নেকাবধারী নারীদের মুখ দেখাতে হবে ভোটকেন্দ্রে
মেঘনা নিউজ ডেস্ক
সোমবার সকাল ১০:৩২, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে হলে পরিচয় যাচাইয়ের স্বার্থে নারী ভোটারকে অবশ্যই মুখ দেখাতে হবে। ভুয়া ভোটার ঠেকাতে এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেবে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নারী ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিয়োগ করা হবে মহিলা পোলিং অফিসার ও নারী আনসার।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, পর্দানশিন নারীদের ক্ষেত্রে পুরুষ কর্মকর্তার সামনে নেকাব বা বোরকা খুলতে বাধ্য করা যাবে না।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আইন অনুযায়ী ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে থাকবে। ভোট দেওয়ার আগে ভোটারের চেহারার সঙ্গে তালিকাভুক্ত ছবির মিল করতেই হবে। এটি ভোট পরিচালনা বিধির বাধ্যতামূলক অংশ।
তিনি আরো বলেন, কেউ যদি মুখ না দেখান, তাহলে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে ব্যালট পেপার দেওয়া যাবে না। তবে পর্দানশিন নারীদের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করছে কমিশন। তিনি বলেন, নারী ভোটার যদি পুরুষ কর্মকর্তার সামনে নেকাব খুলতে না চান, তাহলে মহিলা পোলিং অফিসারের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। নারী ভোটার নারীর কাছে মুখ খুললে পর্দা ভঙ্গ হবে না বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার।
ইসিসংশ্লিষ্টরা জানান, ভোটের স্বচ্ছতা ও ভুয়া ভোট রোধে প্রতিটি কেন্দ্রে ছবিসহ ভোটার তালিকার সঙ্গে ভোটারের চেহারা মিলিয়ে ব্যালট পেপার দিতে হবে। তবে কোনো নারী যদি মহিলা কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে মুখ দেখাতে অনিচ্ছুক হন, সেক্ষেত্রে তাকে জোর করে ভোট দিতে বাধ্য করা যাবে না এবং ভোট না দিলে তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।
আইন বিশেষজ্ঞ ও ইসলামী চিন্তাবিদরা বলছেন, পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজনে মুখ দেখানো আইন ও ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ হলেও যেখানে বিকল্প ব্যবস্থা আছে, সেখানে নারীর পর্দা রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও নির্বাচন কমিশনের ওপরই বর্তায়।
ইসলামি চিন্তাবিদ মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী বলেন, পরিচয় নিশ্চিত করার প্রয়োজনে মুখ দেখানো ইসলামে জায়েজ। তবে যেখানে বিকল্প আছে— সেখানে নারী কর্মকর্তার মাধ্যমে যাচাই—সেটিই গ্রহণ করা উত্তম। তিনি আরো বলেন, যদি কোনো ভোটকেন্দ্রে নারী কর্মকর্তা না থাকেন এবং কোনো নারী মুখ দেখাতে অনিচ্ছুক হন, তাহলে তার জন্য ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে ব্যালট না নিয়েই ফিরে আসতে পারেন। এতে কোনো গুনাহ বা আইনি অপরাধ হয় না বলেও জানান এই মুফতি।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, আসন্ন নির্বাচনে ব্যালট পেপারে ভোট হবে। ফলে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মতো আঙুলের ছাপ মিলিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ নেই। তাই এবার ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে চেহারা ও ছবি মিলিয়েই।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (আরপিও) অনুযায়ী, ভোটাধিকার প্রয়োগের সময় ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া নির্বাচন কর্মকর্তার আইনগত দায়িত্ব। তবে একই সঙ্গে আরপিও ও ভোট পরিচালনা বিধিমালায় ভোটারের মর্যাদা, সম্মান ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়টি আমলে নিচ্ছে ইসি।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরপিওতে সরাসরি ‘পর্দা’ শব্দটি উল্লেখ নেই। তবুও নারী ভোটারের সম্মানহানি বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে, এমন কোনো আচরণ আইনসম্মত নয়। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারী ভোটারের জন্য পৃথক নির্দেশনা ও ব্যবস্থা ইসি নিতে পারে। যার কারণেই নির্বাচন কমিশন দীর্ঘদিন ধরেই নারী ভোটারদের জন্য নারী পোলিং অফিসার ও নারী আনসার নিয়োগের নির্দেশ দিয়ে আসছে।
এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসাইন বলেন, মুখ না দেখালে কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভুয়া ভোটার বলা যাবে না। তবে ভোট দিতে চাইলে পরিচয় যাচাই মানতেই হবে। কারণ আপনার এনআইডির ছবির সঙ্গে মুখ মিলিয়ে দেখার মাধ্যমেই পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এটি শুধু আইনগত নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার স্বার্থেও জরুরি।


