বৃহস্পতিবার , ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
চুনারুঘাটে বেপরোয়া বালু বহনকারী ট্রাক-ট্রাক্টরের চলাচলে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

চুনারুঘাটে বেপরোয়া বালু বহনকারী ট্রাক-ট্রাক্টরের চলাচলে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

কিবরিয়া চৌধুরী ও জামাল হোসেন লিটন,হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ  হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন ছড়া ও নদী থেকে চলছে অবাধে বালু উত্তোলন। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলনের পর উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় পয়েন্ট তৈরি করে বিক্রি করা হচ্ছে এসব বালু। বালু বহনকারী বেপরোয়া ট্রাক-ট্রাক্টরের কারণে গ্রামীন সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রশাসন মাঝে মধ্যে ড্রেজার মেশিন ধ্বংস, শাস্তি ও জরিমানা করলেও থেমে নেই বালু উত্তোলন। ইজারার শর্তানুযায়ী ইজারাকৃত নির্দিষ্ট ঘাট ব্যতীত অন্য যে কোনো স্থানে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। কিন্তু উত্তোলনকৃত বালু আবার যত্রতত্র রাস্তার পাশে ডিপো বসিয়ে লোড-আনলোড করা হচ্ছে। এতে করে একদিকে যেমন জনসাধারণের যাতায়াতের সমস্যা হচ্ছে, অন্যদিকে ধুলা-বালু মানুষের গায়ে পড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নিয়মনীতি না মেনে ইজারাদার নির্দিষ্ট স্থান থেকে বালু উত্তোলনের পর জনবহুল রাস্তায় উপর রেখে বিক্রি করা হয়। উপজেলার গাজীপুর স্কুল এন্ড কলেজের সামনে, দেওরগাছ বাজারে ও পৌর শহরের খোয়াই নদী থেকে বালু উত্তোলন করে রাণীগাঁও সড়কের পাকুড়িয়া নামক স্থানের বৈধ-অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হয়। অনেক জায়গায় সরকারি নিলামকৃত ঘাটে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন যাবৎ বালু উত্তোলনের ফলে বদলে যাচ্ছে চুনারুঘাট উপজেলার মানচিত্র। খালগুলো ছড়ায় রূপান্তরিত হচ্ছে। ছড়া রূপ নিচ্ছে নদীতে। নদীগুলো ভেঙে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। করাঙ্গী নদী একটি ছোট নদী। এই নদীর উপজেলার সাটিয়াজুরী ইউনিয়নের কুরছিমুড়া, চান্দের টিলা, কোনাগাঁও থেকে প্রতিদিনই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে। আর এসব বালু কোনাগাঁও নামক স্থান থেকে উত্তোলন করে কৃষ্ণপুর গ্রামে রাখা হয়। বালুবাহী ট্রাক্ট্ররের চলাচলে চুনারুঘাট উপজেলার এমন কোন সড়ক নেই যেখানে অক্ষত আছে। সবগুলো সড়ক পথে বালুর গাড়ী চলাচল করার কারণে ভেঙ্গে খানা-খন্দে ভরে গেছে। কিন্তু খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের শর্তকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে প্রভাবশালী বালু খেকোরা ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছে বিভিন্ন ছড়া ও নদী থেকে। মেশিনের টানে নির্ধারিত ক্ষেতের বাইরে থেকেও বালু আসে মেশিনের পাইপে। এতে করে নদী-ছড়া গভীর হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন নদী ও ছড়া থেকে বালু উত্তোলন করে চা-বাগান ও পাহাড় ঘেরা চুনারুঘাট উপজেলার মানচিত্রকেই পাল্টে দিয়েছে। এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, বালু বহনকারী ট্রাক-ট্রাক্টর মালিকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে রাত ৮টার পর থেকে বালু পরিবহন করা হবে।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




এক ক্লিকে জেনে নিন বিভাগীয় খবর

©মেঘনা নিউজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by Ateam IT Solution