ঢাকা (বিকাল ৩:৪৩) বৃহস্পতিবার, ১৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শুভেচ্ছা বার্তা :
মেঘনা নিউজ-এর এক যুগে পদার্পণ উপলক্ষ্যে সকল পাঠক-দর্শক, প্রতিনিধি, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহযোগী, কলাকৌশলীসহ দেশ ও প্রবাসের সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
শিরোনাম

আল-জাজিরার বিশ্লেষণ

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ২০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে কি?

আরিফুল ইসলাম আরিফুল ইসলাম Clock বৃহস্পতিবার দুপুর ০২:১০, ১৯ মার্চ, ২০২৬

ইরান, ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বাড়ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্লেষকরা ধারণা করেছিলেন যে দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। তবে যুদ্ধের মাত্র তিন সপ্তাহ পর, বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন যে দাম ১৫০ বা এমনকি ২০০ ডলারেও পৌঁছাতে পারে।

 

চলতি বছরের ৯ মার্চ বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১২০ ডলার ছুঁয়ে যাওয়ার পর, ১৩ মার্চ থেকে তা আর ১০০ ডলারের নিচে নামেনি। ১৮ মার্চে ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাস ফিল্ডে ইসরাইলি হামলা এবং এর পাল্টা আক্রমণে কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

বর্তমানে ওমান ও দুবাইয়ের মতো মধ্যপ্রাচ্যের তেলগুলো ইতোমধ্যে ১৫০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে, যা ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামকে ২০০ ডলারে পৌঁছানোর পথে নিয়ে যাচ্ছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতির মূল কারণ হরমুজ প্রণালি। পৃথিবীজুড়ে তেলের সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের শুরুতে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিলে সেখানে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক নৌ-বহর গঠন করে প্রণালিটি সচল করতে চাইলেও তা সফল হয়নি। বর্তমানে, কেবল ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং চীনের পতাকাবাহী কিছু জাহাজকে সেখানে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। আইইএ-এর উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন যে তেল উৎপাদনের ঘাটতি প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ব্যারেল হচ্ছে।

 

তেলের দাম এইভাবে বাড়তে থাকলে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে যাবে। ২০০৮ সালে বিশ্ব মন্দার সময় তেলের দাম ১৪৭.৫০ ডলার ছিল, যা বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির হিসাব অনুযায়ী প্রায় ২২৪ ডলারের সমান।

 

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, ২০০ ডলারের তেল বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হতে পারে। এতে শুধু জ্বালানি নয়, বরং সার এবং প্লাস্টিকের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটও তৈরি হবে। তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, তেলের চাহিদা কমে গেলে এবং আমেরিকা কিংবা কানাডার মতো দেশগুলো উৎপাদন বাড়ালে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।




শেয়ার করুন


পাঠকের মতামত

মেঘনা নিউজ-এ যোগ দিন

Meghna Roktoseba




এক ক্লিকে জেনে নিন বিভাগীয় খবর



© মেঘনা নিউজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by ShasTech-IT