শুক্রবার , ১০ই এপ্রিল, ২০২০ ইং
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ১১ বছর আজ

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ১১ বছর আজ

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দফতরে যে জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল তা বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি কলঙ্কময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

একথা বলার অপেক্ষা রাখে না, সেদিনের সেই ঘটনা শুধু বাংলাদেশের মানুষের বিবেককেই নাড়া দেয়নি, বিশ্ববাসীর বিবেককেও নাড়া দিয়েছিল প্রচণ্ডভাবে। একক কোনো ঘটনায় এতগুলো সামরিক কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড ইতিপূর্বে পৃথিবীর আর কোথাও ঘটেনি।

একটি নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ঘটে যাওয়া এ ঘটনার পেছনে কী এমন অভিসন্ধি কাজ করেছিল তা আজও আমাদের অজানা রয়ে গেছে। ঘটনার পরপর সরকারি আদেশে যতগুলো তদন্ত সম্পন্ন হয়েছিল সেসব তদন্তের রিপোর্টেও এ সম্পর্কে উল্লেখ আছে কিনা আমাদের জানা নেই। ফলে ফেব্রুয়ারি মাস এলেই পিলখানা সেনাকর্মকর্তা হত্যা ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত, সে প্রশ্নটি মানুষের মনে ফিরে আসে বারবার।

সাবেক সেনাকর্মকর্তা হিসেবে এবং এ রক্তক্ষয়ী ঘটনার একজন প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী হিসেবে আমি নিজেও সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফিরছি। অথচ দেশের স্বার্থে, ভবিষ্যতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সেজন্য এ হত্যাকাণ্ডের অনুঘটকদের চিহ্নিত করা অতি জরুরি।

সেদিনের ঘটনায় জড়িত বিডিআর সদস্যদের তাৎক্ষণিক বক্তব্যে যে কারণগুলো তারা উল্লেখ করেছিল তা কতটুকু গ্রহণযোগ্য সে প্রশ্নের মীমাংসা আজও হয়নি। ঘটনার পেছনের যে কারণ তারা দেখিয়েছিল, তা যে হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত গড়াতে পারে এ কথা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়; কিন্তু সেদিনের সেই ঘটনা শুধু হত্যাকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ ছিল না; হত্যাকাণ্ডের পর কর্মকর্তাদের মৃতদেহকে করা হয়েছে চরম অপমানিত। বিকৃত করা হয়েছে তাদের মৃতদেহ।

এর পেছনে কী কারণ থাকতে পারে সে রহস্য আজও কি উদ্ধার হয়েছে? হত্যাকাণ্ডের পরপর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বিডিআর সদস্যদের তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকার সরাসরি সম্প্রচার এবং এ সম্প্রচারের ফলে পিলখানার উত্তেজনা ঢাকায় কেন্দ্রভূত না থেকে মুহূর্তে তা ঢাকার বাইরে অবস্থিত বিডিআর ব্যাটালিয়ন সদস্যদের ভেতর যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল, সে রহস্য কি আজও উন্মোচিত হয়েছে?

আমি তখন ঢাকার বাইরের একটি বিডিআর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হিসেবে কর্মরত। ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে আমার দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বর্ডার আউট পোস্ট বা বিওপি পরিদর্শন শেষে ব্যাটালিয়ন সদর দফতরের উদ্দেশে রওনা হয়েছি মাত্র। এমন সময় আমার সেলফোনে খবর পেলাম পিলখানায় অবস্থিত বিডিআর সদর দফতরের দরবার হলে বিডিআর সদস্যরা সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর গুলি চালিয়েছে। খবরটা শুনে আমি চিন্তিত হয়ে পড়লাম।

দুর্ঘটনা সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য পিলখানায় কর্মরত আমার ঘনিষ্ঠ পরিচিত শহীদ লে. কর্নেল সাহেলকে কল দিলাম। অনেকক্ষণ রিং হওয়ার পর সাহেল কলটি রিসিভ করলে আমি ওখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাইলাম। তিনি আমার কণ্ঠস্বর চিনতে পেরে খুব নিুস্বরে বলে উঠলেন, ‘স্যার বিডিআর সদস্যরা আমাদের সবাইকে দরবার হলে আটকে রেখে গোলাগুলি শুরু করেছে। এখন বেশি কথা বলা যাবে না।

