ঢাকা (সকাল ১১:৩০) রবিবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শুভেচ্ছা বার্তা :
মেঘনা নিউজ-এর এক যুগে পদার্পণ উপলক্ষ্যে সকল পাঠক-দর্শক, প্রতিনিধি, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহযোগী, কলাকৌশলীসহ দেশ ও প্রবাসের সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
শিরোনাম

তরুণ কথাসাহিত্যিক অসীম হিমেলের যে দুটি বই পাঠকের হৃদয় জাগাবে

স্টাফ রিপোর্টার স্টাফ রিপোর্টার Clock রবিবার সকাল ১০:২৭, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

অসীম হিমেল। নামেই এক ধরনের ভাব ও শান্তির তিলক। তিনি মুলত চিকিৎসা বিজ্ঞানের নানান খুটিনাটি জানেন। অর্থপেডিক সার্জন। চিকিৎসাবিদ্যায় বিসিএস নামক সোনার হরিণ তার কব্জায় বন্দী।

 

এর বাইরেও তার যে পরিচয় তিনি একজন তুখোড় কথাসাহিত্যিক। একটি নামের ভূমিকা নিয়ে তিনি বেশ কয়েকটি উপন্যাস লিখে ফেলেছেন। যেমন একটি চরিত্র ধরে তার একাধিক উপন্যাস বের হয়েছে। অর্থাৎ তিনি সিরিজ উপন্যাস লিখেছেন। এসব উপন্যাসে একটি চরিত্র বা একটি নাম কমন। তিনি খেদু মিয়া নামে একটি চরিত্রের গর্বিত জনক। সিরিজ উপন্যাস লেখা কঠিন কাজ; এটা কঠিন কাজ জেনেও তিনি সহজ করে ফেলছেন।

 

এই খেদু মিয়া ঘিরে তার উপন্যাস। কে এই খেদু মিয়া? তা জানতে ২৬ এর বই মেলায় লেখকের সর্বশেষ প্রকাশিত “১৭ নম্বর বেডে খেদু মিয়া ” একটি উপন্যাস পড়ার জন্য মনস্থির করি। এবারের বই মেলায় রমজান মাসে হওয়ায় আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি। এ কারণে রকমারি থেকে অনলাইনে লেখকের এই বইটি সংগ্রহ করি। তবে তিনি খেদু মিয়া চরিত্র অবলম্বনে তিনটি উপন্যাস লিখেছেন এছাড়াও তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা১০টি। বইগুলো পাঠক নন্দিত।

 

 

এবার লেখকের সর্বশেষ প্রকাশিত” সতরো নম্বর বেডে খেদু মিয়া ” বই নিয়ে আলোচনা করছি। এই খেদু মিয়াকে আবর্তিত করে লেখক যে গল্প তৈরি করেছেন তার বেশিরভাগ গ্রন্থ প্রায় জনপ্রিয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান “অন্য প্রকাশ “থেকে প্রকাশিত। বইগুলোর প্রচ্ছদেও রয়েছে দারুণ আকর্ষণ। লেখকের এই বইয়ের গল্পের প্লট তৈরির ক্ষেত্রে খুব শতর্কতা অবলম্বন করেছেন। তা পাঠে বুঝা যায়।

 

এই বইয়ের যেসব চরিত্রগুলো পাঠকের সামনে লেখক চমৎকার বর্ণনা শৈলীতে তুলে আনছেন সেসব চরিত্রের বিষয়ে একটা আলোচনাই হলো মূল বিষয়।

 

খেদু মিয়া হলো এই গল্পের উপজীব্য বিষয়। তিনি পেশায় চিকিৎসক হয়েও হাড়ের সমস্যার কারণে চিকিৎসা নিতে থাকেন। একটি চিকিৎসা শয্যার কথা নিদারুণ এক বর্ণানুক্রমে ফুটে ওঠেছে। এই মেডিকেল ১৭ নম্বর বেডটি যেন অপয়া। অর্থাৎ এই বেডে চিকিৎসা নিলে রোগের চিকিৎসা সমাধানের মাধ্যমে আরোগ্যলাভ না হয়ে উল্টো রোগীর জীবন নিয়ে শংকা তৈরি হয়। তাই বলাবাহুল্য এটি কোনো এক অজানা বিজ্ঞানের আড়ালে আধিভৌতিক বিষয় হয়তো লুকায়িত।

 

