রবিবার , ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম :
এবার ঘরে ঘরে মৌসুমী ফল দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকির হোসেন দাউদকান্দির গোমতী নদীতে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন জাহাজ মালিক সমিতি ভোলায় দুটি মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ গৌরীপুর শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি আলী মনসুরের মৃত্যুতে শোক ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত সাপাহারে হতাশা কাটাতে জমে উঠেছে অনলাইন আম ব্যবসা সাপাহারে সফল উদ্যোক্তার রপ্তানি যোগ্য আম্রপালি আম গেল ইংল্যান্ডে সাপাহারে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার নতুন ঘর পাবার অপেক্ষায় ৬০ জন গৃহহীন পরিবার পরিবারের জিম্মায় আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান কুরআন তেলাওয়াত ও ইসলামী সংগীত প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শেষ করলো দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী  গৌরীপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদের দাফন সম্পন্ন

এখনো করোনায় আক্রান্ত হননি সেন্ট-মার্টিন দ্বীপের কেউ




কক্সবাজার পৌরসভায় করোনার সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। গত ৩১ মে পর্যন্ত ৩ হাজার ২৪৫ জন করোনা রোগী নিয়ে জেলার শীর্ষে এই পৌরসভা। দ্বিতীয় অবস্থান উখিয়ার। এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ২৫০ জন এবং তৃতীয় অবস্থানে থাকা টেকনাফে করোনা রোগী ৯২৫ জন।

তবে বঙ্গোপসাগরের মধ্যে অবস্থিত সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কেউ এখনো করোনায় আক্রান্ত হননি। সেখানকার মানুষের জীবনযাপনও স্বাভাবিক। টেকনাফ উপজেলার এই দ্বীপের লোকসংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। খোলামেলা পরিবেশ ও বাইরের লোকজনের দ্বীপে যাতায়াত বন্ধ থাকায় এমন পরিস্থিতি বলে দাবি করেন সেন্ট মার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মাসুদুর রহমান।

কক্সবাজার পৌরসভার পাশাপাশি উখিয়া ও টেকনাফে সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। সংক্রমণরোধে গত ২৩ এপ্রিল থেকে ৬ জুন পর্যন্ত এই দুই উপজেলায় জারি করা হয়েছে কঠোর লকডাউন। সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গার ৩৪টি আশ্রয় শিবিরে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি ৫টি রোহিঙ্গা শিবিরে চলছে কঠোর লকডাউন।

সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জেলার আট উপজেলা ও তিন পৌরসভায় ৩১ মে পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯৮ হাজার ৮৯০ জনের (এর মধ্যে ৪৩ হাজার ৫৩০ জন রোহিঙ্গা)। তাঁদের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৩৪৮ জনের (রোহিঙ্গা ১ হাজার ২১৭ জন)। করোনায় মারা গেছেন ১১২ জন (রোহিঙ্গা ১৬ জন)। রোহিঙ্গা ছাড়া জেলায় ৯ হাজার ১৩১ জন করোনা রোগীর মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভাসহ সদর উপজেলায় ৪ হাজার ৫৪৫ জন, উখিয়ায় ১ হাজার ২৫০ জন, টেকনাফে ৯২৫ জন, চকরিয়ায় ৭৬৫, রামুতে ৬৩৭, মহেশখালীতে ৬২৫, পেকুয়ায় ২৭৪ ও কুতুবদিয়ায় ১১০ জন।

সেন্ট মার্টিনে করোনা নেই
জেলার আট উপজেলায় করোনায় ৯৬ জনের মৃত্যুর মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভাসহ সদর উপজেলায় ৫৬ জন, টেকনাফে ১১ জন। এই ১১ জনের তালিকায় সেন্ট মার্টিনের কেউ নেই।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য মতে, ৩১ মে পর্যন্ত টেকনাফে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২ হাজার ৬৩৩টি। শনাক্ত হয়েছে ৯২৫ জনের। এর মধ্যে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কেউ নেই। ২ হাজার ৬৩৩ নমুনার মধ্যে সেন্ট মার্টিনের নমুনা ছিল প্রায় ৮০০ জনের। তার মধ্যে অন্তত ৩০০ ছিল নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশ সদস্যের নমুনা।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অনুপম বড়ুয়া বলেন, শহরের লোকবসতি অনেক। সমুদ্রসৈকতের কয়েক কিলোমিটারে কয়েক দিনে ছুটিতে চার-পাঁচ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে, স্বাস্থ্যবিধিও মানা হয় না। এ কারণে সংক্রমণ বাড়ছে। অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের মধ্যে ছোট দ্বীপে খোলামেলা পরিবেশ এবং বাইরের লোকজনের যাতায়াত সীমিত। সে কারণে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ সুরক্ষিত আছে।

