ঢাকা (ভোর ৫:২৪) মঙ্গলবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শুভেচ্ছা বার্তা :
মেঘনা নিউজ-এর এক যুগে পদার্পণ উপলক্ষ্যে সকল পাঠক-দর্শক, প্রতিনিধি, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহযোগী, কলাকৌশলীসহ দেশ ও প্রবাসের সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

ডা.আব্দুন নূর; এক শহীদের কাহিনি

অন্যান্য ২২৭০ বার পঠিত

ইবাদুর রহমান জাকির ইবাদুর রহমান জাকির Clock শুক্রবার দুপুর ০৩:২৯, ২৩ জুলাই, ২০২১

মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবময় ঘটনা। এই যুদ্ধের মধ্য দিয়েই আমরা লাভ করেছি স্বাধীন দেশ, নিজস্ব পতাকা। ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ বাংলার ছাত্র-যুবক, কৃষক-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের জনগণ বর্বর হানাদার পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। তারই পরিণতিতে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। বিশ্বের মানচিত্রে খোদিত হয় একটা নাম- ‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ’। যাদের অবদান অনিবার্য তাদের মধ্যে ডা.আব্দুন নূর প্রকাশিতব্য ‘মুক্তিযুদ্ধে বড়লেখা’গ্রন্থ।

বধ্যভূমিতে প্রাণ হারিয়েছের দৌলতপুর গ্রামের ডা. আব্দুন নূর। অগ্রসর চিন্তার মানুষ ডা. আব্দুন নূর (নুনুমিয়া নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন) আওয়ামী লীগের সক্রিয় সমর্থক ও সমাজকর্মী হিসেবে তার ব্যাপক পরিচিতি ছিল। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি বিভিন্ন কারণে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি।

গ্রামে থেকেই মুক্তিযুদ্ধের জন্য কাজ করতেন তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও তথ্য সরবরাহ করতেন। স্থানীয় রাজাকার চক্র তার ওপর কড়া নজর রাখতো এবং গতিবিধি অনুসরণ করতো। রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণেই রাজাকারেরা সন্দেহ প্রবণ ছিল ডা. নূরের উপর।পরিস্থিতি বিপদজনক হলেও দেশপ্রেমের কারণে ডা. নূর কর্তব্যে পিছু হটেননি। সারাক্ষণ রাজাকারদের দৃষ্টি এড়িয়ে সাহায্য করতেন মুক্তিযোদ্ধাদের। শেষ রক্ষা অবশ্য তাঁর হয়নি।

মুক্তিযোদ্ধাদের নিকট লেখা তার একটি চিঠি ফাঁস হয়ে যায় জুলাই মাসের মধ্যভাগে। রাজাকাররা ডা. আব্দুন নূরকে ধরে নিয়ে যায় শাহবাজপুর পাক-ক্যাম্পে।

ইতোপূর্বে একবার তিনি গ্রেফতার হয়েও ভাগ্যক্রমে রেহাই পেয়েছিলেন। আগের অপরাধের চেয়ে এবারের অপরাধ গুরুতর। ডা. নূর উপলব্ধি করলেন মৃত্যু তার সামনেই।দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ এ মানুষটি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার মতো মৃত্যুকে বরণের জন্য প্রস্তুত হলেন দেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ মনেকরে। নির্যাতন শুরু হলো। ক্ষত-বিক্ষত হলেন কিন্তু তিনি কোনো তথ্য ফাঁস করতে রাজি না হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড নির্ধারিত হল তার জন্য। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে তিনি ছিলেন অবিচল।

শাহবাজপুর উচ্চবিদ্যালয়ের পশ্চিমউত্তর কোণে টিলার নিচে কোমর সমান মাটির গর্তে তাকে নামানো হলো।হানাদারদের গুলিতে মুহূর্তে বিদীর্ণ হয়ে গেলো তার বুক। গর্তের মধ্যেই লুটিয়ে পড়লো নিথর দেহ।পাকসেনারা এ গর্তেই মাটিচাপা দেয় তাকে। ডা. নূর হত্যার নেপথ্যে সক্রিয় রাজাকাররা,কেউই তার অজানা কিংবা অচেনা নয়। প্রতিবেশী,গ্রামবাসীর মতো তার সাথে বেড়ে উঠেছিলো এসব শ্বাপদ। আজ ডাঃ আব্দুন নূরের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী।

লেখকঃ তায়েফ আহমদ




শেয়ার করুন


পাঠকের মতামত

মেঘনা নিউজ-এ যোগ দিন

Meghna Roktoseba




এক ক্লিকে জেনে নিন বিভাগীয় খবর



© মেঘনা নিউজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by ShasTech-IT