দশপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে লিগ্যাল নোটিশ
হোসাইন মোহাম্মদ দিদার, নিজস্ব সংবাদদাতা (দাউদকান্দি, কুমিল্লা)
মঙ্গলবার সকাল ০৮:৪৬, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দশপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
মো. এরশাদুর রহমান, অ্যাডভোকেট, জজ কোর্ট, কুমিল্লার মাধ্যমে পাঠানো ওই নোটিশে তাঁর মক্কেল খন্দকার নাসির উল কবীর, পিতা—মৃত খন্দকার নাজির আহমেদ, গ্রাম—দশপাড়া, থানা—দাউদকান্দি, জেলা—কুমিল্লাকে বিদ্যালয়ের ভূমিদাতার উত্তরাধিকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, দশপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য খন্দকার নাসিম উদ্দিন আহমদের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রিকৃত দানপত্রের মাধ্যমে মোট ৩৩ শতক জমি বিদ্যালয়ের অনুকূলে দান করা হয়। নোটিশদাতার দাবি, সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ডেও ভূমিদাতা হিসেবে ওই পরিবারের পরিচয় বিদ্যমান রয়েছে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনসংক্রান্ত নীতিমালায় বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা অথবা ভূমিদাতার উত্তরাধিকারীর প্রতিনিধিত্বের বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী তাঁর মক্কেলকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে ভূমিদাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আইনগত ভিত্তি থাকলে তা লিখিতভাবে জানানোর দাবি জানানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, খন্দকার নাসির উল কবীর গত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করে তাঁকে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির দাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানান। তবে ওই আবেদন গ্রহণের পরও তাঁকে অন্তর্ভুক্ত না করে কমিটি গঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
এ অবস্থায় লিগ্যাল নোটিশের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন বা অনুমোদনের কার্যক্রম স্থগিত রাখা, রেজিস্ট্রিকৃত দানপত্র, ভূমি রেকর্ড ও বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা-সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই এবং বিধি অনুযায়ী খন্দকার নাসির উল কবীরকে দাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া তাঁকে বাদ দিয়ে ইতোমধ্যে কোনো কমিটি গঠন বা অনুমোদন করা হয়ে থাকলে তা পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং তাঁর পূর্বের আবেদনটি নিষ্পত্তি করে লিখিতভাবে সিদ্ধান্ত জানানোর দাবিও করা হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ, আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগে আইনগত প্রতিকার চাওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।



