শনিবার , ৮ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :
মেঘনা নিউজ-এর সকল পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহযোগী, প্রতিনিধি, কলাকৌশলীসহ সবাইকে জানাই পবিত্র ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক
মোট আক্রান্ত

১,৯৯,৩৫৭

সুস্থ

১,০৮,৭২৫

মৃত্যু

২,৫৪৭

ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর

পীরগাছা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে হারিকেনের ব্যবহার




একরামুল ইসলাম, পীরগাছা (রংপুর): সময়ের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে রংপুরের পীরগাছা উপজেলা থেকে এক সময়ের ব্যস্ত আলোকবর্তিকা হারিকেন। হারিকেন এক সময় সকল প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা হতো। গ্রাম বাংলার রাঙা বধূসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের একমাত্র আলোর উৎস ছিল হারিকেন। যা আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। শুধু গৃহাস্থলি কাজে নয়, ছেলেমেয়েদের সন্ধ্যার পর পড়াশোনার কাজে হারিকেন ব্যবহার করা হতো। যা বর্তমান সময়ে হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ধরণের ইলেকট্রিক লাইটের তাপে। বর্তমান যুগে বিভিন্ন কোম্পানির ইলেকট্রিক লাইট সহজেই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। বৈদ্যুতিক বাতির সহজীকরণের কারণে এর প্রভাব পড়েছে এক সময়ের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী আলোর বাহক হারিকেনের উপর। হারিকেন নিয়ে অনেক গল্প-উপন্যাস ও গান হয়েছে। অনেক গীতিকার হারিকেন নিয়ে গান লিখতে ভুল করেননি। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মনির খান বাংলার বধূতে গিয়েছিলেন “চিঠি লিখেছে বউ আমার ভাঙা ভাঙা হাতে, লণ্ঠন জ্বালাইয়া, নিভাইয়া চমকে চমকে রাতে” এখন বাংলার বধূরা রাতে হারিকেনের আলোয় আর চিঠি লিখে না। তারা রাতের আঁধারে হারিকেন জ্বালিয়ে চিঠি লেখা ভুলেই গেছে। হারিকেন বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হতো। যেমন-পোস্ট অফিসের ডাকপিয়নরা রাতে চিঠি আদান প্রদানের কাজে ব্যবহার করতো। রিকশা ও ভ্যানচালকরা আলোর বাহন হিসেবে হারিকেন জ্বালিয়ে তাদের রিকশা ও ভ্যান চালাত। নৌকার মাঝি নদী পারাপারে হারিকেনের আলো একমাত্র ভরসা ছিল। গ্রামাঞ্চলের বৃদ্ধ বা বৃদ্ধারা রাতের আঁধারে হারিকেন জ্বালিয়ে তারা খোশগল্প করতো। পথচারীরা রাতের অন্ধকারে রাস্তা চলাচলের সময় হারিকেন ব্যবহার করতো। জেলেরা রাতের আঁধারে মাছ শিকারে হারিকেনের আলোর উপর নির্ভর ছিল। বাংলার বধূরা তার প্রবাসীর স্বামীর কাছে অথবা প্রেমিকা-প্রেমিকের কাছে তার মনের কথা জানাতে হারিকেনের আলো জ্বালিয়ে তারা রাত-বেরাতে চিঠি লিখতো। রেলগাড়ির গার্ডরাও হারিকেনের আলো ব্যবহার করতো। হারিকেন মেরামতের জন্য হাট-বাজারের অলিগলি কিংবা পথের ধারে অনেক মেরামতকারী বসতো। গ্রামাঞ্চলে তাদেরকে বলা হতো মেকার। তাদের আর চোখে পড়ে না। তারা পেশা বদল করে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়েছে। মোঘল আমলে হারিকেনের ব্যবহার প্রচলন হলেও আজ তা গ্রাম বাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। শুধু হারিকেনই নয়, এর পাশাপাশি ছোট ছোট আলোর ডিব্বা, কুপি, গচা, ল্যাম্প, পিদিম বা প্রদীপগুলো কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে। এর সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন অনেকেই। হয়তো এক সময় হারিকেন দেখতে কোনো এক প্রজন্মকে যেতে হবে জাদুঘরে। সুরভী নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, শেখ হাসিনা সরকার বর্তমানে বাংলার প্রতিটা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছে। পথে-ঘাটে হাট-বাজারে সবখানে এখন বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হয়েছে। তাই হারিকেনের আর প্রয়োজন পড়ে না। এ বিষয়ে ভ্যানচালক এরশাদ মিয়া বলেন, আগে আমরা রাতে ভ্যান চালানোর জন্য হারিকেন ব্যবহার করতাম। কিন্তু এখন বাজারে বিভিন্ন ধরণের বাতি পাওয়া যায়, সেই বাতি এখন ভ্যান চালানোর জন্য ব্যবহার করি। ছোট বাতিগুলো দামে সস্তা, আলোও বেশি।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত

Ad_970x120




ইমেইলে সর্বশেষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আজই গ্রাহক হোন!

তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক।




এক ক্লিকে জেনে নিন বিভাগীয় খবর




করোনা তথ্য
দেশে আক্রান্ত
১,৯৯,৩৫৭
Developed By Ariful
করোনা তথ্য
দেশে সুস্থ
১,০৮,৭২৫
Developed By Ariful
করোনা তথ্য
দেশে মৃত্যু
২,৫৪৭
Developed By Ariful
করোনা তথ্য
বিশ্বে মৃত্যু
৫,৯৩,০৭২
Developed By Ariful
করোনা তথ্য
বিশ্বে আক্রান্ত
১,৩৯,২১,৬৯৯
Developed By Ariful
©মেঘনা নিউজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত