ঢাকা (সকাল ৬:২৩) সোমবার, ২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শুভেচ্ছা বার্তা :
মেঘনা নিউজ-এর এক যুগে পদার্পণ উপলক্ষ্যে সকল পাঠক-দর্শক, প্রতিনিধি, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহযোগী, কলাকৌশলীসহ দেশ ও প্রবাসের সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
শিরোনাম

লোড শেডিং: ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের উৎপাদন অর্ধেকে

বাংলাদেশ সংবাদ Source তথ্যসূত্রঃ https://www.kalerkantho.com/online/national/2022/10/13/1192681 ২১৭৫ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি নিজস্ব প্রতিনিধি Clock বৃহস্পতিবার সকাল ১১:৩৫, ১৩ অক্টোবর, ২০২২

জ্বালানি তেল ও গ্যাসসংকটের কারণে প্রতিদিন দুই থেকে চার ঘণ্টার লোড শেডিংয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন খরচ বাড়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তাঁরা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন শপিং মলসহ সব ধরনের দোকান রাত ৮টার পর বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ করে দিতে হয়।

বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকদের কাজের পরিমাণ কমে গেছে। এতে চুক্তিভিত্তিক যেসব শ্রমিক কাজ করেন, তাঁদের আয়ও কমে গেছে।

নিউ মার্কেটের গাউছিয়া বিপণিবিতান কেন্দ্রের তৃতীয় তলায় আল ইমন গার্মেন্টের প্রতিষ্ঠানে সব বয়সী নারীর সব ধরনের থ্রিপিস তৈরি করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আব্দুল আজিজ ছাড়া ছয়-সাতজন শ্রমিক চুক্তিতে কাজ করেন। কালের কণ্ঠকে আজিজ বলেন, ‘শুধু আমিই এখানে বেতনভুক্ত। বাকিদের পারিশ্রমিক দেওয়া হয় প্রডাকশনের ওপর নির্ভর করে। প্রতিদিন তিন-চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। আবার ৮টার সময় মার্কেট বন্ধ করে দিতে হয়। এতে আমাদের পোশাক তৈরি অর্ধেক কমে গেছে। আগে প্রতিদিন ১০০ পিস তৈরি করতে পারতাম, এখন সর্বোচ্চ ৬০ পিস করা যাচ্ছে। কারণ আগে রাত ১০-১১টা পর্যন্ত কাজ করা যেত, এখন রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। আবার দিনের মধ্যে প্রায় চারবার বিদ্যুৎ চলে যায়। ফলে যারা চুক্তিতে কাজ করে, তারা আগে ১২০০ টাকা আয় করতে পারত। এখন তারা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পাচ্ছে। অন্যদিকে মালিকেরও ক্ষতি হচ্ছে। কারণ সামনে ঈদ আসছে। ’

আব্দুল আজিজ বলেন, ‘১২ বছর ধরে কাজ করছি। ঈদের আগে এ রকম সময় থেকে মাল তৈরি করে স্টক করা শুরু করি। এ বছর তা আর হচ্ছে না। যা তৈরি করছি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। আবার উৎপাদনও কম হচ্ছে। দোকানের ভাড়া কিন্তু ঠিকই দিতে হচ্ছে। ফলে ঈদের সময় যে কিছুটা লাভে বিক্রি করা যায়, তা এ বছর হবে বলে মনে হয় না। ’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদনের সঙ্গে নির্ভর করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের লাভ-ক্ষতি। যদি উৎপাদন বেশি হয় তাহলে খরচ কমে যায়। উৎপাদন কম হলে খরচ বেড়ে যায়। এতে ব্যবসায়ীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাচ্ছেন।

নীলক্ষেতের আর কে ট্রেডার্সে সব ধরনের লিফলেট, ব্যানার, পোস্টার প্রিন্টিংয়ের কাজ করা হয়। পুরোপুরি উৎপাদনমুখী ব্যবসা। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘ধরুন, আগে প্রতিদিন পাঁচ হাজার টাকার প্রিন্টিংয়ের কাজ হতো, এখন তা দুই থেকে তিন হাজারে হচ্ছে। আমাদের ব্যবসা বিদ্যুৎ ছাড়া সম্ভব না। বিদ্যুৎ না থাকলে সব বন্ধ। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও ঘরভাড়া, শ্রমিকদের বেতন মাসিক ভিত্তিতে কিন্তু দিতেই হয়। অথচ উৎপাদন হচ্ছে কম। কালি-কাগজের দাম বেড়েছে। যে ব্যবসা হচ্ছে তাতে এখন ঘরভাড়া দেওয়াই কঠিন। গত ছয় মাসের ভাড়া বাকি। তার পরও মালিক আমাদের সুযোগ দিচ্ছেন যে ব্যবসা ভালো হলে ভাড়া দিতে পারব। কিন্তু সেটা তো হচ্ছে না। ’

বিদ্যুত্সংকটের কারণে শুধু ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প নয়, সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্ষতির সম্মুখীন বলে মনে করেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমাদের গত কয়েক বছরের উন্নয়নের প্রধান কারণই ছিল বিদ্যুত্সংকট না থাকা। লোড শেডিংয়ের জন্য কিছু সাশ্রয় হচ্ছে, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকার কারণে যে মানুষের হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে, তার দায়ভার কে নেবে? সারা দিন বিদ্যুৎ যাচ্ছে-আসছে। দোকান রাত ৮টায় বন্ধ করা লাগছে। তো কাস্টমার আসবে কখন? যেভাবেই হোক সরকারকে দ্রুত চিন্তা করতে হবে এই সমস্যা কিভাবে সমাধান করা যায়। না হলে গত ১০-১২ বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে, সেটা কিন্তু টেকসই উন্নয়ন হিসেবে থাকবে না। এবং আমাদের বড় ধরনের মূল্য দিতে হবে। ’




শেয়ার করুন


পাঠকের মতামত

মেঘনা নিউজ-এ যোগ দিন

Meghna Roktoseba




এক ক্লিকে জেনে নিন বিভাগীয় খবর



© মেঘনা নিউজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by ShasTech-IT