পদ্মার বুকে নীরব আর্তনাদ : বাসডুবিতে প্রাণহানি বেড়ে ২৪
আরিফুল ইসলাম
বৃহস্পতিবার বিকেল ০৪:৫০, ২৬ মার্চ, ২০২৬
পদ্মা নদীর উত্তাল জলে যেন হঠাৎ থেমে গেল বহু জীবনের গল্প। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী একটি বাস নদীর গভীরে তলিয়ে যায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে শোকের ভার। নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে।
ঘটনার পরপরই শুরু হয় উদ্ধারের লড়াই। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নিরলস প্রচেষ্টায় নদীর ৮০ থেকে ৯০ ফুট গভীরতা থেকে বাসটি উদ্ধার করা হয়। একসময় সেটি পন্টুনের নিচে আটকে ছিল, যেন মৃত্যুর ফাঁদে বন্দি। ধীরে ধীরে উপরে তোলা হয় বাসটি, কিন্তু ততক্ষণে অনেক প্রাণ নিভে গেছে।
বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার মুহূর্তে অন্তত ১১ জন যাত্রী প্রাণপণে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। বাকিদের জন্য শুরু হয় দীর্ঘ, বেদনাময় অপেক্ষা, স্বজনদের চোখে তখন শুধু আতঙ্ক আর অশ্রু।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে ১৬টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, আরও কয়েকটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান। গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেও ২টি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নারী, পুরুষ, শিশু, একটি পরিবার, একটি গ্রামের, একটি জীবনের গল্প যেন একসঙ্গে থেমে গেছে। ৬১ বছর বয়সী রেহেনা আক্তার থেকে শুরু করে মাত্র ৭ মাস বয়সী শিশু আরমান। এই তালিকা কেবল সংখ্যা নয়, প্রতিটি নামই একেকটি অপূর্ণ স্বপ্ন, একেকটি ভাঙা সংসার।
বাসটির চালকও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, যা পুরো ঘটনার করুণতাকে আরও গভীর করে তুলেছে।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় এখনও শোকের ছায়া। নদীর ঢেউ যেন আজও বয়ে নিয়ে চলেছে সেই দিনের আর্তনাদ, যেখানে বেঁচে ফেরা মানুষগুলোর চোখে আতঙ্ক, আর হারানো স্বজনদের জন্য অপেক্ষমান মানুষগুলোর হৃদয়ে অসীম শূন্যতা।