রিয়া এই বইয়ের গল্পে এক আশ্চর্যজনক ও মুখ্য চরিত্র। সে মেডিকেল কলেজের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী। রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি শিমুল নামের এক তরুণের। তবে রিয়ার মাঝে মাছ নিয়ে এক অপছন্দ তৈরি হয়। রিয়ার মাছ পছন্দ নয়। এ বিষয়টি এ সমাজের কমন বিষয় । প্রায় মেয়েদের কিংবা আমারও মাছ পছন্দ নয়। মাছের গন্ধ সহ্য করতে পারি না। রিয়া মাছের গন্ধ সহ্য করতে পারায় তৈরি হয় রিয়া ও শিমুলের সম্পর্ক ভাঙনের খেলা। শেষমেশ সম্পর্ক ভেঙেও যায়৷ রিয়া সুসাইড করে বসে এই জেদে।

বই বইয়ের গল্পে আসলে পাঠক অনেকটা সময় নিজেকেই ফিরে পাবে। আমরা শৈশবে নদীনালা খাল বিল থেকে বিভিন্ন উপায়ে মাছ ধরতাম। এখানে লেখক শীতলক্ষ্যা নদীর কথাও বলেছেন তার লেখার বর্ননা ভঙ্গিতে। মাছ ধরা বা নদীর কথা আসায় এই স্মৃতি রোমন্থন করে আমি নষ্টালজিক হই। লেখক শিমুল নামের চরিত্রটি মাছ ধরার নেশায় পেয়ে বসে ; সেই বিষয়টি চমৎকারভাবে তুলে আনছেন। ছাত্র -শিক্ষকের একটি সম্পর্ক তৈরি হতো। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে শ্রদ্ধা ও স্নেহময় একটা বন্ধন তৈরি হতো। দীর্ঘদিন পর রিয়া তার শিক্ষক খেদু মিয়ার কাছে যায়। তিনি (শিক্ষক) রিয়াকে খুব সহজে চিনতে পারেন। এই বিষয়টি রিয়াকে অবাক করে। আমিও যখন আমার পুরোনো সেই শিক্ষকের কাছে যাই; তিনি যখন চিনতে পারেন আমাকে। তখন মনটা বড় হয়ে যায়। শিক্ষক তখন শিক্ষার্থীর হৃদয়ে হয়ে ওঠেন এক মহান রাজার মতোন। এভাবেই লেখক সমাজের বা আমাদের পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন খুটিনাটি তিনি চমৎকার শব্দ শৈলীতে তুলে ধরছেন। এই বইয়ে তিনি কোনো খেই না হারিয়ে, কোনো শব্দের পুনরাবৃত্তি না করে ধারাবাহিকভাবে বর্ননা করেছেন একে একে সব গুলো গল্প । যা খুব জটিল বিষয়। জটিল বিষয়টি তিনি খুব সহজে তুলে এনেছেন।

 

 

কিছু গল্প থাকে—শেষ করার পরও শেষ হয় না। পাতা বন্ধ হয়, কিন্তু ভিতরের দরজাগুলো খুলতেই থাকে। “সতেরো নাম্বার বেডে খেদু মিয়া” নামের মধ্যেই এক ধরনের নিঃশব্দ শীতলতা।

যেন কোনো হাসপাতালের নির্জন কোণে দাঁড়িয়ে থাকা এক বেড। যার চারপাশে জমে আছে অজানা কষ্ট, অদেখা ইতিহাস।

রিয়া—ভালোবাসার ভাঙা আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি হারানো এক মেয়ে।

মেডিকেলের শেষ বর্ষের ছাত্রী, কিন্তু নিজের ভেতরের যন্ত্রণা সামলাতে অক্ষম।

তার সিদ্ধান্ত হঠাৎ নয়—বরং জমে থাকা অভিমান, প্রত্যাখ্যান আর নিঃসঙ্গতার এক নিঃশব্দ বিস্ফোরণ।

চলে যাওয়ার আগেও সে দিয়ে যেতে চায়—নিজের চোখ, নিজের অঙ্গ,যেন মৃত্যুর মাঝেও কিছু আলো রেখে যায়। কী এক নিদারুণ মুহুর্ত যেন যাপিত জীবনের ঘোর কাটে না। শেষ হলেও থেকে যাওয়া এক আবেশের নাম। এক আবেগের নাম।

 