বেঁচে থাকলে কথা হবে ইনশাআল্লাহ।’ এতটুকু বলেই সাহেল সেলফোনের কানেকশনটি কেটে দিলেন। সাহেলের গলার স্বর শুনে ওকে খুব ভীতসন্ত্রস্ত মনে হল। কথা বলার সময় আমি ওর আশপাশে বেশ হৈচৈর শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম; এ কারণে ওর কথা তেমন স্পস্ট বোঝা যাচ্ছিল না। ওর কথার ফাঁকে আমিও বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছিলাম।

সাহেলের সঙ্গে কথা বলে আমি আরও বেশি চিন্তিত হয়ে পড়লাম। আমার ভেতর তখন কিছুটা অস্থিরতাও কাজ করছিল। এ অবস্থায় ড্রাইভারকে দ্রুত ব্যাটালিয়ন সদরে গাড়ি চালিয়ে যেতে বললাম। কিছুক্ষণ পর আমার ভেতরের অস্থিরতা দূর করার জন্য সাহেলকে আবার কল দিলাম। এ যাত্রায় সাহেল আর আমার কলটি ধরলেন না। ওর সেলফোনটি বন্ধ পেলাম। এরপর আমি আর কখনও সেলফোনে কল দিয়ে সাহেলকে পাইনি।

লে. কর্নেল সাহেল খুব দ্রুতই সাতান্নজন শহীদ কর্মকর্তার একজন হয়ে গেলেন। এরই মধ্যে আমার পার্শ্ববর্তী ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক আমাকে কল দিয়ে পিলখানার পরিস্থিতি সম্পর্কে যা শুনেছেন তা জানালেন। তিনি আমার সিনিয়র, আমরা উভয়েই একই সেক্টরের অধীনে পাশাপাশি বিডিআর ব্যাটালিয়নে কর্মরত। সেলফোনে পিলখানার পরিস্থিতি নিয়ে আমরা কিছুক্ষণ আলোচনা করলাম এবং ওই মুহূর্তে আমাদের কী করণীয় সে সম্পর্কে পরামর্শ বিনিময় করে ফোন রেখে দিলাম। অতঃপর আমি ব্যাটালিয়ন সদরে ফিরে এসে কর্মকর্তা, এডিএ এবং সুবেদার মেজরকে আমার অফিসে ডেকে পাঠালাম।

সবার সঙ্গে আলোচনা করে পিলখানার সার্বিক পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করলাম এবং উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমাদের কী করণীয় সে ব্যাপারেও পর্যালোচনা করে নিলাম। সুবেদার মেজর ব্যাটালিয়নের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে বলে আমাকে আশ্বস্ত করলেন।

বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানার সঙ্গে অফিসিয়াল যোগাযোগ বন্ধ। সরকারি কোনো দিকনির্দেশনা পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই এ মুহূর্তে; যা কিছু করার নিজ থেকেই করতে হবে ভেবে নিয়ে আমি ব্যাটালিয়নের সিনিয়র সদস্যদের সঙ্গে পিলখানার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং সে মোতাবেক ব্যাটালিয়নের সব নন-কমিশন অফিসার (এনসিও) এবং জুনিয়র কমিশন অফিসারসহ (জেসিও) অন্য সিনিয়র সদস্যদের ব্যাটালিয়ন ট্রেনিং শেডে সমবেত করার জন্য সুবেদার মেজরকে অনুরোধ করলাম।

এরই মধ্যে ঢাকা থেকে কর্মকর্তাদের মৃত্যুর সংবাদ পেতে শুরু করেছি। সুবেদার মেজর সবাইকে সমবেত করে খবর দিলে আমি ট্রেনিং শেডে হাজির হলাম। ওদের সঙ্গে কথা বলে বোঝলাম পিলখানার ঘটনা সম্পর্কে ওরা সবাই অবগত। এ ব্যাপারে আমাদের যে কিছু করণীয় নেই, তা ওরা সবাই উপলব্ধি করতে পেরেছে। কথা বলার পর আমি নিজেকে কিছুটা ভারমুক্ত অনুভব করলাম। নিশ্চিত হলাম, ব্যাটালিয়ন এখনও আমার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে। অতঃপর কথা বলা শেষে আমি আমার অফিসে ফিরে আসি।

