ঢাকা (সন্ধ্যা ৭:২৫) রবিবার, ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শুভেচ্ছা বার্তা :
মেঘনা নিউজ-এর এক যুগে পদার্পণ উপলক্ষ্যে সকল পাঠক-দর্শক, প্রতিনিধি, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহযোগী, কলাকৌশলীসহ দেশ ও প্রবাসের সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
শিরোনাম

ডুবে গেল স্বপ্নের ধান, মাঠেই নিভে গেল কৃষক আহাদের জীবন

ফাইল ছবি

আরিফুল ইসলাম আরিফুল ইসলাম Clock রবিবার বিকেল ০৫:৩৮, ৩ মে, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা-এর গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে নিজের ছয় বিঘা জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখে শোক সইতে না পেরে মারা গেছেন আহাদ মিয়া (৫৫) নামে এক কৃষক।

শনিবার (২ মে) সকালে শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে গিয়ে নিজের ক্ষেতের এমন করুণ অবস্থা দেখে তিনি অচেতন হয়ে জমির আইলে লুটিয়ে পড়েন। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

মৃত আহাদ মিয়া একই গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে। তিন সন্তানের জনক এই কৃষক ধারদেনা করে ছয় বিঘা জমিতে আবাদ করেছিলেন, স্বপ্ন ছিল পাকা ধান ঘরে তোলার। কিন্তু সেই স্বপ্নই মুহূর্তে পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখে আর নিজেকে সামলাতে পারেননি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য আহামেদ আলী বলেন, চোখের সামনে সব শেষ হয়ে যেতে দেখে মানুষটা সহ্য করতে পারেনি।

আহাদ মিয়ার ভাতিজা মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ জানান, শনিবার দুপুরেই তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোয়ালনগর ইউনিয়নের সোনাতলা, ঝামারবালি ও কদমতলি—এই তিন গ্রামে অন্তত তিন হাজার বিঘা জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে শুধু সোনাতলা গ্রামেই দেড় থেকে দুই হাজার বিঘা জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে অসহায় হয়ে পড়েছেন আরও অনেক কৃষক। সোনাতলা গ্রামের কৃষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মায়া লাগে, তাই জমিতে আসি’—চোখের সামনে পাকা ধান ডুবতে দেখি। পাঁচ বিঘা জমিতে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করে চাষ করেছিলেন তিনি। কিন্তু সবই এখন পানির নিচে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ধান ডুবে যেতে দেখে তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অন্য কৃষকেরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাণে বেঁচে যান।

এছাড়া আরও বহু কৃষক একই দুরবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন। সোনাতলার কৃষক খলিল মিয়া জানান, ১০ বিঘা জমির মধ্যে ৮ বিঘাই পানির নিচে চলে গেছে। ঝামারবালির কৃষক শাহাজান মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, নির্বাচন এলে সবাই আসে, কিন্তু এখন কেউ নেই।

অন্যদিকে কৃষক রহমত আলী বলেন, টানা বৃষ্টিতে কাটা ধানও পচে যাচ্ছে, আর বাকি জমি এখনো পানির নিচে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান সাকিল জানান, টানা বৃষ্টিতে নতুন করে আরও দুই থেকে তিন হাজার বিঘা জমি তলিয়ে গেছে বলে কৃষকেরা জানিয়েছেন। নিহত কৃষকের ঘটনায় একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন বলেন, একজন কৃষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে প্রকৃত কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।




শেয়ার করুন


পাঠকের মতামত

মেঘনা নিউজ-এ যোগ দিন

Meghna Roktoseba




এক ক্লিকে জেনে নিন বিভাগীয় খবর



© মেঘনা নিউজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by ShasTech-IT