প্রেস বিজ্ঞপ্তি: মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ
স্টাফ রিপোর্টার
শুক্রবার বিকেল ০৪:০৯, ২২ মে, ২০২৬
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে “মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদের প্রতিবাদে দাউদকান্দিতে বুধবার (২০ মে) সকাল ১১টায় ব্যবসায়ী নেতা পিটার চৌধুরী সাহেবের পৌরবাজার অফিসে সংবাদ সম্মেলন” শিরোনামে আমার বিরুদ্ধে যে বক্তব্য ও সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আমাকে জড়িয়ে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে,যেমন চাঁদাবাজি, অপকর্ম, কথিত সাংবাদিক, রাজনৈতিক দোসরসহ বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ, মানহানিকর ও ভিত্তিহীন মন্তব্য। তার কোনো সত্যতা নেই। এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বাস্তব ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা মাত্র।
আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, প্রকৃতপক্ষে আমার করা প্রতিবেদনটি ছিল সম্পূর্ণ সত্য, তথ্যনির্ভর ও জনস্বার্থে প্রকাশিত। দাউদকান্দি পৌরবাজার কমিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক জনরোষ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হলে আমি একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিক হিসেবে বিষয়টি সংবাদ আকারে প্রকাশ করি। জনস্বার্থে প্রকাশিত সেই সংবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
অধিকন্তু, ১৮ মে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে দাউদকান্দি মডেল থানার সামনে মা কনফেকশনারি এবং শহীদ রিফাত শিশু পার্কের গেইটের নিকটে আমাকে মব কালচারের মতো করে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়। আমি সেই হামলা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পাই। পরবর্তীতে এই গুরুতর হামলার ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
আমি দীর্ঘদিন ধরে পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত আছি। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করাই আমার পেশাগত দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের কারণেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও চরিত্রহননের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, আমি একজন কবি ও সাহিত্যচর্চায় নিবেদিত লেখক। চট্টগ্রাম বিভাগে সাংবাদিকদের মধ্যে আমি ইতোমধ্যে ৭টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছি এবং ৮ম কাব্যগ্রন্থের লেখার কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। সাহিত্য ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে আমার দীর্ঘদিনের অবদান রয়েছে, যা আমার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সংবাদ সম্মেলনে আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তার পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। শুধুমাত্র সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা, সাংবাদিক হিসেবে আমার গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা থেকেই এসব বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে।
আমাকে “চাঁদাবাজ”, “কুখ্যাত”, “কথিত সাংবাদিক” ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে যে ভাষায় বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা শুধু মানহানিকরই নয়, একজন পেশাদার সংবাদকর্মীর নিরাপত্তা, সম্মান ও পেশাগত মর্যাদার জন্যও হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন, অশালীন এবং আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে কখনো চাঁদা দাবি করিনি এবং এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক। আমার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো আইনগত নথি,যেমন জিডি, মামলা, তদন্ত প্রতিবেদন, অডিও-ভিডিও প্রমাণ বা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ কোনো কিছুই উপস্থাপন করা হয়নি।
দুঃখজনকভাবে, কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর, মানহানিকর ও উসকানিমূলক পোস্ট, মন্তব্য ও ভিডিও ছড়িয়ে অপপ্রচারে অংশ নিচ্ছেন। বিশেষ করে “প্রতিসময়.কম / মোহাম্মদ আলী শাহীন” এবং “দৈনিক স্বদেশ কণ্ঠ / সুমন মিয়া, এমএসটিভি/মাহিন, কুমিল্লা টিভি/ওমর ফারুক মিয়াজী,কামরুল হক চৌধুরীসহ বেশ কিছু নামের আইডি থেকে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
আমি তাদের প্রতি আহ্বান জানাই, অবিলম্বে এ ধরনের মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর প্রচারণা থেকে বিরত থাকুন। অন্যথায় প্রচলিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার অপরাধ আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমি এই মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় আমার ব্যক্তি স্বাধীনতা, পেশাগত মর্যাদা ও সামাজিক সুনাম রক্ষার্থে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকব।
সাংবাদিক সমাজ, সুশীল সমাজ ও সচেতন জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, কোনো পক্ষের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সত্য উদঘাটনে সহায়তা করুন।
বিনীত,
হোসাইন মোহাম্মদ দিদার
কবি ও গণমাধ্যমকর্মী
দাউদকান্দি, কুমিল্লা