একই অভিমত প্রকাশ করে সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, জুন-জুলাই মাসে সাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকে। এ সময় টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলও বন্ধ থাকে। বাইরের লোকজনের দ্বীপে আসা–যাওয়া বন্ধ থাকলে দ্বীপের সুরক্ষা আরও নিশ্চিত হবে।

সিভিল সার্জন মাহবুবুর রহমান বলেন, ফেব্রুয়ারি থেকে সেন্ট মার্টিনে পর্যটক নিয়ন্ত্রণ ছিল। শুরুর দিকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে লোকজনকে সচেতন করা হয়, মাস্ক পরতে উৎসাহিত করা হয়, বাইরের লোকজনের সঙ্গে দ্বীপের মানুষের মেলামেশাও হয়েছে কম। এ কারণে দ্বীপটি সুরক্ষিত।

সবকিছু স্বাভাবিক
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বলোচ্ছাসে লণ্ডভণ্ড সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ওঠা-নামার একমাত্র জেটিতে সারাক্ষণ আড্ডা মানুষের। সকাল, বিকেল, রাতে নানা বয়সী মানুষ জেটিতে এসে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতচিহ্ন দেখছেন। ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসা সাগরের নীল জলে (জেটির নিচে) রঙিন মাছের ছোটাছুটি (বিচরণ) উপভোগ করছেন। জেটির শেষ প্রান্তে দাঁড়ালে আয়ত্তে আসে দ্বীপের উত্তর-দক্ষিণের অন্তত তিন কিলোমিটার এলাকা। প্রাণবৈচিত্র্যে ভরপুর প্রবাল দ্বীপের এমন রূপ কোথাও নেই। ভার্চ্যুয়াল জুম লাইন ব্যবহার করে দেখা গেছে দ্বীপের এই চিত্র।

বিকেলে জেটির একটি অংশে গোল হয়ে বসে লুডু খেলছিলেন দ্বীপের পাঁচজন যুবক। কারও মুখে মাস্ক নেই, সামাজিক দূরত্বও বজায় রাখা হচ্ছে না। কারণ জানতে চাইলে খেলার দলের এক যুবক কেফায়ত উল্লাহ বলেন, সেন্ট মার্টিনে করোনা নাই, সবকিছু স্বাভাবিক।

প্রায় ৮০০ ফিট লম্বা জেটির বিভিন্ন অংশে আরও কয়েকটি দলে ৩০-৪০ জনের সমাগম। তাদের কারও মুখেই মাস্ক নেই। করোনা সংক্রমণ নিয়ে নেই কোনো আতঙ্ক।

সেন্ট মার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাইরের কাউকে দ্বীপে উঠতে দিচ্ছি না। এ কারণে দ্বীপের মানুষ সুরক্ষিত আছে।’

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত




ই-মেইলে সর্বশেষ সংবাদ

বিনামূল্যে সর্বশেষ সংবাদ সরাসরি আপনার ই-মেইলে পেতে আজই সাবস্ক্রাইব করুন!

তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক।
আমাদের গোপনীয়তার নীতি




এক ক্লিকে জেনে নিন বিভাগীয় খবর




করোনা তথ্য
দেশে আক্রান্ত
৮,৪৪,৯৭০
১৯ জুন, ২০২১
করোনা তথ্য
দেশে সুস্থ
৭,৭৮,৪২১
জুন ১৯, ২০২১
করোনা তথ্য
দেশে মৃত্যু
১৩,৩৯৯
জুন ১৯, ২০২১
করোনা তথ্য
বিশ্বে মৃত্যু
৩৮,৬৯,০৪৭
জুন ১৯, ২০২১
করোনা তথ্য
বিশ্বে আক্রান্ত
১৭,৮৭,০০,১৭১
জুন ১৯, ২০২১
©মেঘনা নিউজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত