তাদেরই একজন। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী প্রতিশ্রুতিশীল যুবক। ফ্যাসিস্ট আ’লীগের সন্ত্রাসীরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে কোথায় গেছে, আজও তার পরিবার কোনো হদিস পায়নি। এমন নৃশংস ও বেদনাদায়ক ঘটনা মেনে নেয়া যায় না।
তিনি বলেন, ২৪এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা দলবল নিয়ে পালিয়েছে। কিন্তু তাদের ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়নি। শেখ হাসিনা ও তার নেতারা বিদেশে বসে মাতৃভূমি বাংলাদেশে সহিংসতা ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন ছক তৈরী করছে। ইতোমধ্যে ওরা তা জানান দিয়েছে।
ড.খন্দকার মারুফ বলেন, গত ৭ মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে দেশ দ্রুত সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় জনগণ স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করছে। দেশের মানুষ ভালো থাকলে শেখ হাসিনা ও আ’লীগ নেতাদের সহ্য হয় না। দেশ এখন স্থিতিশীল থাকায় আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা কুকর্ম করার চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠেছে। নানা হুমকি ধামকি দিচ্ছে। দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ আ’লীগের সকল ষড়যন্ত্র, সহিংসতার অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দিবে,ইনশাআল্লাহ।
তিনি জনগণের জানমাল এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের সন্ত্রাস ও অশুভ তৎপরতা মোকাবেলা করার জন্য ঐক্যবদ্ধ বীর যোদ্ধা হয়ে মাঠে থাকতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।