খেদু মিয়া—অন্যরকম এক অনুসন্ধানী চরিত্র।

চোখে তার কৌতূহল, মস্তিষ্কে যুক্তির ধার।

অতিপ্রাকৃত বলে যেগুলোকে আমরা ভয় পাই,

সেগুলোর আড়ালে লুকিয়ে থাকা বাস্তবের মুখ উন্মোচনই তার কাজ।

সে ভয় পায় না—বরং ভয়কে বিশ্লেষণ করে।

রিয়ার প্রেমিক—একটি ছোট কারণেই যে সম্পর্ক ভেঙে দিতে পারে, নতুন করে সংসারি হতে পারে। সে যেন আজকের অনেক অস্থির ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি। আসলেই এটি বাস্তব সমাজের প্রতিচ্ছবি। এই সমাজে এমন হয় এখন ; পান থেকে চুন খসলেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। সেই বিষয়টি লেখক চমৎকার শব্দ বন্দনা আর বাক্যের যাদুকরী মিশেলে মলাটবদ্ধ করেছেন।

 

মানুষের উপস্থিতি ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু প্রভাব গভীর কারণ তার সিদ্ধান্তই রিয়ার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আর আছে—সেই হাসপাতাল, সেই “সতেরো নাম্বার বেড”—যেন নীরব এক চরিত্র। শত কষ্ট বয়ে চলা তটিণী-র মতো যেখানে প্রতিদিন জন্ম নেয় গল্প,আর কিছু গল্প হয়ে ওঠে অস্বস্তিকর, অদ্ভুত, ব্যাখ্যাতীত।

গল্পটা এগোয় না, বরং খুলে যায়। স্তর ভেঙে স্তর উঠে আসে—ভয়, বিকৃতি, নিঃসঙ্গতা, আর মানুষের লুকোনো অন্ধকার। কখনো মনে হয় কিছু আছে—অদৃশ্য, অজানা। আবার হঠাৎই বুঝতে পারি,সবচেয়ে বড় ভয়ের নামই মানুষ।

 

এই বই শব্দ দিয়ে ভয় দেখায় না,চুপচাপ পাশে বসে থাকে।আর ধীরে ধীরে তোমার ভেতরে ঢুকে যায়।

শেষে এসে মনে হয়—সব গল্পের শেষ নেই,

কিছু গল্প শুধু থেমে যায়!

আর আমরা সেই থেমে যাওয়া জায়গাটায় দাঁড়িয়ে থাকি;অনেকক্ষণ। একটি ক্ষুদ্র বই,

কিন্তু তার নীরবতা ভীষণ গভীর।

 

লেখকের এখানে বলা যায় যে বিষয়টায় ঘাটতি রয়েছে। তা হলো পাঠকের জন্য চাইলে তিনি আরও দরদ দিয়ে লেখাগুলোর কাজ সম্পদন করতে পারতেন; এতে পাঠক একধরনের সুখানুভব পেতেন। লেখক ও পাঠকের মধ্যে একধরনের গোপন নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হতো।

তাই এই কথাসাহিত্যিককে পরবর্তীতে হয়তো লেখক-পাঠককের একটা সম্পর্ক তৈরি করতে যেসব মসলা দিতে হয় তা করতে হবে।

 

যারা বইপ্রেমী; তারা লেখকের বইগুলো সংগ্রহ করতে পারেন। পড়তে পারেন। লেখককে জানতে পারেন। আর জানতে হলে তাকে পাঠ করতে হবে।

আমি এই লেখকের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি। লেখক হিসেবে-খ্যাতির সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ুক দিক্বিদিক। তিনি একদিন অবশ্যই ‘তারকালেখক’ হিসেবে নিজেজে পরিণত করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। আমার ভালোবাসা ও প্রার্থনায় থাকবে-প্রিয় অসীম হিমেলের নাম।

 

 

শেষ করছি লেখকের এই বইয়ের ব্যাক কভারের একটি লেখা দিয়ে যা আমাকে আপনাকে অর্থাৎ পাঠককে ভাবনার জগতে নিয়ে নতুন কোনো দর্শনের মুখে দাঁড় করাবে।

 

তিনি ব্যাক কভারে লিখেছেন,

“অনেক কিছু জেনেও অনেক কিছু মেনে নিতে হয় পারিপার্শ্বিক, সামাজিক কিংবা প্রশাসনিক অবকাঠামোর কারণে। খেদু মিয়াও সেই পথে এসে দাঁড়ায়। কিন্তু প্রকৃতি একটা নিজস্ব পথরেখা মেপে চলে। যেটার উপর কখনই কারও নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এছাড়া বইয়ের শেষের দিকে তিনি খুব সুন্দরভাবে ফিনিশিং করেছেন। শেষ মুহুর্তে এসে শিমুল ও খেদু মিয়ার এক কাকতালীয় পরিচয় ঘটে। শেষে লিখেছেন, ” নেচার ফরগিভস, বাট নেভার ফরগেটস।”

