ঢাকা () ,
শুভেচ্ছা বার্তা :
মেঘনা নিউজ-এর এক যুগে পদার্পণ উপলক্ষ্যে সকল পাঠক-দর্শক, প্রতিনিধি, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহযোগী, কলাকৌশলীসহ দেশ ও প্রবাসের সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
শিরোনাম

সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার চাপ প্রশাসনের প্রতি

ইবাদুর রহমান জাকির,সিলেট ইবাদুর রহমান জাকির,সিলেট Clock বুধবার সন্ধ্যা ০৭:২০, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০

দুর্ভোগের আরেক দিন পার করছেন সিলেটবাসী। পরিবহন ধর্মঘটের তৃতীয় দিনেও বৃহত্তর সিলেটে কেবল রিকশা-মোটরসাইকেল ব্যতিত চলছে না কোনো যানবাহন।

আদালতের নির্দেশে বন্ধ পাথর কোয়ারি খুলে দিতে বুধবারও (২৩ ডিসেম্বর) বিভাগজুড়ে চলছে তিন দিনের ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন। এর আগে সিএনজি অটোরিকশার দুই দিনের ধর্মঘট মিলিয়ে বেশ বিপাকে সিলেটবাসী।

মূলত; সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে পাথর কোয়ারি খুলে দিতে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সিলেট বিভাগজুড়ে গত মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) থেকে তিন দিনের ধর্মঘটের ডাক দেয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদ।

এতে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। করোনাকালে ধর্মঘটে থমকে গেছে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা। বিভিন্নস্থান থেকে পর্যটকরাও আসতে না পারায় হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় ধ্স নেমেছে, জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরাও। অনেকে এই ধর্মঘটকে ‘অহেতুক’ ধর্মঘট বলেও অভিহিত করেছেন। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ মনে করেন, পাথর কোয়ারি থেকে মুনাফার লাভের জন্য ব্যবসায়ী, ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদ গড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।

সূত্র জানায়, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায় প্রাকৃতিকভাবে পাথর পাওয়া গেলেও তা তুলতে যন্ত্রের সাহায্যে অবৈধ উপায় বেছে নেন ব্যবসায়ীরা। ফলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের শুরু থেকে স্থানীয় প্রশাসন পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছে। এ বছর সিলেটের তালিকাভুক্ত পাথর কোয়ারিগুলো ইজারা দেয়নি খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো।

সরেজমিন দেখা গেছে, ধর্মঘটের কারণে বুধবার সকাল থেকেও সিলেটের সড়কগুলোতে চলছে না যানবাহন। অনেকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যেতে দেখা গেছে। তবে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সিলেটের বিভিন্ন সড়কের মোড়ে ও বাস টার্মিনালে দুর্ভোগে পড়া যাত্রীদের অপেক্ষমান থাকতে দেখা গেছে।

এদিকে জরুরি প্রয়োজনে সিলেটের বাইরে যাওয়া লোকজন বিকল্প হিসেবে ট্রেনে যাতায়াত করছেন। যে কারণে ট্রেনে টিকিট সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানান সিলেট রেলস্টেশন ব্যবস্থাপক খলিলুর রহমান।

সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদ ও সিলেট জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম হাদী ছয়ফুল বলেন, আমরা ন্যায্য দাবির পক্ষে তুলে ধরেছিলাম। এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে কোনো সমাধান না আসায় আন্দোলনের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছি। টানা তিনদিন পুরো সিলেট বিভাগে সব ধরনের পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি।

সিলেট জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, বাস মালিক সমিতি পরিবহন ধর্মঘটের সঙ্গে নেই। তবে বাসের শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে পরিবহন ধর্মঘট চালানো হচ্ছে। শ্রমিকরা না থাকলে আমরাতো বাস চালাতে পারি না।

সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদ পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে গত সোমবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে সুরাহা না হওয়ায় তিন দিনের ধর্মঘট আহ্বান করে।




শেয়ার করুন


মেঘনা নিউজ-এ যোগ দিন

Meghna Roktoseba

Emergency Relief Fund - As-Sunnah Foundation




এক ক্লিকে জেনে নিন বিভাগীয় খবর



© মেঘনা নিউজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by ShasTech-IT