ঢাকা (সকাল ১০:২৪) বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম
Meghna News ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়ি বাঁধগুলো এখনো সংস্কার হয়নি, দুর্ভোগে উপকূলবাসী Meghna News কোটা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত আবু সাঈদ চিরনিদ্রায় শায়িত Meghna News চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাহাঙ্গীর সেতু বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ Meghna News গৌরীপুর পৌরসভায় নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের মত-বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Meghna News ধর্মপাশা উপজেলা প্রবাসী কল্যাণ সমিতি বিশ্বব্যাপী’র নবগঠিত কমিটির মিটিং অনলাইনে সম্পন্ন Meghna News সাঘাটায় বন‍্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে গো- খাদ্য বিতরণ Meghna News তোমাদের থেকেই একদিন আগামীর প্রধানমন্ত্রী হবে : শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এমপি সবুর Meghna News গোলাপগঞ্জ হেমিগঞ্জ দেওয়ান সড়কের বেহাল দশা, দেখার কেউ নেই!! Meghna News সিলেটে চতুর্থ দফায় বন্যার আশষ্কা!! ১২ ঘন্টায় ৭১.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত Meghna News দাউদকান্দিতে মিনি বার ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন সাহাপারা একাদশ

ফের পানির নিচে সিলেট নগরী, পদে পদে ভোগান্তি নগরবাসীর



সিলেট নগরী আবারও পানির নীচে, পদে পদে নগরবাসীর ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। টানা ৩ দিনের বৃষ্টিতে তৃতীয় দফায় বন্যার কবলে পড়তে হয়েছে নগরবাসীদের।

সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সিলেটে রোববার (৩০ জুন) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘন্টায় ১৫৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আর আগের ১২ ঘন্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৩৯ দশমিক ৬ মিলিমিটার। একই সাথে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ২৪ ঘন্টায় বৃষ্টি হয়েছে রেকর্ড ৩১৩ মিলিমিটার। আর ২৮ জুন থেকে ১ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ৩দিনে চেরাপুঞ্জিতে ৬৪০মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বুধবার (৩ জুলাই) পর্যন্ত আরও ৯৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বন্যা পরিস্থতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট সূত্রে জানা গেছে, এক মাস ধরে শুধু ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার উপরে ছিলো। কিন্তু সোমবার থেকে সিলেট ও চেরাপুঞ্জিতে টানা বৃষ্টির ফলে সুরমা, কুশিয়ারা ও সারি নদীর একাধিক পয়েন্ট বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এছাড়া সিলেটের লুভা, সারি, ডাউকি নদী এবং ধলাই নদের পানি বাড়ছে।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় কুশিয়ারা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে ১৩ দশমিক ৭৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এই পয়েন্টে বিপদসীমা ১২ দশমিক ৭৫। কুশিয়ারার আমলশীদ পয়েন্টে সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় ১৫ দশমিক ৬৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এই পয়েন্টে বিপদসীমা ১৫ দশমিক ৪০। কুশিয়ারার ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় ১০ দশমিক ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এই পয়েন্টে বিপদসীমা ৯ দশমিক ৪৫। সারি নদীর পানি সোমবার থেকে সন্ধ্যা ৬টায় ১২ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এই পয়েন্টে বিপদসীমা ১২ দশমিক ৩৫।

এছাড়া সুরমা নদীর সিলেট পয়েন্টেও বাড়ছে পানি। এই পয়েন্ট বিপদসীমার নিচে থাকলেও সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় ১০ দশমিক ৩৮ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়। এই পয়েন্টে বিপদসীমা ১০ দশমিক ৮০। পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, সিলেটে ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি চেরাপুঞ্জিতে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এটি অব্যাহত থাকলে সিলেট জুড়ে তৃতীয় দফা বন্যার মুখোমুখি হতে হবে আমাদের।

ফের নগরে জলাবদ্ধতা, নগরবাসীর ভোগান্তি :

ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিপাত হওয়ায় সোমবার সকাল হতে নগরের কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়নি। কিন্তু সময় যত গড়ায় বৃষ্টিও তত বাড়ে। শেষ বিকেলে শুরু হয় অঝোর ধারায় বৃষ্টি। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এতেই নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অনেকে অলি-গলি ডুবে যায়। বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উঠে যায় পানি। এক মাসের মধ্যে ফের দু:সহ যন্ত্রণার মুখোমুখি হন নগরের মানুষ। গোধূলী বেলায় মানুষজন মালামাল উপরে উঠাতে ছুটোছুটি করেন। রাত যত বাড়তে থাকে মানুষের দুশ্চিন্তাও তত বাড়তে থাকে। কখন যে ঘরে উঠে যায় পানি। ডুবে যাওয়ার শঙ্কায় নির্ঘুম রাত পার করেন বাসিন্দারা।

ওদিকে, সুরমা নদীর পানি বাড়ায় গভীর শঙ্কায় আছেন নগরবাসী। নগরীর অনেক বাসিন্দা বলেন, মে মাসের ২০ তারিখে ঘরে পানি উঠে যাওয়ায় ঘর ছেড়ে স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। আবার এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে শুরু করেছে। এবারও হয়তো নতুন দুর্ভোগ অপেক্ষা করছে। এভাবে আর কতদিন-এমন প্রশ্ন অগণিত বাসিন্দার।

নগরীর উপশহর, ভাতালিয়া, সুবহানীঘাট, শেখঘাট, কাজীরবাজার, তেররতন, জামতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

সকাল ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৃষ্টি হচ্ছিল এবং আরো এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কার কথা জানান সিটি সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে নগরীর উপশহরের বেশ কয়েকটি গলি পানি নিচে চলে গেছে, অনেকে বাসা দ্বিতীয় তলায় অবস্থান নিচ্ছেন। এ ভাবে নিচু এলাকায় সুরমা নদীর পানি ঢুকে জলাবদ্ধাতা সৃষ্টি হয়েছে।

শেয়ার করুন

GloboTroop Icon
পাঠকের মতামত

Meghna Roktoseba




এক ক্লিকে জেনে নিন বিভাগীয় খবর




© মেঘনা নিউজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by ShafTech-IT