বেলা তখন মধ্যাহ্ন। এমন সময় ব্যাটালিয়নের এডিএ ও সুবেদার মেজর একযোগে আমার অফিসে প্রবেশ করলেন এবং কিছুটা অনুযোগের স্বরে বলে উঠলেন, ‘স্যার টেলিভিশনে পিলখানার বিদ্রোহী সদস্যদের বক্তব্য সরাসরি প্রচার করছে। ওরা অফিসারদের সম্পর্কে কী সব আপত্তিজনক কথা বলছে। এসব সৈনিক ঘটনা সম্পর্কে তাদের মতো করে ব্যাখ্যা দিচ্ছে। স্যার রিক্রিয়েশন (টিভি রুম) রুমে বসে আমাদের সৈনিকরা টেলিভিশন দেখছিল।

পিলখানার ওই সৈনিকদের কথা শুনে আমাদের সৈনিকদের ভেতর কেমন যেন গুনগুন (Murmuring) শুরু হয়ে গেছে। কেউ কেউ আবার পিলখানার সৈনিকদের প্র্রতি সমর্থনও প্রকাশ করছে। স্যার, এ পরিস্থিতি আমার কাছে কিন্তু ভালো ঠেকেছ না। এরকম চলতে থাকলে স্যার, ব্যাটালিয়ন আর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না। সুবেদার মেজরের কথা শুনে আমি সঙ্গে সঙ্গে আমার অফিসের টেলিভিশন অন করে দেখি ঘটনা সত্য!

একজন বিডিআর সদস্য বেশ উচ্চস্বরে সামরিক অফিসারদের চরিত্রস্খলন করে কথা বলছে আর তার মুখের সামনে কী নির্দ্বিধায় একটি মাইক্রোফোন হাতে একজন টিভি রিপোর্টার দাঁড়িয়ে আছেন! দেখে আমার মনে হল বিডিআরে কর্মরত সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিডিয়া ট্রায়ালের শুনানি চলছে। আমি সুবেদার মেজরকে বললাম, আপনি রিক্রিয়েশন রুমে চলে যান এবং সৈনিকদের বোঝানোর চেষ্টা করে আমাকে জানান।

সুবেদার মেজর চলে গেলে আমি ঢাকা সেনানিবাসে ফোন করে টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার বন্ধের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ করলাম। কারণ হিসেবে বললাম, টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত সৈনিকদের বক্তব্য শুনে ঢাকার বাইরের ব্যাটালিয়ন সদস্যরা পিলখানার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি জাস্টিফাইড বলে মনে করতে শুরু করেছে, ফলে তারা আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবে।

আমি আরও যোগ করলাম, এ অপপ্রচার বন্ধ করা না গেলে ব্যাটালিয়নের নিয়ন্ত্রণ রক্ষা করা আমাদের পক্ষে দুরূহ হয়ে পড়বে। আদতে তাই হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকার বাইরের বিডিআর ব্যাটালিয়নগুলো একে একে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল। এসব ব্যাটালিয়নের সদস্য সামরিক কর্মকর্তাদের এমন চরমভাবে লাঞ্ছিত ও অপমান করেছে যা ভাষায় প্রকাশের অযোগ্য। বেশকিছু ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তাদের গুলি করে হত্যার প্রচেষ্টাও চালানো হয়েছিল।

এসব সৈনিকের বক্তব্য সরাসরি প্রচার করেই টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ক্ষান্ত ছিল না; তাদের আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠান থেকে কিছু কিছু উসকানিমূলক বক্তব্যও ‘আগুনে ঘি ঢালা’র কাজটি করেছিল সেদিন। কোনো কোনো আলোচক তাদের বক্তব্যে বাহিনীগুলোর মধ্যে এমন বিভাজন তৈরির চেষ্টা করেছিলেন, যা দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চিড় ধরানোর শামিল বলে মনে হয়েছিল।

তারা এ বিদ্রোহের ঘটনাকে অনেকদিনের তথাকথিত ‘পুঞ্জীভূত ক্ষোভ’ আখ্যা দিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন। তাদের সেদিনের সেই ভূমিকা আমাদের মতো ভুক্তভোগীদের কাছে আজও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে।

আরও একটি ঘটনার পরিষ্কার কোনো উত্তর খুঁজে পাইনি আজও। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের কোনো সংবাদমাধ্যমে বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালকসহ দরবার হলে উপস্থিত ১৬৮ কর্মকর্তার ভাগ্যে কী ঘটেছে সে ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে না পারলেও ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিদেশি একটি টিভি চ্যানেল কীভাবে তাদের দুপুর ২টার সংবাদে ১৫ সেনা কর্মকর্তাসহ বিডিআর মহাপরিচালকের হত্যার নিশ্চিত খবরটি প্রচার করতে সক্ষম হল?

