ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, স্কুল অবরোধে আটক ৪৪০ জন
আরিফুল ইসলাম
বুধবার সকাল ১১:১৩, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকটসহ নানা সমস্যার প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলনে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। আটক ব্যক্তিদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্যারিসে শুরু হওয়া এই আন্দোলন গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে অন্তত ৪০০টি স্কুলে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অন্তত ১০ জন শিক্ষক ও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৪৮ সদস্যও আহত হয়েছেন।
বিক্ষোভের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে কয়েকটি ময়লার পাত্রে আগুন এবং বাসস্টপে ভাঙচুরের দৃশ্য দেখা গেছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন। জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
বার্তাসংস্থা এএফপিকে ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রী বলেন, ‘আমরা এখানে একটি বার্তা দিতে এসেছি। কোনো কারণ ছাড়াই সবকিছু ভাঙচুর করতে আসিনি। আমরা বলতে এসেছি যে শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। আমাদের প্রতিটি শ্রেণিতে ৩৪ জন করে শিক্ষার্থী, যা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। শিক্ষকেরা অতিরিক্ত কাজের চাপে রয়েছেন।’
ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে। তবে সহিংসতার ঘটনাগুলোকে তিনি ‘কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়’ বলে উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বিএফএমটিভিকে বলেন, ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এখনো চূড়ান্ত হিসাব নেই। তবে আমাকে বলা হয়েছে, তাদের দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।’
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনিয়ন সিন্দিকাল লিসেয়েনের সভাপতি রিয়াদ রানি পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ করেছেন। এএফপিকে তিনি বলেন, ফরাসি সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘দমন-পীড়ন’ চালাচ্ছে।
বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কয়েকজন ফরাসি রাজনীতিকও সমালোচনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে নুনেজ বলেন, পুলিশের পদক্ষেপ ‘অত্যন্ত সংযত ও আনুপাতিকভাবে’ পরিচালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে বলেন, ‘বিক্ষোভ করার অধিকার একটি মৌলিক স্বাধীনতা। তবে কোনোভাবেই এটিকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। এসব কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয়া কিংবা এই পরিস্থিতিতে অবরোধ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানানো আমাদের শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এটি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।’
যুক্তরাজ্যের ষষ্ঠ ফর্ম বা যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলের সমপর্যায়ের ফরাসি ‘লিসে’ স্কুলগুলোকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহে প্যারিসের আশপাশের ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে এ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দেশের অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে এ আন্দোলনের ঘটনায় ১৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
এদিকে, মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পাশাপাশি দেশজুড়ে শিক্ষক, হাসপাতালকর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নগুলোর ডাকা কর্মবিরতিও পালিত হয়েছে। কম বেতন, কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন সমস্যার প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ জানিয়েছেন, ওই কর্মসূচিতে অন্তত ২ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। তবে বেশিরভাগ স্থানেই কর্মসূচি বড় ধরনের কোনো ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে।