 

প্রকৃতি নিজ গতিতে নিজের মতো করে ফিরিয়ে দেয় যার যেটা প্রাপ্য, শুধু সময়ের অপেক্ষা।”

সবশেষে লেখকের একটি বিষয় ভালো লেগেছে খুব তিনি তার এই গ্রন্থে তার একজন মুসলিম বন্ধুকে বইটি উৎসর্গ করেছেন। এটা একটা বিশাল মনের পরিচয়। আমাদের সমাজে বন্ধুত্বকে এভাবেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করা উচিত বলে লেখক এখানে বিষয়টি ফুটিয়েছেন; যদিও এ বিষয়টি লেখকের ঐকান্তিক।

 

 

বই পর্যালোচনা: “ধূম্রজালে খেদু মিয়া”

সমকালীন বাংলা সাহিত্যে রহস্য, বিজ্ঞান ও অতিপ্রাকৃতের সংমিশ্রণে যে ধরনের গল্প পাঠককে একই সঙ্গে ভাবায় ও শিহরিত করে, ‘ধূম্রজালে খেদু মিয়া’ সেই ধারারই এক অনন্য সংযোজন। “অন্যপ্রকাশ” থেকে প্রকাশিত লেখকের ষষ্ঠ উপন্যাসটি ইতোমধ্যে পাঠকমহলে আলোড়ন তুলেছে—এটা কেবল প্রচারণা নয়, বরং গল্পের গভীরতা ও বৈচিত্র্যেরই প্রতিফলন।

উপন্যাসের কেন্দ্রে থাকা খেদু মিয়া—পেশায় ফরেনসিক মেডিসিনের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর। কিন্তু তার জীবন শুধু বিজ্ঞানভিত্তিক নয়; পূর্বপুরুষের পাপের অদৃশ্য ছায়া তাকে টেনে নিয়ে যায় এক রহস্যময়, প্রায় অতিপ্রাকৃত জগতে। যুক্তি ও বিজ্ঞানের মানুষ হয়েও তাকে লড়তে হয় এমন কিছু ঘটনার সঙ্গে, যেগুলো ব্যাখ্যার সীমা অতিক্রম করে যায়।

গল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ডা. মিতু—যার ক্যারিয়ারের শুরুতেই এক অশুভ ছায়া তার স্বপ্ন ভেঙে দেয়। মানসিক রোগ ‘ডুয়েল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার’-এ আক্রান্ত হয়ে তার জীবন হয়ে ওঠে জটিল ও অস্থির। অন্যদিকে, সার্জারি-পরবর্তী রহস্যজনক মৃত্যুগুলো ঘিরে প্রশ্নের মুখে পড়েন প্রফেসর শামস ইবনে মোহাম্মদ ডা. আলম। এই ঘটনাগুলোর সূত্র ধরে গল্প এগোয় এক ভয়ঙ্কর সত্যের দিকে, যেখানে মানব মনের বিকৃত অন্ধকার দিকও উন্মোচিত হয়।

লেখক দক্ষতার সঙ্গে বিজ্ঞান, মনস্তত্ত্ব, আবেগ এবং প্যারানরমাল উপাদানকে এক সুতোয় গেঁথেছেন। বিশেষ করে খেদু মিয়ার অনুসন্ধান—যেখানে যুক্তির পাশাপাশি অজানার প্রতি এক অদ্ভুত টান কাজ করে—পাঠককে ধরে রাখে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।

সব মিলিয়ে, ‘ধূম্রজালে খেদু মিয়া’ শুধুমাত্র একটি রহস্য উপন্যাস নয়; এটি মানব মনের অন্ধকার, বিজ্ঞান ও বিশ্বাসের সংঘাত, এবং অদৃশ্য শক্তির উপস্থিতি নিয়ে এক বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা। যারা ভিন্নধর্মী, চিন্তাজাগানিয়া এবং থ্রিলিং গল্প পছন্দ করেন, তাদের জন্য বইটি নিঃসন্দেহে এক আকর্ষণীয় পাঠ।

 

 

হোসাইন মোহাম্মদ দিদার 

সাহিত্য সমালোচক




শেয়ার করুন


পাঠকের মতামত

মেঘনা নিউজ-এ যোগ দিন

Meghna Roktoseba




এক ক্লিকে জেনে নিন বিভাগীয় খবর



© মেঘনা নিউজ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by ShasTech-IT