তখনকার সংবাদমাধ্যমে জানা যায়, ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রনামধারী একদল যুবক বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

এসময় তারা বিদ্রোহের ঘটনায় পিলখানার আশপাশে অবস্থানরত সেনাবাহিনী সদস্যদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছিল, ‘বিডিআর-ছাত্র ভাই ভাই, সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাও।’ একইদিন দুপুরে পিলখানার বিডিআর সদর দপ্তরের ৩ নম্বর গেটে শতাধিক যুবক ‘বিডিআর-জনতা ভাই ভাই’ বলে স্লোগান দিয়ে বিদ্রোহীদের দাবির সমর্থনে মিছিল বের করে। গেটে প্রহরারত বিদ্রোহীরা মাঝে মাঝে আকাশে ফাঁকা গুলি করে মিছিলকারীদের উৎসাহ জোগাতেও দেখা যায়।

স্লোগানের এ ঘটনা ১৯৭৫ সালের ৩-৭ নভেম্বরে জাসদের নেতৃত্বে তথাকথিত ‘সিপাহি বিপ্লব’-এর ঘটনার কথাই মনে করিয়ে দেয়। নভেম্বরের ঘটনায়ও একই ধরনের স্লোগান আমরা শুনেছিলাম, ‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই অফিসারের রক্ত চাই।’ তাই মনে হয়, পিলখানায় সেদিনের এত বড় একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা গুটি কয়েক এডিএ, জেসিও, নায়েক কিংবা হাবিলদারের নেতৃত্বে সংঘটিত করা সম্ভব ছিল কিনা।

সম্পূর্ণ ঘটনা পর্যালোচনা করে প্রতীয়মান হয়, ২৫ ফেব্রুয়ারির এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে, তাৎক্ষণিক কোনো ক্ষোভ থেকে নয়। সেনাকর্মকর্তাদের মৃতদেহের সঙ্গে যে অসম্মান ও পৈশাচিকতা দেখানো হয়েছে তা কোনো সাধারণ জওয়ানের পক্ষে এ ধরনের কাজ করা প্রায় অসম্ভব। এসব করা হয়েছে বিশেষ কিছু উদ্দেশ্য নিয়ে, প্রতিশোধস্পৃহা থেকে।

স্বাধীনতার পর থেকে এদেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা যে ধারাবাহিক অশুভ পরিকল্পনা করে আসছে, ২৫ ফেব্রুয়ারির পিলখানা হত্যাকাণ্ড সে পরিকল্পনারই একটি অংশ মাত্র। ওরা খুব চতুরতার সঙ্গে পিলখানার ঘটনাটি সংঘটিত করার চেষ্টা করেছে।

মনে রাখতে হবে, বিডিআর সদস্যদের ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিডিআরকে ওরা যেমন ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল, তেমনি বিডিআরে কর্মরত সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যা করে সেনাবাহিনীকে ক্ষেপিয়ে তুলে এক ঢিলে দুই পাখি মারার ফন্দি এঁটেছিল। এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, পিলখানার হত্যাযজ্ঞে শুধু অংশগ্রহণকারীদের বিচার করলেই চলবে না, একই সঙ্গে এ ঘটনার পেছনের আসল কুশীলবদের শনাক্ত করে ন্যায়বিচার করা না গেলে ভবিষ্যৎও আমাদের ক্ষমা করবে না।

একেএম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা

ভিডিওতে দেখুন পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তার নাম এবং ছবি।

বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

ইমেইলে সর্বশেষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আজই গ্রাহক হোন!

তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক।




এক ক্লিকে জেনে নিন বিভাগীয় খবর

©মেঘনা নিউজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত