ইরানের পালটা হামলায় নাজেহাল
যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইসরাইল, বাড়ছে দেশত্যাগের প্রবণতা
আরিফুল ইসলাম
রবিবার রাত ১০:১১, ৫ এপ্রিল, ২০২৬
ইসরাইলে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক চাপে দেশজুড়ে বিক্ষোভ বাড়ছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তাহীনতা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশত্যাগের প্রবণতাও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।
১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর একাধিক সংঘাতে জড়ালেও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও দেশত্যাগের এমন প্রবণতা আগে দেখা যায়নি। তবে ২০২৩ সালে হামাসের হামলার পর থেকে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে গাজা সংঘাত ও সামরিক অভিযানের ধারাবাহিকতায় উদ্বেগ আরও বাড়ে।
সর্বশেষ ৪ এপ্রিল তেল আবিবে শত শত মানুষ ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রতিবাদে সমাবেশ করে। বিক্ষোভকারীরা যুদ্ধবিরোধী স্লোগান দেন এবং প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর পদত্যাগ দাবি করেন। তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “বোমা নয়—আলোচনা করুন” এবং “অন্তহীন যুদ্ধ বন্ধ করুন”।
ইসরাইলি-ফিলিস্তিনি তৃণমূল সংগঠন Standing Together-এর সহ-পরিচালক Alon-Lee Green বলেন, ইরান, গাজা ও লেবাননে চলমান সংঘাত বন্ধের দাবিতে তারা রাস্তায় নেমেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করায় মত প্রকাশের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।

এর আগে ২৮ মার্চও তেল আবিব, হাইফা ও জেরুজালেমে হাজার হাজার মানুষ যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয় বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের পর ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ চাপ আরও বেড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে বহু মানুষকে দীর্ঘ সময় বাঙ্কারে অবস্থান করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং আয় হ্রাস পাচ্ছে। একই সময়ে যুদ্ধ পরিচালনায় বিপুল ব্যয় দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
এ অবস্থায় দেশত্যাগের প্রবণতাও বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সময়ে প্রায় এক লাখ ইসরাইলি দেশ ছেড়েছেন। বিশেষ করে উচ্চ দক্ষ পেশাজীবীদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
এদিকে আকাশপথে চলাচল সীমিত হওয়ায় অনেকেই স্থলপথে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন। মিশরের তাবা সীমান্ত ক্রসিং হয়ে ইসরাইলিদের বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে বলে জানা গেছে।
তবে সরকারি সূত্র ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ইসরাইলি আবার দেশে ফিরেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।


