বিদ্যুতে বড় বিপর্যয়, ভোগান্তি
নিজস্ব প্রতিনিধি
বুধবার সকাল ০৯:৩০, ৫ অক্টোবর, ২০২২
এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়ল দেশ। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় গ্রিড পূর্বাঞ্চলে বিপর্যয় দেখা দিলে চার ঘণ্টা পুরোপুরি বিদ্যুৎহীন ছিল রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ বিভাগসহ দেশের ৩২ জেলা। কোনো কোনো এলাকায় ৮ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় বিদ্যুৎ ছিল না।
টানা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়ে কোটি কোটি মানুষ। ব্যাহত হয় চিকিৎসা, টেলিযোগাযোগ, ব্যাংকের লেনদেনসহ জরুরি সেবা। উৎপাদন ব্যাহত হয় কারখানায়।
এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর একবার গ্রিড বিপর্যয় হয়েছিল। তখন দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, গতকাল বেলা ২টা ৫ মিনিটের দিকে জাতীয় গ্রিডের পূর্বাঞ্চলে (যমুনা নদীর এপার) বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। তবে রাত ১০টায়ও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার সময় বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। তবে সেটি কেন হয়েছে, তা বলতে পারেনি তারা। ঘটনা অনুসন্ধানে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দুটি তদন্ত কমিটির একটি গঠন করা হবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সদস্য করে। অন্যটি বিদ্যুৎ বিভাগই তৃতীয় পক্ষের লোকদের দিয়ে গঠন করবে।
ঘটনার পর গত রাতে দেশের একমাত্র বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারী সংস্থা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এর প্রধান করা হয়েছে পিজিসিবির নির্বাহী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. ইয়াকুব ইলাহী চৌধুরীকে।
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর। দুই গ্রিডেই বিপর্যয় হয় ওই সময়। এতে গোটা দেশ প্রায় ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন থাকে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জ্বালানিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ম. তামিম বলেন, দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো অনেক পুরোনো। এতে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। এটার আধুনিকায়নের কথা দীর্ঘদিন ধরে বলা হলেও কাজ হচ্ছে না। তিনি বলেন, স্বয়ংক্রিয় গ্রিড না থাকায় বিপর্যয়ের উৎস খুঁজে পেতেও দেরি হচ্ছে পিজিসিবির। দ্রুত মানোন্নয়ন করা না হলে সামনে আরও বড় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।


