শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটিতে নতুন শর্ত : সভাপতির জন্য বাধ্যতামূলক স্নাতক ডিগ্রি
আরিফুল ইসলাম
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ০৬:২০, ২৬ মার্চ, ২০২৬
দেশের বেসরকারি স্কুল-কলেজের পরিচালনায় আনতে যাচ্ছে আরও শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা। অ্যাডহক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে জারি হয়েছে নতুন ও জরুরি নির্দেশনা, যেখানে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন—কমিটির সভাপতি হতে হলে এখন থেকে থাকতে হবে ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা।
সম্প্রতি ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দকার এহসানুল কবিরের সই করা এ নির্দেশনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৬ মার্চের পরিপত্র কঠোরভাবে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।
নতুন বিধিমালায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচন আর আগের মতো সহজ বা অনিয়ন্ত্রিত থাকবে না। বরং একটি নির্দিষ্ট ও কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এই মনোনয়ন সম্পন্ন হবে।
প্রক্রিয়াটি এমন—প্রথমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে সম্ভাব্য তিনজন প্রার্থীর নাম ও জীবনবৃত্তান্ত প্রস্তাব করতে হবে। এরপর মহানগরের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা বা উপজেলায় ইউএনও বা ডিসির মাধ্যমে তা শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হবে। সবশেষে প্রস্তাবিত তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে সভাপতি হিসেবে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করবে শিক্ষা বোর্ড।
যোগ্যতার ক্ষেত্রেও রাখা হয়েছে নির্দিষ্ট মানদণ্ড। সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা, অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক কিংবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্য থেকেই প্রার্থী নির্বাচন করতে হবে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও রাখা হয়েছে—যদি কোনো ব্যক্তি শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখেন বা বিশেষ যোগ্যতা প্রদর্শন করেন, তাহলে বিশেষ বিবেচনায় তার ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করার ক্ষমতা রাখে মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা বোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নতুন নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো মাঠপর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ বজায় রাখা।
সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দ্রুত এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে—কারণ শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান অনেকাংশেই নির্ভর করে এর সুশাসনের ওপর।


