ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘আকাশের চোখ’ ধ্বংস: বড় ধাক্কা মার্কিন প্রতিরক্ষায়
আরিফুল ইসলাম
রবিবার বিকেল ০৫:৫৬, ২৯ মার্চ, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা দিয়েছে ইরান—এমনটাই দাবি মার্কিন কর্মকর্তাদের। বহুল ব্যবহৃত ও অত্যাধুনিক সতর্কতামূলক বিমান বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি এবার শত্রুর নিশানায় পড়ে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে চালানো এক হামলায়। লক্ষ্য ছিল শুধু একটি বিমান নয়—বরং যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ। হামলায় ওই বিশেষ বিমান ছাড়াও একাধিক রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া তথ্যে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ই-৩ সেন্ট্রি কেবল একটি বিমান নয়—এটি যেন আকাশের চোখ। শক্তিশালী রাডারের মাধ্যমে শত শত কিলোমিটার দূরের যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক তথ্য পৌঁছে দিতে পারে কমান্ডারদের কাছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অপরিসীম।
তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো—এই মডেলের বিমান যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখন খুবই সীমিত। একসময় প্রায় ৩০টি থাকলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ১৬টিতে। ফলে একটি বিমান হারানো মানে শুধু একটি যন্ত্রের ক্ষতি নয়, বরং কৌশলগত সক্ষমতায় বড় ফাঁক তৈরি হওয়া।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ই-৩ সেন্ট্রির বিকল্প হিসেবে একমাত্র ভরসা হতে পারে ই-৭ ওয়েজটেইল—কিন্তু সেটি পাওয়া সহজ নয়। প্রতিটি বিমানের মূল্য প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার, আর উৎপাদনও সীমিত।
নতুন প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, হামলার পর বিমানটির অবস্থা ছিল ভয়াবহ—প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত। এতে স্পষ্ট, এই হামলা ছিল পরিকল্পিত এবং অত্যন্ত নির্ভুল।
বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—আকাশে আধিপত্যের লড়াই কি আরও তীব্র হতে যাচ্ছে?


